মতামত – BANGLANEWSNETWORK.COM http://banglanewsnetwork.net বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডট কম Fri, 08 May 2020 10:21:09 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=5.3.3 রেভিভিফাই প্রো-ভাইটালিটি এন্টি অক্সিডেন্টস জেল করোনা নিরাময়ে ও প্রতিরোধে কাজ করছে-ফার্মাসিস্ট লিয়াকত হোসেনের দাবি http://banglanewsnetwork.net/2020/05/08/76193/ http://banglanewsnetwork.net/2020/05/08/76193/#respond Fri, 08 May 2020 10:18:13 +0000 http://banglanewsnetwork.net/?p=76193 বাংলানিউজ ডেক্স :  বিশিষ্ট ফার্মাসিস্ট লিয়াকত হোসেন দাবি করেছেন তার অ্যাডভান্স ফার্মাসিটিক্যাল ইন কর্পোরেশন থেকে গত বছর তৈরিকৃত ‘রেভিভিফাই প্রো-ভাইটালিটি এন্টি অক্সিডেন্টস জেল’ (REVIVIFY PRO-VITALITY ANTIOXIDANTS GEL) এই সময়ের সবচেয়ে... বিস্তারিত »

The post রেভিভিফাই প্রো-ভাইটালিটি এন্টি অক্সিডেন্টস জেল করোনা নিরাময়ে ও প্রতিরোধে কাজ করছে-ফার্মাসিস্ট লিয়াকত হোসেনের দাবি appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
বাংলানিউজ ডেক্স :  বিশিষ্ট ফার্মাসিস্ট লিয়াকত হোসেন দাবি করেছেন তার অ্যাডভান্স ফার্মাসিটিক্যাল ইন কর্পোরেশন থেকে গত বছর তৈরিকৃত ‘রেভিভিফাই প্রো-ভাইটালিটি এন্টি অক্সিডেন্টস জেল’ (REVIVIFY PRO-VITALITY ANTIOXIDANTS GEL) এই সময়ের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের রোগ নিরাময়ে বিশেষভাবে কাজে লাগছে। পাশাপাশি যাদের এই রোগ এখনও হয়নি তারা খেলেও তাদের শরীরে এমন রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা তৈরি হবে, যাতে করে ওই জেল গ্রহণকারী ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন না। ইতোমধ্যে আমেরিকায় তার ও তার অফিসের স্টাফদের পরিচিতিদের মধ্যে করোনাভইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এই ওষুধটি গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এরমধ্যে এনওয়াইপিডির সদস্যও রয়েছেন। তিনি আরো জানান, এই ওষুধটি তারা আমেরিকার বিভিন্ন স্টেটে পরিচিত জনকে দেয়া ছাড়াও চীন, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছেন। ইতোমধ্যে চীনে ৭০ হাজার বক্স ওষুধ প্রেরণ করেছেন। ইংল্যান্ডেও পাঠিয়েছেন। ৬ মে চীনের উদ্দেশ্যে আরো ১০ হাজার বক্স সরকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে গ্রীন চ্যানেলে পাঠানো হয়েছে।

ফার্মাসিস্ট লিয়াকত হোসেনের বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মাসি বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করে তিনি ১৯৭৭ সালে আমেরিকাতে আসেন। এখানে আসার পর ভর্তি হন সেন্ট জনস ইউনিভার্সিটির ফার্মাসিটিক্যাল বিভাগে। সেখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফার্মাসিটিক্যাল বিষয়ে লেখাপড়া সম্পন্ন করে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। তার স্ত্রী তাসরীন হোসেনও সেন্ট জনস ইউনিভার্সিটি থেকে ফার্মাসি বিভাগ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেন। এরপর তারা চিন্তা করেন নিজেরাই একটি ফার্মাসিক্যাল কোম্পানি করবেন। সেই হিসাবে তারা ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নিউইয়র্কে ‘অ্যাডভান্স ফার্মাসিটিক্যাল আইএনসি’। তাদের আরো একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে ‘অ্যাডভান্স নেচার হেলথ এলএলসি’। দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন।
লিয়াকত হোসেন তার কোম্পানির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী তাসরীন হোসেন প্রেসিডেন্ট। তারা বাস করেন লংআইল্যান্ডে। তাদের কোম্পানিতে ৭০ জন স্টাফ কাজ করেন। কোম্পানির শুরু থেকে এই পর্যন্ত তারা প্রায় ৭৫টি ওষুধ তৈরি করেছেন। এই সব ওষুধ ওভার দ্য কাউন্টার বিক্রি হয় এবং ক্রয় করার জন্য চিকিৎসকের কোন প্রেসক্রিপশনের প্রয়োজন হয় না। লিয়াকত হোসেন ১২ বছর যাবত পারকিনসন রোগে আক্রান্ত। তারপরও তিনি একদিনের জন্য মনোবল হারাননি। অদ্যম ইচ্ছাশক্তি ও মনোবল নিয়ে এখনও কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বারো বছর আগে যখন পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হন তখন তিনি এটাকে রোগ হয়েছে বলেই ধরে নেন। তবে তিন বছর আগে তিনি মনে করেন মানুষের শরীরের সেলগুলো নিয়ে লেখাপড়া করবেন। সেই চিন্তা থেকে নিয়ে পড়ালেখা শুরু করেন ও গবেষণা করেন মানুষের শরীরের সেলগুলো কেন মরে যায়, কেন কাজ করে না বা কেন দূর্বল হয়ে যায়? আরো কাজ করেন কিভাবে মানুষের শরীরের এই সেলগুলোকে সচল করা যায়। শরীরে এনার্জি তৈরি করা যায় শরীরের এনার্জি, স্টেনথ বাড়ানো যায়। ওয়েলবিং থাকা যায়। তিনি গবেষণা করতে করতে ও পড়তে পড়তে আবিস্কার করেন এমন একটি ওষুধের ফর্মুলা যেটি মানুষের শরীরে প্রায় সব ধরণের ভাইরাস প্রতিরোধ করবে। কোন ভাইরাস মানুষকে আক্রান্ত করতে পারবে না ও শরীরে এনার্জি তৈরি করবে। সেই সঙ্গে মানুষ ভাল থাকবে। সেই অনুযায়ী তিনি তার ফার্মাসিক্যালসে তৈরি করেন ‘রেভিভিফাই প্রো-ভাইটালিটি এন্টি অক্সিডেন্টস জেল’। গত বছর এপ্রিল মাসে এটি তার কোম্পানি প্রস্তুত করে বাজারে আনে। এটি অনলাইনে বিক্রি হয় আর বিভিন্ন ফার্মাসিতে পাওয়া যায়। তবে তারা রিটেইলার না হওয়ার কারণে ওইভাবে সরাসরি বিক্রিতে যাননি।

জনাব লিয়াকত হোসেন বলেন, আমরা ওষুধটি বাজারে আনার পর সেটি চীনে রপ্তানি করি। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর আমার এক চাইনিজ বন্ধু আছে, সে আমাকে বলে তার দেশের জন্য ওষুধটি নিবে। আমি গত বছর থেকেই চীনে এই ওষুধটি পাঠানো শুরু করি। এই পর্যন্ত প্রায় ৭৫ হাজার প্যাকেট ওষুধ চীনে পাঠিয়েছি। চীনে এই ওষুধটি মানুষ গত বছর থেকে খাওয়া শুরু করে। চীনে যখন মহামারি করোনাভাইরাস হয় তখন আমার বন্ধু আমাকে জানালো যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অনেককেই এই ওষুধটি খাওয়ানো হয়েছে। এটা খাওয়ানোর পর তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, আবার এমনও হয়েছে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা হাসাপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আমাদের এই ওষুধটি সেখানে ভাল কাজ করেছে। আমার ওই বন্ধু আরো জানায় তারা সেখানে ২০০০ রোগীর উপর স্ট্যাডি করেছে। এছাড়াও ৪/৫টি হাসপাতালে এটি রোগীদের উপরও স্ট্যাডি করা হয়েছে। সেটা করার পর তারা সফল হয়েছে। এই সফলতা আসার পর ওই বন্ধু আমাকে জানিয়েছে ‘রেভিভিফাই প্রো-ভাইটালিটি এন্টি অক্সিডেন্টস জেল’সেখানে তারা ৫০০ জন রোগীর উপর স্ট্যাডি করেছে, যাদের করোনার প্রাথমিক দিকে ছিল। তারা ওষুধটি গ্রহণ করার পর করোনা থেকে রিকভারি করেছে। তবে যাদের একুট বেশি হয়েছিল তাদের হাসপাতালে যেতে হয়েছে , তবে তারা একটু সময় নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
জনাব লিয়াকত বলেন, আমি নিজে বারো বছর ধরে পারকিনসন রোগে ভুগছি। আমি প্রতিদিন একটি করে এই ওষুধটি খাই। এই ওষুধ খাওয়ার পর আমি ভাল থাকি। স্টেমিনা পাই। কাজ করতে কোন সমস্যা হয় না। তিনি জানান, এই ওষুধের বিস্তারিত জানা যাবে www.revivifyforlife.com এ।
তিনি বলেন, আমি চীন থেকে এখনও অফিসিয়াল রিপোর্ট হাতে পাইনি। তবে শিগগিরই পাবো। তবে আমার বন্ধু এই ওষুধের সফলতা সম্পর্কে জানিয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানি কভিড-১৯ এর সময়ও খোলা আছে। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার কোন প্রয়োজন পড়েনি। আমাদের ওখানে ৭০ জন স্টাফ কাজ করেন। তাদের মধ্যে ৬৫ জন ‘রেভিভিফাই প্রো-ভাইটালিটি এন্টি অক্সিডেন্টস জেল’ওষুধটি গ্রহণ করেন। যে ৬৫ জন এই ওষুধটি খেয়েছেন তারা কেউ আক্রান্ত হননি করোনায়। কিন্তু পাঁচজন এই ওষুধটি গ্রহণ করেননি। দেখা গেছে ওই পাঁচজনই করোনা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও এখন তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, আমার অফিসের বাইরেও আমাদের ওষুধ কোয়ারেইনটাইনে থাকা রোগীদের করোনাভাইরাস থেকে নিজেদের রক্ষা করেছে। আসলে এই ওষুধটি গ্রহণ করার ফলে শরীরের এমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় যার কারণে শরীর যে কোন ধরণের ভাইরাস আসুক না কেন বা আক্রান্ত করার চেষ্টা করুক না কেন এটা সফল করতে পারে না।
জনাব লিয়াকত হোসেন দাবি করেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের অনেকেরই পরিবারের সদস্য, তার আত্মীয় স্বজন ও পরিবারের লোকজন আক্রান্ত হয়েছেন। তারা তাদের ওই সব পরিচিতজন ও আত্মীয় স্বজনের জন্য ওষুধটি নিয়েছেন। তারা গ্রহণ করেছেন ও সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
তিনি আরো বলেন, আমি যখন এই ওষুধটি তৈরি করি তখন কিন্তু এটাকে করোনাভাইরাসের কথা চিন্তা করে কিংবা এটাকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়নি। এটা করা হয়েছিল মূলত এনার্জি, সেনথ ও ওয়েলবিং থাকার জন্য। সেই হিসাবে একটি কাজে লেগেছে। এখন করোনায় এটি কাজ করছে।
এই ওষুধটি এতটাই কার্যকর হলে এটা আমেরিকাতে এখনও কেন সেইভাবে প্রচার প্রচারণা পায়নি ও মানুষ জানতে পারেনি এই প্রশ্নের জবাবে জনাব লিয়াকত বলেন, আমি সব সময় কাজ করে গেছি। আমি কখনো জনপ্রিয়তার পেছনে ছুটিনি। নিরবেই সব সময় কাজ করে যাচ্ছি। আমি ওষুধটি তৈরি করার পর এটা আমাদের অন্যান্য প্রোডাক্টের মতো করে অনলাইনে বাজারজাত করেছি। আমাদের এই ওষুধটি কেনার জন্য অনলাইনে সাইট রয়েছে। সেখানে গিয়ে যে কেউ ক্রেডিট কার্ডে পে করে কিনতে পারবেন। এক এক বক্সে থাকে ৩০টি করে ওষুধ। এর মূল্য ৯৫-১০০ ডলার। এটা যারা খাবেন তারা নিজেরাই বুঝতে পারবেন এটা খেলে মানুষের শীরিরে ইমিউন সিস্টেম এত ভাল হয় মানুষকে দূর্বল করতে পারে না। ফলে অনেক রোগ হয় না। ডায়বেটিস, পারকিনসন, হার্টের সমস্যা, এসওডিসহ বিভিন্ন রোগেও এটা কাজ করে।
তিনি বলেন, করোনা রোগে আক্রান্ত প্রাথমিক পর্যায়ে কেউ এই ওষুধটি নিলে তিনি দুইদিন ভাল হয়ে যাবেন। আশা করা যায়। তবে ভাল হলেও তিনি ১৪দিন কোয়ারেইনটাইনে থাকবেন। কিন্তু তাকে হাসপাতালে যেতে হবে না। যার অবস্থা খারাপ হবে তিনি হাসাপতালে গেলেও এই ওষুধটি কাজ করে। তবে যারা ভেন্টিলেশনে চলে যান তাদের শরীরে আসলে তখন কোন ওষুধই তেমনভাবে কাজ করে না।
তিনি বলেন, আমার ফিলাডেলফিয়ার বন্ধু প্রফেসর ও ইউরোলজিস্ট ডাঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ সাদেক এই ওষুধটি যাতে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় সেই ব্যাপারে কাজ করছেন। তিনি যেভাবে কাজ করছেন আশা করা যায় তিনি সফল হবেন।
তিনি বলেন, আমেরিকাতে এই ওষুধটি তিনি কতখানি করোনার জন্য পৌঁছাতে পারবেন ও করোনা রোগীর জন্য চিকিৎসকরা হাসাপাতালে ব্যবহার করার জন্য প্রেসক্রাইব করবেন সেটা বলা যাচ্ছে না। কারণ আমেরিকাতে কোন ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে হলে এই জন্য অবশ্যই ওই ওষুধের উপর স্ট্যাডি থাকতে হবে। স্ট্যাডি ছাড়া তারা এটি করে না। কিন্তু বতর্মান পরিস্থিতিতে সেটা নিয়ে স্ট্যাডি করা হবে কিনা এটা বলতে পারছি না। তবে করোনার হওয়ার পর আমরা এই ওষুধের একটি স্যাম্পল আমাদের নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্র্রু কুমোর ঠিকানাতে মেইলযোগে পাঠিয়েছি গত ৪ এপ্রিল । তিনি সেটা পেয়েছেন। তাবে এই ব্যাপারে এখনও কোন রেন্সপন্স করেননি। এটা ঠিক এই দেশে কেউ কোন কিছুর স্যাম্পল পাঠালেই সেটা গ্রহণ করা হবে বা ব্যবহার করা হবে বিষয়টি এমন নয়। এখানে স্ট্যাডিটা বড় দরকার। সেই হিসাবে আমরা অপেক্ষা করছি যদি তিনি কোন উদ্যোগ নেন। তারা যদি মনে করেন এটা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবেন, সেটা দেখতে পারেন।
সিডিসি ও এফডিএ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কিনা এমন একে প্রশ্নের জবাবে জনাব লিয়াকত বলেন, এখনও সেই ধরণের কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আসলে আমাদের এই ধরণের কোন পরিকল্পনা ছিল না। আমরা আমাদের অন্যান্য প্রোডাক্টের মতো একটি প্রোডাক্ট হিসাবে তৈরি কেরছি। ওভার দ্য কাউন্টার এটা বিক্রি হয়। এটা যে করোনা রোগীদের জন্য ব্যবহারে সাফল্য আসবে সেটা এখন প্রমানিত হচ্ছে। তবে এই ব্যাপারে কি করা যায় সেটা আমার বন্ধু ডাঃ সাদেক চিন্তা ভাবনা করছেন। তিনি এই দেশে এখনই কিছু করতে না পারলেও বাংলাদেশে কিছু করতে পারবেন বলে আশাবাদী। বাংলাদেশে আমরা এই ওষুধটি দিতে পারি। যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রাথমিক পর্যায়ে আছেন তাদের কাজে লাগবে।
আপনি বাংলাদেশ সরকারের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা করিনি। কারণ বাংলাদেশে আমরা এই ওষুধ পাঠাতে চাইলে এটা তারা ড্রাগের পর্যায়ে ফেলবে। এই দেশে মাল্টি ভিটামিন যেমন বাজারে অ্যাভেলেবল। বাংলাদেশে এই রকম না। সেখানে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে ড্রাগ এ্যাডমিন্টিস্ট্রেশন। সেই হিসাবে আমরা এটা দিতে গেলে ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনের মাধ্যমে যেতে হবে। সেটা গেলে আপনারাতো জানেন কত আমলাতান্ত্রিক জাটিলতা আছে। বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কেউ কিংবা কোন মন্ত্রী বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিংবা কেউ এই ব্যাপারে আগ্রহী হলে এটা দেশে পাঠানো সম্ভব হতে পারে। বাংলাদেশ এই ওষুধ নিতে চাইলে আমরা সরবরাহ করতে পারবো। তিনি বলেন, এই ওষুধটি খেলে কোন ক্ষতি হবে না, বরং উপকার হবে। তাই যে কেউ এটা খেতে পারবেন। আমি প্রতিদিন একটা করে খাই। আমার স্ত্রী সপ্তাহে দুটি খান। এটা আসলে নির্ভর করে কার শরীরে কত খানি স্টেমেনা দরকার এর উপর।

তিনি বলেন, আমাদের বাংলাদেশে অনেকের শ্বেত রোগ হয়। সেই রোগের কোন ওষুধ নেই। কিন্তু এই দেশের এমন মানুষ আছেন যারা এই ওষুধ খেয়ে শ্বেত রোগেও সুফল পেয়েছেন। তিনি আবার আমাদের ওয়েব সাইটে কমেন্টও করেছেন।
অ্যাডভান্সের বিজনেস ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার ও অ্যাকাউন্টিং ম্যানেজার সৈয়দ আশরাফ হোসেন বলেন, আসলে আমি এই কোম্পানিতে আছি অনেক বছর। ১৯৮৭ সালে এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা হয়। আমরা ৭০ জন কাজ করি। এরমধ্যে ৬৫ জন ‘রেভিভিফাই প্রো-ভাইটালিটি এন্টি অক্সিডেন্টস জেল’ খেয়েছি। আমরা কেউ করোনায় আক্রান্ত হইনি। আমাদের কোম্পানির পাঁচজন খাননি। দেখা গেছে ওই পাঁচজনই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এটা একটি সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত ও নিজস্ব ঘরেই এটা হয়েছে।
আমাদের ফ্যাক্টরির একজন ম্যানেজারের মেয়ে করোনায় আক্রান্ত হন। তিনি তার মেয়ের জন্য নেন। তিনি ওষুধ খাওয়ার পর ভাল হয়ে গেছেন। আমাদের অফিসের যারা ও তাদের পরিবারের যারাই এই ওষুধ খেয়েছেন তাদের কারো করোনা ভাইরাস হয়নি। এটা একটি সুসংবাদ আমাদের জন্য। যেজন্য আমরা অফিস চালু রাখতে পেরেছি। স্বাভাবিক কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, এই রকম উদাহরণ আরও আছে। ব্রঙ্কসে থাকেন এনওয়াইপডির একজন সদস্য। সে আমার বন্ধু। তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। আমাকে জানানোর পর আমি তার জন্য ওষুধ পাঠাই। তিনি ওই ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে উঠেন। তিনি একাই খাননি। তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও খাইয়েছেন। তারা সবাই সুস্থ আছেন। তিনি বলেন, এই ওষুধের সাফল্য আশাব্যঞ্জক।
তিনি বলেন, আমার আম্মা ২০১৯ সালে আমেরিকাতে আসেন। এখানে আসার পর তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার প্রাথমিক চিকিৎসক বলেছিলেন তার কানের নিচের সেল গুলো কাজ করছে না। এই জন্য কার্ডিওভাস্কেলার ডাক্তার দেখাতে হবে। কিন্তু আমি ওই ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সহজে পাচ্ছিলাম না। প্রায় দুই মাস লেগে গিয়েছিল এই সময়ের মধ্যে আমি আমার আম্মাকে ‘রেভিভিফাই প্রো-ভাইটালিটি এন্টি অক্সিডেন্টস জেল’ ওষুধটি খাওয়াচ্ছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমার আম্মা ভাল বোধ করছিলেন। পরে যখন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের আপয়েন্টমেন্ট পেলাম ও তাকে নিয়ে গেলাম তখন ডাক্তার বললেন, আম্মার সেলগুলোতে ব্লক নেই। বিষয়টি আমার স্যার (লিয়াকত হোসেন)কে জানালাম তিনি বললেন, ‘রেভিভিফাই প্রো-ভাইটালিটি এন্টি অক্সিডেন্টস জেল’ গ্রহণের ফলে তার সেলগুলোতে যে ব্লক ছিল তা খুলে গেছে। আসলে এটাও একটি উদাহরণ।

জনাব সৈয়দ আশরাফ বলেন, ১৯৮৭ সাল থেকে আমাদের কোম্পানি চালু হওয়ার পর এই পর্যন্ত ৭৫টি প্রোডাক্ট তৈরি হয়েছে। সব প্রোডাক্টের মাধ্যমেই অনেকেই সুফল পেয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় পাঁচ বছর আগে থেকে স্পেশালাইড ওষুধগুলো তৈরি করা শুরু হয়। এগুলোর সাফল্য বেশ ভাল। তিনি বলেন, আমাদের এই রকম আরো অনেক সাফল্য আছে।
ফার্মাসিস্ট লিয়াকত হোসেন বলেন, আমরা সব সময় ফার্মাসিটিক্যালসেই ছিলাম। রিটেইলে আমরা কখনো যাইনি। তিনি বলেন, আমি একটি ফার্মাসিটিক্যাল করার স্বপ্ন দেখতাম। আমার স্ত্রীও দেখতেন। দুইজনের স্বপ্নই আমরা পূরণ করতে পেরেছি। আসলে আমরা কাজই করেছি। কখনো ওইভাবে প্রচারণা চাইনি। জনপ্রিয়তার প্রতি কোনদিন নেশা ছিল না। ভেবেছি মানুষের উপকারে আসে এমন সব ওষুধ তৈরি করতে। সেটা করতে পেরেছি। কিন্তু এখন কভিড-১৯ এমন একটা পর্যায়ে চলে আসছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের প্রাণ চলে যাচ্ছে। তাই আর চুপ করে বসে থাকতে পারছি না। যেহেতু আমাদের ওষুধের সাফল্য আছে। তাই মনে করি এই ওষুধটি সম্পর্কে সবার জানা দরকার। তারা জানলে ও গ্রহণ করলে সুবিধা পাবেন। যেহেতু এট প্রমাণ হয়েছে যে, এটাই খেলে করোনা থেকে দুই দিনে মুক্তি পাওয়া যায়। তাহলে কেন এটা আমাদের কম্যুনিটির মানুষ জানবে না ও সুফল পাবে না। এই ওষুধ যদি মানুষের প্রাণ বাচাঁতে পারে তাহলেই আমাদের স্বার্থকতা আসবে। এই কারণে আমরা মনে করছি এটা সবার জানা দরকার ও এই ওষুধটি এই দেশে স্ট্যাডি করার পর যদি ব্যবহার শুরু হয় ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য দিতে পারি তাহলে ভাল হবে। যারা এখনও আক্রান্ত হননি তারা খেলে তাদের করোনা হবে না। এটা কত বড় সুখবর। আর যারা প্রাথমকিভাবে আক্রান্ত তারা সুস্থ হবেন দুইদিনের মধ্যেই। গুরুতরাও সুস্থ হবেন একটু সময় লাগবে। যেখানে পুরো দুনিয়ার মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত। এটা মানুষকে আতঙ্ক থেকেও মুক্তি দিবে। শরীরে স্টেমিনা তৈরি করবে। আর যাদের ডায়বেটিস, ক্যানসার, হার্টের সমস্যা, পারকিনসনসহ বিভিন্ন রোগ রয়েছে তারা গেলেও তাদের সেলগুলো সচল হবে।
সবশেষ বলে রাখি সম্প্রতি টেম্পা পুলিশ ডিপাটমেন্টের কাছে ‘রেভিভিফাই প্রো-ভাইটালিটি এন্টি অক্সিডেন্টস জেল’ ওষুধ ৫০ হাজার পাঠানো হয়েছে। তারাও সুফল পাচ্ছেন।
আমাদের তৈরিকৃত রেভিভিফাই প্রো-ভিটালিটি এন্টি অক্সিডেন্ট ফ্রুট ব্লেন্ড জেল ও রেভিভিফাই প্রো-এনার্জি পাউডার স্টিক মানুষ খেয়ে উপকার পাচ্ছে, কাজে লাগছে এটাই সবার জন্য সুখবর। আমাদের কম্যুনিটির যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তারা প্রয়োজন মনে করলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ওষুধগুলো আমাদের কাছে মজুদ আছে। যে কেউ অনলাইনে অর্ডার দিয়ে ২-৩ দিনের মধ্যে হাতে পেতে পারেন।-সূত্র-ঠিকানা

The post রেভিভিফাই প্রো-ভাইটালিটি এন্টি অক্সিডেন্টস জেল করোনা নিরাময়ে ও প্রতিরোধে কাজ করছে-ফার্মাসিস্ট লিয়াকত হোসেনের দাবি appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
http://banglanewsnetwork.net/2020/05/08/76193/feed/ 0
তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ http://banglanewsnetwork.net/2020/04/07/76182/ http://banglanewsnetwork.net/2020/04/07/76182/#respond Tue, 07 Apr 2020 07:45:55 +0000 http://banglanewsnetwork.net/?p=76182 জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে নিয়ে কটুক্তি কারি এই সেই কুলাঙ্গার মোহাম্মদ রিপন পাকিস্তানের দালালের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এনে দ্রুত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। প্রসঙ্গ : হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ... বিস্তারিত »

The post তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে নিয়ে কটুক্তি কারি এই সেই কুলাঙ্গার মোহাম্মদ রিপন পাকিস্তানের দালালের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এনে দ্রুত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গ : হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মাননীয় মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমেদ এমপির দেওয়া অনুদান গ্রীস দূতাবাসের মাধ্যমে গ্রীস প্রবাসী বাংলাদেশীদের যাদের কাগজ নেই কর্মহীন গ্রীসএ নতুন এসেছেন তাদের কথা চিন্তা করে করোনা ভাইরাস এর মহামারী এই পরিস্থিতিতে সরকারি অনুদান এসেছে। যাদের সমস্যা আছে তাদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়ার জন্য সেই উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাস এথেন্সের একটি লাইক পেজের মাধ্যমে নোটিশ দেওয়া হয়েছে যারা কর্মহীন কাজ নেই গ্রীস সরকার কর্তৃক সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন না নতুন এসেছেন কাগজ নেই তাদের অনুদান নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস জরুরী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছিলেন এই পেইজে ওই কুলাঙ্গার মোঃ রিপন গ্রিস প্রবাসী কমেন্ট বক্সে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে কটুক্তি কওে প্রশ্ন তুলেছেন তার কমেন্টের সাথে সাথে যারা বাহ্ বাহ্ জানিয়েছেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের শক্তির সপক্ষের পক্ষ থেকে এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গ্রীস শাখার পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি সেই সাথে তথ্যপ্রযুক্তির আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার জন্য মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব জসিম উদ্দিন স্যারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বাংলার সফল প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি, দৃষ্টি আকর্ষণ করছি মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের প্রতি আমি গ্রীস আওয়ামীলীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগের সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি এই সেই কুলাঙ্গার মোহাম্মদ রিপনকে যেকোনো জায়গায় পেলে পাই টু পাই জবাব দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

মোঃমুমিন খাঁন
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গ্রীস শাখা।

The post তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
http://banglanewsnetwork.net/2020/04/07/76182/feed/ 0
করোনা ভাইরাস বনাম প্রবাসী http://banglanewsnetwork.net/2020/03/29/76107/ http://banglanewsnetwork.net/2020/03/29/76107/#respond Sun, 29 Mar 2020 14:36:27 +0000 http://banglanewsnetwork.net/?p=76107 বর্তমান সময়ে বিশ্বে আতঙ্কের এক নাম হচ্ছে করোনা ভাইরাস। সর্ব প্রথম মহাশক্তিধর দেশ চীনে এই ভাইরাস ধরা পড়লেও এখন হানা দিচ্ছে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই। বিশ্বের পরাশক্তির দেশগুলি মরণপণ লড়াই... বিস্তারিত »

The post করোনা ভাইরাস বনাম প্রবাসী appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
বর্তমান সময়ে বিশ্বে আতঙ্কের এক নাম হচ্ছে করোনা ভাইরাস। সর্ব প্রথম মহাশক্তিধর দেশ চীনে এই ভাইরাস ধরা পড়লেও এখন হানা দিচ্ছে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই। বিশ্বের পরাশক্তির দেশগুলি মরণপণ লড়াই করেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের প্রতিকার বা প্রতিষেধক আবিস্কার করতে পারেনি। উপায়ন্তর না দেখে অনেকেই শেষ ভরসা করছেন আসমান ও জমিন ওয়ালার উপর । পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ন্যায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেও আজ করোনা আঘাত এনেছে। সরকারি হিসেবে আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম হলেও পুরো জাতিই আজ আতঙ্কিত। সরকার ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধকল্পে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। জনস্বার্থে দেয়া সরকারের সকল সিদ্ধান্ত আমাদের মেনে নিয়ে তা পালন করা একান্ত জরুরী।

করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে হানা দেয়ার জন্য অনেকেই আমাদের প্রবাসী ভাই বন্ধুদের কে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে পোস্ট করছেন। গালি দিচ্ছেন, তিরস্কার করছেন যা কোনভাবেই কাম্য নয় । প্রবাসীরা সব সময় দেশের ক্রান্তিলগ্নে মানুষের পাশে দাঁড়ান। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে যত দুর্যোগ, মহামারী সহ সকল সংকটে এই প্রবাসীরা তাদের মাথার ঘাম পায়ে পেলে উপার্জিত অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের সাহায্য করেছেন। সবসময় মনপ্রান খুলে সর্বদা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া করেন। নিজেরা মোমবাতির মতো পুড়েও দেশের অর্থনীতিতে ভুমিকা রাখছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে।

দুই একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ভুল সিদ্ধান্তের দায়ভার সকল প্রবাসীর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে গনহারে প্রবাসীদের গালমন্দ করা কোনভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। সু পরিকল্পিত ভাবে দেশে এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার মানুষিকতা নিয়ে কোন প্রবাসী ভাই দেশে আসেনি । তারা অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে থাকেন দেশে আসার। হঠাৎ করে প্রবাসীরা দলে দলে দেশে ফিরছে তা কিন্তু নয় । তারা নিয়মিত ভাবে দেশে ফিরেছেন । তবে কিছু প্রবাসীরা কোয়ারেন্টাইন মেনে চলেন নি এটা অস্বীকার করার উপায় নেই । আমাদের সকলেই সচেতন হওয়া দরকার আছে । আমাদের দেশে তো নিয়ম না মানার একটা প্রবণতা আছে । আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি, অনেক দায়িত্বশীলরাই কোয়ারেন্টাইন মেনে চলেন নি । যারা প্রবাসীদের সমালোচনায় ব্যস্ত তাদের প্রতি অনুরোধ অহেতুক প্রবাসীদের মনে কষ্ট না দিয়ে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোদে নিজের অবস্হান থেকে ভুমিকা রাখুন। সরকারী নিদেশনা মেনে চলুন । নিজে নিজের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন ও ঘরে অবস্থান করুন । নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকুন । মহান আল্লাহর কাছে এ ভাইরাস থেকে মুক্তর জন্য আশ্রয় চাই। মহান আল্লাহর আমাদের সকলে হেফাজত করুন ।

লেখক: এম. আতিকুর রহমান আখই, বার্তা প্রধান- কেবিসি নিউজ

The post করোনা ভাইরাস বনাম প্রবাসী appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
http://banglanewsnetwork.net/2020/03/29/76107/feed/ 0
ধন্যবাদ মান্যবররা তবুও আমাদের গোলামি ঠিক থাকবে!    http://banglanewsnetwork.net/2020/03/16/75923/ Mon, 16 Mar 2020 12:35:22 +0000 http://banglanewsnetwork.net/?p=75923 মু. ইমাদ উদ দীন : গেল ক’দিন থেকে রাজপথে নেমেছেন আড়ুয়া (বোকা) সমাজ (সংবাদকর্মীরা)। যারা ক’দিন পর পর এমন করে চিল্লায় ও চেচামেচি করে। তারপর ওরা কবরে ডুকে যায়। কারন... বিস্তারিত »

The post ধন্যবাদ মান্যবররা তবুও আমাদের গোলামি ঠিক থাকবে!    appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
মু. ইমাদ উদ দীন : গেল ক’দিন থেকে রাজপথে নেমেছেন আড়ুয়া (বোকা) সমাজ (সংবাদকর্মীরা)। যারা ক’দিন পর পর এমন করে চিল্লায় ও চেচামেচি করে। তারপর ওরা কবরে ডুকে যায়। কারন তাঁদের ওই আর্তনাদ রাষ্ট্রের বড় কর্তাদের কর্ণকুহরে পৌঁছায় না। আর পৌঁছালেও তা তাঁরা আমলে নেন না। কেননা তাঁদের দৃষ্টিতে ওই পেশার কর্মীরাই দেশের অন্যতম বোকারাম সম্প্রদায়। যারা আজ পর্যন্ত ঐক্যমতের ভিত্তিতে তাদের কোন দাবিই বাস্তবায়ন করতে পারলনা। অন্য পেশার দাবি আদায়ে অনড় থাকলে নিজেদের বেলায় ভিন্ন রুপ। চরম উদাসীন। নিজেদের ব্যাপারে মনের দৈন্যতা থাকায় রাষ্ট্র পক্ষের তাচ্ছিল্য আর অবহেলায়ই যাদের নিত্য নিয়তি। নি:স্বার্থে রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য খেয়ে না খেয়ে কাজ করতে করতে যখন তারা ক্লান্ত হয়। ঠিক তখনই যেন তাদের উপর শাস্তির খড়গ নামতেই হয়। এটাই যেন ওদের নির্ধারিত ভাগ্য। আর কাজের যথাযোগ্য পারিশ্রমিক। শোনেছি ও জেনেছি মিডিয়াকে বলা হয় রাষ্ট্রের চর্তুথ স্তম্ভ বা রাষ্ট্রের অতন্দ্র প্রহরী মানে খোলা চোখ। ফুলিয়ে ফাপিয়ে মর্যাদা দিয়ে বলা হয় এই পেশা মহান ও পবিত্র। কিন্তু যুগ যুগ থেকে এপেশার কর্মীদের ভাগ্য বিড়ম্বনার চিরায়ত দৃশ্য দেখে এমনটি মোটেই মনেই হয়না। প্রকৃত দেশপ্রেমিক মানবতাবাদী এই পেশার কর্মীদের অত্যন্ত সুকৌশলে ও পরিকল্পিত ভাবেই হাতে মারা হচ্ছে। আর ভাতেও মারা হচ্ছে। এ ব্যথা এ কষ্ঠের বোবা কান্নায় নি:শব্দে দু চোখের অশ্রু জল নিজের শরীর ভেজাচ্ছে। কিন্তু মন গলাতে কিংবা বিন্দু মাত্র টলাতে পারেনি যাদের জন্য এপেশার কর্মীদের দিন রাত ছুটে চলা। যোগ্যতা, মেধা,মনন,দেশপ্রেম,মানবতা,নিষ্ঠা,সততা ও প্রকৃত দেশপ্রেমিক হয়ে যারা জেলা,উপজেলা থেকে উচ্চ পর্যায়ে পেশাধারীত্ব নিয়ে কাজ করছেন। তাদের জীবন জীবীকা কিংবা কল্যাণের জন্য রাষ্ট্র কি ভূমিকা রাখছে?  হ্যাঁ যদি বলি রাখছে। তা হলে বেশি দূর আগাব না। আর পেছনেও যাব না। সাগর রুনির কথা স্মরণ করে সরাসরি চলে আসি পাপিয়ার পাপ কান্ডে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক দেশের সৎ ও নির্ভিক সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক হাজার হাজার সাংবাদিকদের শিক্ষক ও আইডল শ্রদ্ধেয় মতিউর রহমান চৌধুরী ও মানবজমিনের ক্রাইম রিপোর্টার আল আমিনের উপর মিথ্যা মামলা। একজন আইন প্রণেতা (মহান জাতীয় সংসদ সদস্য) সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে আজব ও কান্ডজ্ঞানহীন এই মামলা করে তাঁর ক্ষমতা ও চূড়ান্ত দাম্ভিকতা দেখিয়েছেন। অথচ ওই সংবাদে তাঁকে জড়িয়ে কোন কথাই লিখা হয়নি। দেশের চলমান সাংবাদিক নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় তাঁর এই মহতি ও দেশবাসীর দৃষ্টি আর্কষনের প্রচেষ্ঠার মহান উদ্যোগ এই মামলার বাদী হওয়ায় তাঁকে অবশ্যই বাহ বাহ ও ধন্যবাদ দেওয়া আমাদের কর্তব্য নয় কি ? তাঁর এই মহান কান্ডজ্ঞানহীনতায় জাতি হতবাক ও কলংকিত হলেও আমি তাঁকে স্যালুট জানাই। কারন ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাইনা। পাপিয়া কান্ডে হয়ত তাঁর এমন ত্রাহি অবস্থা নিজের বেলায় ডামাঢোল বাজার আগেই মোড় অন্য দিকেই ঘুরিয়ে দিয়েছেন। এমন বুদ্ধিমতায়ইতো পারে এমপি-মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধি বানাতে!  আমরা বোকারামরা ! তা বুজি  কেমনে? খেলারাম খেলে যায় আমরা শুধু তা প্রত্যক্ষ করি। কুঁড়ি গ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে ধরতে ডিসির নির্দেশে মধ্যরাতে ৪০ জন লোককে পাঠানো হল তার বাড়িতে। ঘরবাড়ি তছনছ করে জাহিলিয়াতের ন্যায় ধরে আনা হল তাকে। হাত, পা, চোখ বেঁধে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে চালানো হল অমানুষিক নির্যাতন। উলঙ্গ করে তোলা হয় ভিডিও চিত্র। সাদা কাগজে নেওয়া হয় স্বাক্ষর। একপর্যায়ে প্রস্তুতি চলে ক্রসফায়ারে দেওয়ার। তার দুই অবুজ সন্তানের দোহাই দিয়ে কেঁদে কেঁদে বাঁচার আকুতি জানান বার বার। যদি ওদের পাষান্ড হ্রদয় একটু টলে। কিন্তু শব যাত্রার এতো আয়োজন যার জন্য সেই কল সৈনিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যান জানেনা তার অপরাধ কি। বার বার করজোড়ে অপরাধ জানার আকুতি জানিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। অত:পর একপর্যায়ে ঘটনার নেপথ্যের কারিগর মাননীয় জেলা প্রশাসক এলেন। তাঁর উপর অর্পিত পবিত্র ও মহান ক্ষমতা বলে মধ্যরাতে আদালত বসিয়ে তাকে একমাসের কারাদন্ডও দিলেন। কারন রিগ্যান তো দেশ ও জাতির জন্য নিবেদিত হয়ে ওদের অপকর্মের কথা লিখে তাঁর দায়িত্ববোধ পালন করেছিলেন। ভাই আরিফুল ইসলাম রিগ্যান আপনি মাইন্ড করবেন না। রাষ্ট্র পক্ষ থেকে এটাইযে আমাদের প্রাপ্য ও ন্যায্য হক তা হয়ত আপনি, আমি ও আমরা মানে এই পেশার তরুণরা জানি না কিংবা বিশ্বাস করতে চাইনা। শুধু শুধু মনে দোলা দেয় জাতীয় শুদ্ধাচারের নামে রাষ্ট্রের কত শত টাকার যোগান কিন্তু আমাদের কর্তাদের একি হাল? ওরা কবে মানুষ হবে কে জানে। ঢাকার ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল,সাংবাদিক মাহাবুবুল হক পোলেন একই নির্মমতার শিকার। শ্রদ্ধাভাজন রাষ্ট্রের কর্ণধাররা ও প্রিয় দেশবাসী আমাদের কন্ঠ রোধ করার না প্রদক্ষেপের এই হল দু’একটি দৃশ্যমান নমুনা মাত্র। আর…! আমাদের রক্ষায় আপনাদের ঘুমন্ত বিবেক দয়া করে জাগ্রত করবেন কি না তা একটু ভেবে দেখবেন কি? আমরা না হয় মরে মরে বেঁচে থাকব। কিন্তু এমন চলমান বাস্তবতায় এপেশার ভবিষ্যত দশা কি হবে আপনাদের স্বার্থে তা নিয়ে চিন্তার একটু ফুরসদ হবে কি ? এখন এমন প্রশ্ন  এপেশার কর্মীদের মগজে ও মননে। তারপরও অভয় দিয়ে বলি মহামান্য মান্যবররা আপনারা আরো বিবেকহীন নির্দয় ও পাষান্ড হলেও আমাদের নিয়তিতে লিখা অখন্ডনের এই পেশাদারিত্বের গোলামি ঠিক থাকবে। কারন দেশ,জাতি ও মানুষের কল্যাণে নিবেদীত হওয়ার প্রত্যয়ে আমরা বোধ হয়ে মজে আছিযে। বুলন্দ আওয়াজেই বলি,জয় হোক মানবতা,মনুষত্ব ও বিবেক বোধের। চিরতরে নিপাত যাক বিকেহীন, পাষান্ড হিংসার হায়েনার আচরনের অভ্যস্ত অসভ্য স্বার্থপর অমানুষের দল। দানবমুক্ত হউক প্রাণ প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। পৌঁছাক উন্নতির চরম শিখরে। দেখি এ স্বপ্ন। রাখি এ প্রত্যাশা। সবার জন্য শুভকামনা নিরন্তর।

লেখক: সংবাদকর্মী, স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক মানবজমিন (মৌলভীবাজার), ১৬ মার্চ ২০২০

The post ধন্যবাদ মান্যবররা তবুও আমাদের গোলামি ঠিক থাকবে!    appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
প্রক্সিযুদ্ধ এবং আদর্শিক বিভাজন http://banglanewsnetwork.net/2020/02/15/75728/ Sat, 15 Feb 2020 09:24:45 +0000 http://banglanewsnetwork.net/?p=75728 রায়হান আহমেদ তপাদার : আবারো আলোচনায় এসেছে লিবিয়া, যেখানে শান্তি আনার জন্য যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সাথে আলোচনার চেষ্টা করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। লিবিয়ায় এ মুহূর্তে দুটি পরস্পরবিরোধী প্রশাসন সক্রিয় আছে: একটির নেতৃত্ব... বিস্তারিত »

The post প্রক্সিযুদ্ধ এবং আদর্শিক বিভাজন appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
রায়হান আহমেদ তপাদার : আবারো আলোচনায় এসেছে লিবিয়া, যেখানে শান্তি আনার জন্য যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সাথে আলোচনার চেষ্টা করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। লিবিয়ায় এ মুহূর্তে দুটি পরস্পরবিরোধী প্রশাসন সক্রিয় আছে: একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতিসংঘ স্বীকৃত প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল সেরাজ এবং অন্যটি জেনারেল খলিফা হাফতারের বিদ্রোহী বাহিনী। লিবীয় নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়াকে নিয়ে পশ্চিমাদের নানা ষড়যন্ত্র ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাতের কারণে দেশটিতে শান্তি যেন সুদূরপরাহত। ২০১১ সালের অক্টোবরে গাদ্দাফির পতনের পর থেকে চলমান গৃহযুদ্ধে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের হস্তক্ষেপে দেশটির অবস্থা এখন বিপন্নপ্রায়। লিবিয়া এখন কার্যকরভাবে একটি বিভক্ত দেশে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে শিগগিরই শান্তি ফিরে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অধিকন্তু দেশটিতে প্রক্সিযুদ্ধ এবং রাজনৈতিক ও আদর্শিক দৃষ্টিকোণ থেকে আবার বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি তুরস্ক ও লিবিয়া চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায় সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে এক দিকে ত্রিপোলি সরকার সেটাকে আঙ্কারা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে; অন্য দিকে রয়েছে জেনারেল হাফতারে লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলো জেনারেল হাফতারকে সমর্থন দিচ্ছে। গাদ্দাফীর শাসন ও তাঁর জীবনাবসান পরবর্তী লিবিয়ায় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম হবে-এমনটাই ছিলো গণবিপ্লবের প্রাথমিক লক্ষ্য। তবে লিবিয়ায় সেটা হয়নি, অদ্যাবধি লিবিয়া অশান্ত, অস্থিতিশীল ও যুদ্ধরত অবস্থায় আছে।

২০১১ সালের গণবিপ্লবের নিট ফলাফল লিবিয়ার জন্য একটি বিপজ্জনক অবস্থার ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছিলো মাত্র। গাদ্দাফীর পতন পরবর্তীতে বিদ্রোহীরা একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ হিসেবে গঠন করেছিলো-‘ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এনটিসি) যেটাকে সমর্থন দিয়েছিলো জাতিসংঘ। কিন্তু বিদ্যমান বাস্তবতা হলো-গাদ্দাফির পতন পরবর্তী সময়কাল থেকে এখন পর্যন্ত লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি, বরং চলছে সীমাহীন নৈরাজ্য এবং অরাজকতা। এখন দেশটাতে রয়েছে দু’টি কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘ স্বীকৃত-‘গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল এ্যাকর্ড তথা জি.এন.এ সরকার একদিকে; যার নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী ফায়াজ আল সারাজ। আর অন্যদিকে রয়েছে-লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি তথা এলএনএ-যার নেতৃত্বে রয়েছেন জেনারেল খালিফা হাফতার। অর্থাৎ লিবিয়া এখন সম্পূর্ণ দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে এবং দু’টি কর্তৃপক্ষ লিবিয়ার ওপর কর্তৃত্ব স্থাপনের জন্য, একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার জন্য অব্যাহতভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ দু’টি কর্তৃপক্ষের বাইরেও লিবিয়ায় কর্তৃত্ব স্থাপনের জন্য বিভিন্ন মত ও পথের অসংখ্য সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনী তৎপর রয়েছে। লিবিয়াতে এখন যার হাতে যত বেশি অস্ত্র, তার শক্তি এবং প্রভাব তত বেশি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অনেকে মনে করেন-লিবিয়া এখন অস্ত্রের বাজারে পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, অতি সাম্প্রতিককালে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে নতুন করে তেল-গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই তেল-গ্যাসের মালিকানা নিয়ে অন্যান্য কোস্টাল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে তুরস্কের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে উভয় দেশের ইক্সক্লোসিভ ইকোনমিক জোন এর নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার জন্য ইতোপূর্বে তুরস্ক ও লিবিয়ান জি.এন.এ সরকারের মধ্যে মেরিটাইম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তুরস্ক সর্বদাই সকল বাধা বিপত্তি উপেক্ষা ও মোকাবেলা করে নিজেদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করে চলেছে অত্রাঞ্চলে। লিবিয়ার জিএনএ সরকারের নেতৃত্বে লিবিয়ার অখন্ডতা রক্ষার জন্য এবং একই সাথে আঞ্চলিক শান্তি রক্ষার উদ্দেশ্যেই তুরস্ক লিবিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে-এক টুইট বার্তায় বলেছেন তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াটগুকটে।
লিবিয়ার জি.এন.এ সরকারের পক্ষে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার উদ্দেশ্যেই তুরস্ক এই সরকারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বলে আনকারার সরকারী কর্তৃপক্ষের অভিমত। তুরস্ক লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে জড়িত হতে ইচ্ছুক নয়; তবে লিবিয়ার জাতিসংঘের সমর্থিত বৈধ জি.এন.এ সরকারকে জেনারেল হাফতার বাহিনী ক্ষমতা থেকে ফেলে দেবে তা কখনো তুরস্ক হতে দেবে না। লিখেছেন ইবনে হালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের বিশেষজ্ঞ তালহা কচি। লিবিয়ায় তুরস্কের সেনা মোতায়েন লিবিয়া সম্পর্কে তুরস্কের গুরুত্বের বিষয়টা স্পষ্ট করেছে। লিবিয়ার সাথে গঠনমূলক সম্পর্ক রক্ষা, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে বহিরাগতের কবল থেকে তুরস্কের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে তুরস্কের দীর্ঘ মেয়াদী ভূরাজনৈতিক লক্ষ্য-বলেছেন মিঃ তালহা কচি। পূর্ব ভূমধ্যসাগরের গ্যাস ক্ষেত্র থেকে ইতালি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে গ্যাস রপ্তানী ও সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে ২০০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পাইপ লাইন স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গ্রীস, গ্রীক সাইপ্রিয়ট প্রশাসন এবং ইসরাইল ইতোপূর্বে একটা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আরববসন্ত খ্যাত ২০১১ সালের গণবিপ্লবের ঢেউ লেগেছিলো আফ্রিকার দেশ লিবিয়াতে এবং ঢেউয়ের প্রচন্ড আঘাতে দেশটার দীর্ঘকালীন একনায়ক শাসক গাদ্দাফীর পতন হয়েছিলো।

বলা হয়ে থাকে লিবিয়ার বিদ্রোহী বাহিনীর নামে আমেরিকার সেনারাই গাদ্দাফীকে হত্যা করেছিলো।
অসংখ্য অস্ত্রবাজ সশস্ত্র গ্রুপ লিবিয়ায় শাসন কর্তৃত্ব স্থাপনের জন্য লড়াই করলেও এটা সত্য যে, লিবিয়া এখন মূলত: ফায়াজ আল সারাজ এবং জেনারেল খালিফা হাফতারের নেতৃত্বে দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। রাজধানী ত্রিপলি ও আশপাশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছেন ফায়াজ; তার সরকারকে বলা হয় জাতীয় ঐক্যমতের সরকার বা জিএনএ সরকার। জাতিসংঘ এই সরকারকে লিবিয়ার বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০১৬ সালে এ সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর থেকে মি. সারাজ বিভিন্ন মিলিশিয়া ও রাজনীতিকদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু পুরো দেশের ওপর তাঁর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে পারেননি। এমনকি, তাঁর সরকারের অধীনে যে সেনাবাহিনী রয়েছে, তার ওপরও তাঁর পূর্ণ কর্তৃত্ব নেই।
মি. সারাজের বিপরীতে তবরুক ভিত্তিক একটা সরকার রয়েছে-যার নেতৃত্বে দিচ্ছেন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি বা এলএনএ এর প্রধান জেনারেল হাফতার। বলা হয়ে থাকে-হাফতারের নেতৃত্বেই এখন লিবিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। হাফতার বাহিনী এখন লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলী দখল করার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে ত্রিপোলীর দিকে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে লিবিয়ার তেল খনিগুলোর সিংহভাগই দখলে নিয়েছে হাফতার বাহিনী।
লিবিয়ায় শাসন কর্তৃত্ব স্থাপন ও কায়েমে যখন দ্বিমুখি লড়াই অব্যাহত রয়েছে সে সময়ে বহি:রাষ্ট্রগুলো নিজেদের স্বার্থরক্ষায় নিজেদের পছন্দের পক্ষকে সমর্থন দেওয়ায় লিবিয়ার রাজনৈতিক সংকট আরো গভীরতর হয়ে ওঠেছে।

সবমিলে তাই জটিল এক জালে জড়িয়ে গেছে লিবিয়া ও এর জনগণ। ফলে দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের পতন হলেও গত প্রায় আট বছরেও গণতন্ত্রের মুখ দেখেনি লিবিয়ার মানুষ। লিবিয়ার বিদ্যমান এ সংকটের জন্য বিদেশী রাষ্ট্রগুলো অনেকাংশে দায়ি। বলা হয়ে থাকে ত্রিপোলী ভিত্তিক ফারাজ আল সারাজ এবং তবরুক ভিত্তিক জেনারেল হাফতার, এ দু’টি সরকারের পক্ষে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং এমনকি জাতিসংঘ।
যেমনটা উল্লেখ করেছি- মি. সারাজ সরকারের সমর্থনে রয়েছে জাতিসংঘ। আর অধিকাংশ পশ্চিমা দেশই মি: সারাজ সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, জেনারেল হাফতারের সমর্থনে রয়েছে-সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও ফ্রান্স। বহিরাষ্ট্রসমূহের কারণেই লিবিয়া সংকট সমাধানে অগ্রগতি নেই; বরং সংকট আরো বেড়ে চলেছে এ মাসে মি: সারাজ সরকারের প্রতি তুরস্কের সামরিক সমর্থন প্রদানের ফলে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী-তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদনক্রমে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েফ এরদোগান লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ফারাজ আল সারাজের সমর্থনে সেনাবাহিনী প্রেরণ ও মোতায়েন করেছেন লিবিয়াতে। তুরস্কের সেনা মোতায়েনের ফলে লিবিয়ার সংকট আরো জটিল হবে বলে মনে করছেন রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। যদিও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান তেমনটা মনে করেন না। প্রেসিডেন্ট এরদোগান মনে করেন তুরস্কের সেনা মোতায়েনের ফলে লিবিয়ার সংকট উত্তরণে সহায়ক হবে। কিন্তু তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে-সেনা ও অস্ত্রাদি মোতায়েন কেবলমাত্র ডিফেনসিভ এবং এর ফলে দেশটার বৈধ জিএনএ লিড প্রধানমন্ত্রী সারাজ ও লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির নেতৃত্বাধীন জেনারেল হাফতার বাহিনীর মধ্যেকার বিরাজমান সশস্ত্র সংঘাত নিরসনে ভূমিকা পালন করবে।

অন্যদিকে আনকারা-ত্রিপোলী চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান স্পষ্ট করেই বলেছিলেন যে, গ্রীক, গ্রীস সাইপ্রিয়ট, মিসর ও ইসরাইল-তুরস্কের সম্মতি ব্যতীত প্রাকৃতিক গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে না।’ তুরস্ক সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য যে, ইউ.এস.এ, রাশিয়া, ইইউ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো তুরস্কের সম্মতি ব্যতীত লিবিয়ার ভবিষ্যত প্রশ্নে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। একইভাবে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের প্রাকৃতিক গ্যাসের বিষয়েও এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে না। একক যেকোনো সিদ্ধান্ত প্রতিহত করবে তুরস্ক ও লিবিয়া। লিবিয়ায় তুরস্কের বিশেষ প্রতিনিধি জানিয়েছেন পুতিনের আগামী ৮ জানুয়ারি তুরস্ক সফর করার কথা রয়েছে। সে সময় দু’পক্ষ লিবিয়া নিয়ে আলোচনা করবে। সম্প্রতি তুরস্ক সাইপ্রাস অভিমুখী একটি ইসরাইলি জাহাজকে ভূমধ্যসাগর ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। ওই জাহাজ ভূমধ্যসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে এসেছিল বলে জানা গেছে। তুরস্ক ওই অঞ্চলে যে বাইরের হস্তক্ষেপ বরদাশত করবে না ইসরাইলি জাহাজকে ওই এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য করার মাধ্যমে তারই ইঙ্গিত পাওয়া গেল। সুতরাং তুরস্ক লিবিয়ার সাথে যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, সে ব্যাপারে তারা খুব সিরিয়াস বলে মনে হচ্ছে। তবে তুরস্ককে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে বিষয়টি ঠাণ্ডা মাথায় সমাধানের পথ বেছে নেয়াটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সিরিয়ায় সঙ্ঘাত ও উত্তেজনার পর লিবিয়াও সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়লে সেটা কারো জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।

লেখক ও কলামিস্ট-raihan567@yahoo.com

The post প্রক্সিযুদ্ধ এবং আদর্শিক বিভাজন appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
ইরান ইস্যুতে আবারো উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য http://banglanewsnetwork.net/2020/01/28/75664/ Tue, 28 Jan 2020 12:10:28 +0000 http://banglanewsnetwork.net/?p=75664 রায়হান আহমেদ তপাদার : ইরাকের বাগদাদ-এ আমেরিকার হামলায় ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর জেনারেল বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর এলিট কুদস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানিসহ পাঁচজন নিহত হন। বিমান বন্দর থেকে বের... বিস্তারিত »

The post ইরান ইস্যুতে আবারো উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
রায়হান আহমেদ তপাদার : ইরাকের বাগদাদ-এ আমেরিকার হামলায় ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর জেনারেল বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর এলিট কুদস ফোর্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানিসহ পাঁচজন নিহত হন। বিমান বন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তার গাড়িবহরকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। দুটি আমেরিকান এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন দিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়ের ফাঁস হওয়া আইনি নথিতে দেখা যায়, উপস্থিতি অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে হোয়াইট হাউস সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যার নির্দেশ দিতে পারে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে গাড়িবহর বের হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। হত্যাকান্ড নিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়া এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্সও।
বিশ্বরাজনীতির মোড়লরা মাঝেমধ্যে এমন কান্ডজ্ঞানহীন কাজ করে বসেন, যা বিশ্বশান্তির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তারা ভালো করেই জানেন যে, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে মোড়লের কোনো কাজ থাকবে না। গত ৩ জানুয়ারি শুক্রবার তেমন এক কর্ম করে বসলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সব ধরনের আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার, নিয়ম-রীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে সন্ত্রাসী কায়দায় হত্যা করেছে ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল কাসেম সুলাইমানিকে। শতাব্দীকাল ধরে অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে এই বর্বর হামলা জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে কোটি কোটি ব্যারেল পেট্রল ঢেলে দেওয়ার মতো ঘটনা। আমেরিকা অস্বাভাবিক-আচমকা হামলা চালিয়ে একজন শীর্ষ জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করায় ইরানে এর প্রতিক্রিয়া হয়েছে অত্যন্ত প্রবল ও ব্যাপক।

এ আক্রমণ ও হত্যাকান্ড বিশ্ববাসীকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে এ কারণে যে, দেশ দু’টির মধ্যে এমনিতেই প্রক্সিযুদ্ধ চলে আসছে মূলতঃ ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই। দীর্ঘ এ সময়কালের বৈরিতার মধ্যে দেশ দু’টি সামনাসামনি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ারও অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিলো; তবে সেটা হয়নি যেমন সত্য; তেমনি এটাও সত্য যে, প্রক্সিযুদ্ধ থামেনি কখনো। এরূপ এক বৈরিতাপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান থাকাবস্থায় শীর্ষস্থানীয় জেনারেলকে হত্যা করার ঘটনা ইরান বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে এবং তাই যদি হয়-সেক্ষেত্রে তার পরিণতি সম্মুখ কনভেনশনাল যুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে-যার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যাকান্ড ইরানের ওপর কী বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করেছে এবং ইরানীরা সোলাইমানি হত্যাকান্ডকে কীভাবে দেখছে বা মূল্যায়ন করেছে তা অনুধাবন করা যায় ইরানী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি-যাকে ইরানের শীর্ষ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে সরকারীভাবে, সেই শীর্ষনেতা আয়াতুল্লাহ খামেনী এই বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে,-সোলাইমানি হত্যাকান্ড আমার ওপর আক্রমণ।’
আয়াতুল্লাহ খামেনীর এরূপ মন্তব্যের মধ্যে সোলাইমানির গুরুত্ব ইরানে কতটুকু সেটা প্রকাশিত হয়েছে। আবার এটাও অনুমিত হয়েছে ইরান কী পরিমাণ গুরুত্ব দিয়ে সোলাইমানি হত্যাকান্ড গ্রহণ করেছে। ইরান-আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদে চলে আসা সংঘাতপূর্ণ অবস্থা বিরাজমান থাকাবস্থায় আমেরিকান সশস্ত্র বিমান হামলায় ইরানী এলিট ফোর্স আল কুদস কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি-যাঁকে ইরানের শীর্ষনেতা খামেনীর পরেই শক্তিশালী নেতা হিসেবে ইরানে গণ্য করা হয়ে থাকে, সেই শক্তিমান জেনারেলকে হত্যা করে আমেরিকা যেমন ন্যাক্কারজনক, অমানবিক ও আন্তর্জাতিক নীতি-নৈতিকতার পরিপন্থী কাজ করেছে, তেমনি এর মধ্য দিয়ে উভয় দেশের চলমান বৈরীতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

ইরানের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সোলাইমানি হত্যাকান্ড মানে শীর্ষনেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর ওপর আক্রমণ-এ ধরনের মন্তব্যের মধ্য দিয়ে এ অনুভূতিই প্রকাশিত হয়েছে যে, এ ধরনের আক্রমণ এবং হত্যাকান্ডের মাধ্যমে আমেরিকা ইরানের জাতীয় মর্যাদার ওপর আঘাত করেছে এবং এর ফলে ইরানের রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। আমেরিকানদের এরূপ আক্রমণ ও হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে ইরানের শক্তিমত্তা ও সশস্ত্র বাহিনী এবং এলিট ফোর্সের শক্তি সামর্থ্যরে বিষয়টাকে প্রশ্নের মুখে, সন্দেহের দিকে ঠেলে দিয়েছে; ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টা হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তাই ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা, এলিট ফোর্স ও সশস্ত্র বাহিনী ও সামরিক শক্তির বিষয়টা গুরুত্বহীন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের এতদিনকার কথা-বার্তা, হুমকি-ধামকি বাগাড়ম্বরপূর্ণ মনে হতে পারে বিশ্ব পরিমন্ডলে।
সোলাইমানি হত্যাকান্ড মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলে ইরানের বন্ধু রাষ্ট্র ও শত্রু রাষ্ট্র-সবার ওপরে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বন্ধু রাষ্ট্রের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান এবং এগুলো ইরানের শক্তিমত্তা সম্পর্কে আস্থাশীল। অন্যদিকে, ইরানের বৈরি রাষ্ট্রগুলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা পোষণ করছে। সোলাইমানি হত্যাকান্ড ইরানের সামরিক শক্তিমত্তা সম্পর্কে এক নতুন অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। যদি ইরান অত্যন্ত তীব্রতার সাথে আমেরিকান আক্রমণের জবাব দিতে পারে-সেক্ষেত্রে ইরানের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে আশ্বস্ত করতে পারে; পক্ষান্তরে শত্রু রাষ্ট্রগুলো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের একক প্রভাব কায়েম হবে এবং যদি সেটা করতে ইরান সক্ষম হয় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব শূণ্যের কোঠায় নেমে আসার সম্ভাবনা ও আশংকা বিদ্যমান রয়েছে।

এসব বিষয় বিবেচনায়-ইরানের জন্য আমেরিকান আক্রমণ ও শীর্ষ জেনারেলকে হত্যাকান্ড ইরানের জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাব-প্রতিপত্তি সম্পর্কে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মধ্যে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ও স্ট্যাটেজিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইরানীদের নিকট কাসেম সোলাইমানি কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ-সেটাও আলোচনায় এসেছে বিশ্বপরিমন্ডলে। এর জবাব হলো; সোলাইমানিকে মনে করা হয় ইরানের দ্বিতীয় শীর্ষনেতা; প্রধান শীর্ষনেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর পরেই তাঁর স্থান। তিনি ইরানের এবং এমনকি বিশ্ব পরিমন্ডলে আর মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিমান হিসেবে গণ্য ইরানের মর্যাদাবান এলিট ফোর্স-আল কুদস বাহিনীর প্রধান কমান্ডার। এই ফোর্সের প্রধান হিসেবে ইরানের শীর্ষনেতা খামেনীর নিকট সরাসরি দায়বদ্ধ থেকে তাঁর দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ইরানের সরকার, সশস্ত্র বাহিনী বা অন্য কারো নিকট বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নিকট তিনি জবাবদিহি বা দায়বদ্ধ নয়। এর থেকেই সোলাইমানির গুরুত্ব ও মর্যাদার বিষয়টা পরিমাপ করা যায়। লন্ডন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিষয়ক বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন চ্যাথাম হাউসের গবেষণা সহযোগী রেনাদ মনসুরের মতে, ‘ইরাকি ভূমি থেকে আমেরিকান সেনাদের বহিষ্কার করা সম্ভবত: তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।’ ‘আমি মনে কর যে কোনোও ইরাকি সরকারী কর্তৃপক্ষের পক্ষে আমেরিকান সেনা রাখার দাবি করাটা কঠিন হবে’-বলেন মনসুর। উল্লেখ্য যে, ইরাকে এখন ৫২০০ আমেরিকান সৈন্য রয়েছে। সোলাইমানি হত্যাকান্ডের ফলে ইরাকে-ইরান সমর্থিত শক্তি ও রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

ইরানের মিত্ররা এখন ইরাকে বিদেশী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টা সামনে নিয়ে আসবে এবং ওয়াশিংটনের সাথে বিদ্যমান জোট থেকে বের হয়ে এসে ইরাকে থাকা আমেরিকান সৈন্য সরিয়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে ইরানী সমর্থক ইরাকীরা। এটা ইরাককে সিরিয়া ও লেবাননের পাশাপাশি ইরানের শিবিরকে আরও শক্তিশালী করবে- যেমনটা জেনারেল সোলাইমানির লক্ষ্য ছিলো। অন্যদিকে, সিরিয়া এবং ইরাকে থাকা আমেরিকান সৈন্যরা প্রতিশোধমূলক ইরানীদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হতে পারে। আবার একই সাথে ইরান তার মিত্রদের দ্বারা লেবানন, ইয়েমেন বা গাজা উপত্যকায় আমেরিকান স্বার্থের ওপর আক্রমণ পরিচালনা করতে পারে। ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ জঙ্গি গোষ্ঠী ইসরাইলে হামলা করারও আশংকা রয়েছে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন-আমেরিকান সাইবারট্যাকগুলো সম্ভবত ইরানের প্রতিশোধের অংশ হতে পারে। মার্কিনীদের পাওয়ারগ্রীড বিকল্প করে দেবার পদক্ষেপ নিতে পারে ইরানীরা। স্ট্যাটেজিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকান মিত্র ও তাদের তেল অবকাঠামোকে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে। সেক্ষেত্রে তেল উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয় প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেবার চেষ্টা করবে ইরান। নানামুখি প্রক্রিয়ায় বা পন্থায় ইরান আমেরিকানদের ওপর, আমেরিকান সেনাদের ওপর বা আমেরিকান স্বার্থের ওপর হামলা করতে পারে তার নিজের মর্যাদা, ভাবমূর্তি বা স্বার্থ রক্ষার জন্য। আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তার প্রভাব বজায় রাখার জন্যও ইরানীরা আমেরিকান হামলার জবাব দেবে-এটা প্রায় নিশ্চিত। আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার জন্যও ইরানের একটা প্রতিশোধমূলক জবাব পাবে আমেরিকা এটা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমনসব ভবিষ্যতবাণীগুলোর মধ্যেও এমন আশাও অনেক বিশ্লেষক করেন যে, হয়তো আপাতত: ইরান আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপই নেবে না।
তেল আবিবের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইন্সটিটিউট ফর ন্যাশনাল স্ট্যাজেটিক স্ট্রাডিজ ইনস্টিটিউটের ইরান বিশেষজ্ঞ গুজানস্কি বলেছেন-‘আমি মনে করি ইরানিরা এখন হতবাক হয়ে গেছে। ইরানীরা এর আগেও কয়েকজন কমান্ডার হারিয়ে আমেরিকার ওপর প্রতিশোধ নেবার অঙ্গীকার করেছিলো সময় মতো প্রতিশোধ নেবে; কিন্তু প্রতিশোধ নিতে পারেনি-এগুলো ছিলো কেবল ফাঁকা বুলি; এবারও তাই হবে বলে মনে করছেন কতিপয় বিশেষজ্ঞরা। তবে আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ক্রাইসিস গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য প্রোগ্রামের পরিচালক জুস্ট হিল্টারম্যান বলেছেন, আমরা একটা যুদ্ধ দেখতে পাচ্ছি। তারা একটা কোণায় দাঁড়িয়ে আছে; কাজেই তারা এর জবাব দেবে-বলেন হিল্টারম্যান। এই হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মাইকেল মোরেল বলেন, ‘এই হত্যাকান্ডের কঠোর জবাব দেবে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হবে চরম মূল্য। এর ফলে অনেক আমেরিকান, এমনকি বেসামরিক আমেরিকানদের জীবন দিতে হতে পারে। এ ঘটনার পর থেকে আমেরিকানরা আর ইরাক, লেবানন, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানে নিরাপদ নন। ইরান হয়তো সরাসরি যুদ্ধে যাবে না। কিন্তু তারা ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা কিংবা সমপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করে প্রতিশোধ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের জাতীয় সংসদের ১৭০ জন সদস্য ইরাক থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের খসড়া প্রস্তাবে সই করেছেন। চূড়ান্তভাবে বিলটি পাস হলে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হবে।

কিন্তু এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনা সরিয়ে নিতে শুরু করেছে আমেরিকা। সরিয়ে নিয়েছে ইরাকে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূতকে। ইরান অলরেডি অ্যালার্মিং অ্যাটাক শুরু করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকড করেছেন ইরানিয়ান সাইবার কর্মীরা। ইরান সমর্থিত ইরাকের আধাসামরিক বাহিনী শনিবার থেকেই মার্কিন দূতাবাস ও সেনাছাউনিতে উপর্যুপরি আঘাত করছে। ইরাকের মসুলে আল-কিন্দি সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরানের বিমানবাহিনী। এ ঘাঁটিতে বহু মার্কিন সেনা ছিলেন। এমনকি রাখা রয়েছে বহু যুদ্ধাস্ত্রও। সেজন্য এই ঘাঁটিকেই টার্গেট করেছে ইরান এয়ারফোর্স। কয়েক ঘণ্টায় মোট তিনবার অতর্কিতে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে ইরান। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ হামলায় বহু মার্কিন সেনার মৃত্যু ঘটতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা আছে ইরানের। বিশ্ব অর্থনীতির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ইরানের শক্তিশালী নৌবাহিনী। বিশ্ব নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ন্যক্কারজনক কুকীর্তির প্রতিবাদ না জানালে একটি অন্ধকার পৃথিবী তাদের জন্য অপেক্ষা করবে।

লেখক ও কলামিস্ট-raihan567@yahoo.com

The post ইরান ইস্যুতে আবারো উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
মানসম্পন্ন একটি বই একটি জাতীর জন্য উপহার http://banglanewsnetwork.net/2020/01/28/75661/ Tue, 28 Jan 2020 12:08:55 +0000 http://banglanewsnetwork.net/?p=75661 রায়হান আহমেদ তপাদার : শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই শিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনে ভালোমানের প্রকাশনীর ভালো মানের বই দরকার। বর্তমানে অনেক প্রকাশনীর ভিড়ে ভালো... বিস্তারিত »

The post মানসম্পন্ন একটি বই একটি জাতীর জন্য উপহার appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
রায়হান আহমেদ তপাদার : শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই শিক্ষা গ্রহণের প্রয়োজনে ভালোমানের প্রকাশনীর ভালো মানের বই দরকার। বর্তমানে অনেক প্রকাশনীর ভিড়ে ভালো মানের বই পাওয়া সহজ নয়। বাংলাদেশে সবকিছু যেন ব্যবসা কেন্দ্রিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি প্রকাশনীর গুণগত মানের ভালো বইয়ের জন্য স্বচ্ছ পরিকল্পিত জবাবদিহিমূলক নিজস্ব সম্পাদনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। ভালো মানের বই প্রকাশে সকল প্রকাশনীর মান হতে হবে সেবা কেন্দ্রিক। বাংলার ২১শে বইমেলা হোক সফলতার এবং ঐতিহ্যের বাহক। একটি ভালো বই হচ্ছে সঠিক পথ চলার বন্ধু। ভালো বই পথ-প্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। বই কিনে কেউ কখনো দেউলিয়া হয় না। সুতরাং ভালো বই সে এক বিশাল বিষয়। তাই আসছে বইমেলায় আমরা আশা করছি ভালো ভালো বই। চাই মানসম্পন্ন বই প্রকাশ। যেহেতু ভালো বই পাঠককে আনন্দ দেয়, দেয় প্রশান্তি। কথায় বলে, আগে দর্শনধারী, তারপর গুণবিচারী। কথাটি সর্বৈব সত্য। যদিও আমরা জানি যে, একজন শিক্ষিত মানুষের সর্বোত্তম বন্ধু হচ্ছে একটি ভালো মানের বই। আর যেহেতু একটি ভালো মানের বই একজন মানুষের সর্বোত্তম বন্ধু, তাই সেই বইটির ছাপার অক্ষরগুলো এবং ছাপানো অক্ষরের পাতাগুলো অবশ্যই ঝকঝকে-তকতকে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হতে হবে। কেননা এগুলো যদি ভালো ও উন্নতমানের কাগজে ও ছাপার অক্ষরে না হয়, তাহলে সেই বইটি পাঠককুলের হূদয়ে জায়গা করে নিতে পারবে না। আর পাঠকমহলে পৌঁছাতে না পারলে বইটি যতই ভালো মানের হোক না কেন, তাতো তখন কারুরই উপকারে আসবে না।

তাই সর্বাগ্রে প্রকাশকদের উন্নত মন-মানসিকতার পরিচয় দিতে হবে এবং ভালো ও উন্নতমানের বই ছাপানোর ব্যাপারে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও তত্পরতা থাকতে হবে। আমরা চাই বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রকাশকরা এবারের বইমেলায় সুন্দর ও উন্নতমানের কাগজে ঝকঝকে ও তকতকে ছাপার অক্ষরে সুন্দর সুন্দর বিষয়বস্তুর আলোকে লিখিত বই ছাপিয়ে উপহার দেবেন। বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। ভালো বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। একটি ভালো বই আজ ও আগামীর পথ প্রদর্শক। বই বর্তমানকে নিয়ে যায় ভবিষ্যতের দিকে। বইয়ের মাধ্যমেই আমরা অতীত জানতে পাড়ি। বইয়ের মাধ্যমে আমরা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ হই। তাই একুশে বইমেলায় চাই সৃষ্টিশীল বই। যা বর্তমানের যুবসমাজকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে অবদান রাখবে। বই হচ্ছে জ্ঞানের ভাণ্ডার। যে যত বই পড়বে সে তত জ্ঞানার্জন করবে। বই আলোকিত করে মানুষকে। সে জন্য দরকার মানসম্মত বই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় ভালো প্রকাশকের অভাবে আজ মানসম্মত বই প্রকাশ হচ্ছে না। সুতরাং এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। এমনকি বইমেলার সাহিত্য সংস্কৃতি উত্কর্ষ বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। দক্ষ ও পর্যাপ্ত সম্পাদকের অভাবে মানহীন বইয়ের প্রকাশনা পাঠকের সাথে প্রতারণার নামান্তর। বাংলা একাডেমি ও পুস্তক প্রকাশকদের সমন্বয়ের সম্পাদক সৃষ্টির প্রয়াস একবার দেখা গেলেও এখন আর কার্যক্রম নিয়মিত নয়। তাই মানসম্মত বই প্রকাশের, মানসম্মত সম্পাদক সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা একান্ত জরুরী। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে প্রয়োজন কৃষির বহি:প্রকাশ। চিন্তা চেতনার বৈশ্বিক পরিবর্তন আনতে পারে শুধু বই।

এমনকি জাতির বিকাশ করার জন্য প্রয়োজন আলোকিত মানুষ। আর এ জন্য রয়েছে বইয়ের মূখ্য ভূমিকা। ভাল মানসম্পন্ন বই প্রকাশের জন্য প্রকাশকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রয়োজন। আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। এরপরই শুরু হচ্ছে কোটি বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০। মেলা চলবে ফেব্রুয়ারি মাসের ১ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত। লাখো মানুষের মিলনমেলা হলো এ গ্রন্থমেলা। প্রতিটি বইপ্রেমী মানুষ, লেখক, প্রকাশক সবাই অপেক্ষায় থাকেন এ মাসটির জন্য। বই মানুষের পরম বন্ধু। বই মনের কথা বলে, জীবনের কথা বলে আর ঘুমন্ত চেতনাকে জাগ্রত করে, মস্তিষ্ককে করে শানিত। তাই বই সবারই প্রিয় এবং ভালোবাসার বিষয়, আবেগের বিষয়। প্রতি বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয় কয়েক হাজার বই। গত বছর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজারের মতো। মেলায় স্টল থাকে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০-এর মতো। তবে এর পরিধি বাড়ছে প্রতি বছরই। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বিগত বছরগুলোতে গ্রন্থমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে স্থানটিতে হতো এবার এটি কিছুটা সরে গেছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়। বাড়ছে পরিধিও। গত বছরের তুলনায় এবার স্টল বরাদ্দ থাকছে আরও বেশি। স্বাভাবিকভাবেই সব লেখকও প্রত্যাশায় থাকেন বইমেলায় বই প্রকাশের জন্য। তাছাড়া বইমেলা উপলক্ষে বই প্রকাশও লেখকদের মনে যোগ করে এক অনাবিল আনন্দ।
তবে এ সময় বই প্রকাশের যে চাপ সৃষ্টি হয় তা সামাল দিতেই হিমশিম খান প্রকাশকরা।

কেননা, শেষ মুহূর্তে এত এত বই প্রকাশ করতে গিয়ে প্রচ্ছদ, বর্ণবিন্যাস, ছাপা, বাঁধাইসহ সব স্থানেই তাদের পোহাতে হয় প্রচণ্ড চাপ। বইয়ের মান নিয়েও অসন্তুষ্টি পোষণ করেন লেখক এবং পাঠকরা। অনেক সময় দেখা যায়, ভুলক্রমে বা তাড়াহুড়োর ফলে ১০০ জিএসএমের কাগজের স্থলে ৮০ জিএসএম কাগজ দিয়ে ছেপে ফেলেন শত শত কপি বই। এছাড়া এ সময় সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন অনেক অসাধু ব্যবসায়ী। এ সময় কাগজ ও কালির দাম বাড়িয়ে দেন তারা। ফলে নির্দিষ্ট বাজেটে বই প্রকাশ করতে অসমর্থ হয়ে যান প্রকাশকরা। ফলে বইয়ের মানও হয়ে যায় বেশ নড়বড়ে। প্রথমত প্রুফ রিডাররা হাতে অনেক কাজ থাকার ফলে দ্রুত সময়ে কাজ করে থাকেন। তখন বইয়ে থেকে যায় অসংখ্য ভুল। আবার ছাপাখানায় গিয়েও সৃষ্টি হয় নানা সমস্যা, যা আগে বললাম। তারপর বাঁধাইয়ের সময় হয় সবচেয়ে বেশি সমস্যা। দ্রুত বাঁধাই করতে গিয়ে বইয়ের অনেক মোড়ক লাগানো হয় উল্টো করে, যা প্রকাশনীর শোরুমে বা স্টলে আসার পর চোখে পড়ে। তখন তা বিক্রিও করা যায় না। এছাড়াও রয়েছে বই চাপে না রাখাজনিত সমস্যা। স্বল্প সময়ে বই বাঁধাই করে সরবরাহের লক্ষ্যে মালিকরা বই বাঁধাই করার সঙ্গে সঙ্গেই সরবরাহ করে ফেলেন। অথচ বই বাঁধাইয়ের পর সর্বনিম্ন ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বই চাপে রাখা উচিত। কেননা, এটি ছাড়া বইয়ের পাতা থেকে যায় অসমান এবং আঁকাবাঁকা। পরবর্তী সময়ে পাঠকরা বইয়ের এমন অবস্থা দেখে কিনতে আগ্রহী হন না। অনেক সময় বইয়ের পৃষ্ঠা বা কভার কাটিংয়েও দেখা যায় নানাবিধ সমস্যা। যেমন, বইয়ের একপাশে লেখা কেটে যাওয়া, উপরে ফাঁকা কম, নিচে বেশি বা নিচে কম এবং উপরে বেশি হওয়া ইত্যাদি।

এসব ছাড়াও আরও যে একটি মৌলিক সমস্যা রয়েছে সেটি হলো, বই বাঁধাইয়ের পরপরই সরবরাহের ফলে লাগানো আঠা কাঁচা থাকার কারণে পরিবহন কিংবা প্রদর্শনের সময় বইয়ের পৃষ্ঠা খুলে যাওয়া, মোড়ক থেকে কাগজের বেইজ আলাদা হয়ে যাওয়া, আঠার আঁশটে গন্ধ ছড়ানো ইত্যাদি। এসব কারণে বইয়ের মানকে একেবারেই ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ফেলে দেয়। এমনও দেখা যায়, লেখক প্রকাশ করতে চাইলেন ‘এ’ ক্যাটাগরির বই, আর সেখানে প্রকাশের পর দেখা গেল তা ‘সি’ ক্যাটাগরি কিংবা তার চেয়েও খারাপ হয়ে যায় বইয়ের মানজনিত এসব সমস্যা থেকে বের হয়ে একেকটি মানসম্পন্ন বই প্রকাশ করতে প্রকাশকদের যেমন সচেতনতা প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন লেখকদেরও। কেননা লেখকরা যদি বইমেলার আগ মুহূর্তে বই প্রকাশ না করে তা কয়েক মাস আগে থেকে প্রকাশের ব্যবস্থা করেন তাহলে প্রকাশক যেমন স্বস্তিতে কাজ করতে পারেন তেমনি প্রতিটি ধাপে বইয়ের কাজও হয় সুন্দর। ফলে লেখক যেমন পাবে মনের মতো বই, তেমনি পাঠকদের হাতেও তুলে দেওয়া যাবে একেকটি মানসম্পন্ন বই। আসছে ১ লা ফেব্রুয়ারি হতে শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক বইমেলা। বইমেলায় বহু বই প্রকাশিত হয়। নিম্নমানের প্রকাশকের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে ভালো বই। তাই ভালো বই প্রকাশের দিকে সবাইকে মনোযোগ দিতে হবে। বছরে ভালো বই প্রকাশের জন্য প্রকাশকদের যত্নবান হতে হবে। একটি ভালো বই আজ ও আগামীর বন্ধু।প্রতিবছর বইমেলায় বহু বই প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু মানসম্পন্ন সামান্য আমাদের মনে রাখতে হবে ভালো শিক্ষা হচ্ছে ভালো জ্ঞান। ভালো জ্ঞান হচ্ছে ভালো নাগরিক। ভালো নাগরিক মানেই ভালো দেশ। ভালো দেশ মানেই শান্ত ও শৃঙ্খলার দেশ।

একটি সুস্থ জাতি গঠনে প্রয়োজন চিন্তা-চেতনার বৈপ্লবিক পরিবর্তন। নতুন চিন্তা-চেতনা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে নতুন মানুষ সৃষ্টি করা সম্ভব। মানবতার দক্ষ কারিগর দেশের সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ,বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিসেবী। তাই একটি ভালো বই পারে তাদের তৈরি করতে। এ জন্য এর গুরুত্ব অনুধাবন করে মানসম্পন্ন বই প্রকাশ করা একান্ত জরুরি। একটি ভালো বই হচ্ছে আলোর কারখানা। বই পড়ে আগামী প্রজন্ম নির্দেশনা দেবে নতুন ডিজিটাল বাংলাদেশকে। সুতরাং এর জন্য প্রয়োজন লেখক/প্রকাশককে সমৃদ্ধ ও সচেতনতার উদ্যোগ। তাহলেই মানসম্পন্ন বই প্রকাশ করা সম্ভব। মানসম্পন্ন বই প্রকাশ নিয়ে বেশিরভাগ প্রকাশনা সংস্থার নীতিমালা না থাকার দরুন আজ নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হচ্ছে। এ দেশে আমাদের সদাশয় সরকারকে জরুরিভিত্তিতে বই প্রকাশের নীতিমালা জানানো উচিত বলে মনে করি। কেননা দেশের যত্রতত্র প্রকাশনা সংস্থা গড়ে উঠায় যে যেভাবে পারছে মানহীন বই প্রকাশ করে দেশ ও জাতিকে ঠকিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বই পুস্তকের মান ঠিকমত না থাকায় কোমলমতি ছেলেমেয়েরা ভুলের ওপর ভিত্তি করেই চলে যাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম জাতিকে সঠিক তথ্য দিতেও ব্যর্থ হচ্ছে। বই জ্ঞানের উত্কর্ষ সাধন করে। বিদ্যা শিক্ষা আমাদের জ্ঞানের ভাণ্ডারকে প্রসারিত করে। কিন্তু সে বিদ্যা যদি সঠিকভাবে পথপ্রদর্শক না হয়। তাহলে বিদ্যা শিক্ষার মূল্য নেই। ভালো বই ও মান-সম্মত বই আমাদের আলোয় আলোকিত করে। সুতরাং মান-সম্মত বই প্রকাশের জন্য সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

লেখক ও কলামিস্ট-raihan567@yahoo.com

The post মানসম্পন্ন একটি বই একটি জাতীর জন্য উপহার appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
অপরাধী মিয়ানমার এবং অতঃপর http://banglanewsnetwork.net/2020/01/28/75658/ Tue, 28 Jan 2020 12:06:33 +0000 http://banglanewsnetwork.net/?p=75658 রায়হান আহমেদ তপাদার : রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূল ও গণহত্যার বিপদ থেকে সুরক্ষার দাবিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দ্বারস্থ হওয়া গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশকে রোহিঙ্গাদের... বিস্তারিত »

The post অপরাধী মিয়ানমার এবং অতঃপর appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
রায়হান আহমেদ তপাদার : রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূল ও গণহত্যার বিপদ থেকে সুরক্ষার দাবিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) দ্বারস্থ হওয়া গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশকে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ নিপীড়ন ও বঞ্চনার অবসানের পথে একটি ছোট পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা জানি, এই আদেশ এক দিনে রোহিঙ্গাদের জীবন বদলে দেবে না। তবে এটি একটি প্রক্রিয়ার সূচনা, যার মাধ্যমে আমরা আশা করি, একদিন তারা নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফিরে যেতে পারবেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে মিয়ানমার মানবাধিকার ও মানবতার মৌলিক দায়িত্ব পালনের দায় এড়াতে পারে না। তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফেরার ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিতে দেশটির যে দায়িত্ব রয়েছে রাখাইনে উপযুক্ত ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির, সেদিকে নজর দেওয়ার জন্য তিনি মিয়ানমারের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া সুইজারল্যান্ডের জেনেভাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টসের কমিশনার রিড ব্রডির মন্তব্য। তিনি বলেন, বাস্তুচ্যুত হওয়া, খুন ও ধর্ষণের শিকার লাখো রোহিঙ্গার জন্য আজকের দিনটি স্বীকৃতির দিন। বিশ্বে আইনের শাসন ও মানবতার মর্যাদা রক্ষায় এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। জানালেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত সহিংসতা ও বৈষম্যের নীতিতে গণহত্যার উদ্দেশ্য থেকে থাকতে পারে। আদালত সেই বিবেচনা থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা ও বৈষম্য অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এবং বলছেন, এগুলো মেনে চলা মিয়ানমারের জন্য বাধ্যতামূলক।

এবং অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাগুলো হচ্ছে-গণহত্যা সনদের বিধি ২ অনুযায়ী মিয়ানমারকে তার সীমানার মধ্যে রোহিঙ্গাদের হত্যা, জখম বা মানসিকভাবে আঘাত করা, পুরো জনগোষ্ঠী বা তার অংশবিশেষকে নিশ্চিহ্ন করা এবং তাদের জন্মদান বন্ধের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ থেকে অবশ্যই নিবৃত্ত থাকতে হবে, মিয়ানমারকে অবশ্যই তার সীমানার মধ্যে সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো অনিয়মিত সশস্ত্র ইউনিট বা তাদের সমর্থনে অন্য কেউ যাতে গণহত্যা সংঘটন, গণহত্যার ষড়যন্ত্র, প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে গণহত্যার জন্য উসকানি দেওয়া, গণহত্যার চেষ্টা করা বা গণহত্যার সহযোগী হতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে, গণহত্যা সনদের বিধি ২-এর আলোকে গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত সব সাক্ষ্যপ্রমাণ রক্ষা এবং তার ধ্বংস সাধনের চেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে। এবং এই আদেশ জারির দিন থেকে চার মাসের মধ্যে আদালতের আদেশ অনুযায়ী মিয়ানমার যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, তা আদালতকে জানাতে হবে। এরপর থেকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস পরপর এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে হবে। অন্তর্বর্তী ৪ ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে-গণহত্যা সনদ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের হত্যাসহ সব ধরনের নিপীড়ন থেকে নিবৃত্ত থাকতে হবে, সেনাবাহিনী বা অন্য কেউ যাতে গণহত্যা সংঘটন, ষড়যন্ত্র বা উসকানি দিতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে,গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত সব সাক্ষ্যপ্রমাণ রক্ষা করতে হবে এবং চার মাসের মধ্যে আদেশ অনুযায়ী মিয়ানমার যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, তা আদালতকে জানাতে হবে। গত ডিসেম্বরের ১০ থেকে ১২ তারিখ তিন দিন এই আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যাতে উভয় পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

আন্তর্জাতিক আদালতের ১৫ জন স্থায়ী বিচারপতির সঙ্গে দুই বিরোধীয় রাষ্ট্রের মনোনীত দুজন অ্যাডহক বিচারপতি মামলার শুনানি গ্রহণ করেন মিয়ানমারের সরকারপ্রধান নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি শুনানিতে অংশ নিলেও রায়ের দিন তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর জায়গায় মিয়ানমারের বিকল্প প্রতিনিধি স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের ইউনিয়ন মন্ত্রী চ টিন্ট সোয়ে আদালতে হাজির ছিলেন। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ঘোষণার পর তাঁর কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করেই আদালত ত্যাগ করেন। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে শান্তি প্রাসাদে আদালতের আনুষ্ঠানিক অধিবেশনে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের (আইসিজে) প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুলকোয়াই আহমেদ ইউসুফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আদেশ ঘোষণা করেন। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সরকারের দীর্ঘ কয়েক দশকের জাতিগত বৈষম্য ও নিপীড়ন এবং ২০১৭ সালের সেনা অভিযানের পটভূমিতে গাম্বিয়া এই সুরক্ষার আবেদন করে।রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অপূরণীয় বৈষম্য ও ক্ষতির শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জরুরি আবশ্যকতার বিষয়ে আদালত বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সরকার যে পরিস্থিতিরই সম্মুখীন হোক না কেন, গণহত্যা সনদের বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণে রাষ্ট্রটি বাধ্য। মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন, জাতিগত সমঝোতা এবং রাখাইন রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, আদালত সেগুলোকে যথেষ্ট মনে করছেন না। আদালত এ বিষয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাবের ভাষ্য উল্লেখ করেছেন। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল: রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি উদ্বাস্তু এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের তাঁদের আদি জায়গায় স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে ফিরে আসার মতো প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণের মতো হয়নি।

গণহত্যার শিকার ও উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর সদস্যদের পক্ষে আদালতে উপস্থিত কয়েকজন প্রতিনিধি এই আদেশকে ঐতিহাসিক মাইলফলক অভিহিত করে বলেছেন, মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এবং অন্য সবার সমান মর্যাদা পাওয়ার যে অনুভূতি, এই আদেশে তাঁরা সেটা ফিরে পেয়েছেন। ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের ইয়াসমিন উল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী জনগোষ্ঠীর যে স্বীকৃতি আদালত দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ ২৫ পৃষ্ঠার এই লিখিত আদেশের শুরুতেই আদালত গণহত্যা সনদের আলোকে গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের বিরোধ নিষ্পত্তিতে আদালতের এখতিয়ারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন। আদালত বলেছেন যে গণহত্যা ঘটেছে কি ঘটেনি, সেটি বিচারের ওপর আদালতের এখতিয়ার সীমাবদ্ধ নয়। গণহত্যা সনদের বাধ্যবাধকতা অনুসরণে কোনো স্বাক্ষরকারী দেশ ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে সনদে অংশগ্রহণকারী অন্য যেকোনো দেশ আপত্তি জানালে তা নিষ্পত্তির এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। এই বিরোধের বিষয়ে গাম্বিয়া ইসলামি সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) প্রতিভূ (প্রক্সি) হিসেবে মামলা করেছে বলে মিয়ানমার আবেদনটি খারিজ করার যে দাবি জানিয়েছিল, আদালত তা খারিজ করে দেন। আদালত বলেছেন, গাম্বিয়া তার নিজস্ব পরিচয়েই মামলা করেছে এবং ওআইসিসহ অন্য যেকোনো সংস্থার সহায়তা নেওয়ার অধিকার তার রয়েছে মামলার সময় মিয়ানমারের সঙ্গে গাম্বিয়ার কোনো বিরোধ ছিল না-এমন দাবিও আদালত নাকচ করে দিয়েছেন। মিয়ানমারকে গাম্বিয়া গত বছরের ১১ অক্টোবর কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে সনদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার বিষয়ে যে দাবি জানিয়েছিল, তার কোনো জবাব না দেওয়া উভয় দেশের মধ্যে বিরোধের আরেকটি আলামত বলে আদালত মন্তব্য করেছেন।

এমনকি মিয়ানমার দাবি করেছিল, দেশটির সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত কার্যক্রম গণহত্যা সনদের আওতায় গণহত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বলে গণ্য করা যায় না মিয়ানমারের এমন দাবির বিষয়ে আদালত বলেছেন, গণহত্যা ঘটেছে কি ঘটেনি, তা এই পর্যায়ে বিচার্য নয় এবং গাম্বিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী কিছু কিছু কার্যক্রম সনদের শর্তগুলো পূরণ করে। গণহত্যা সনদের আওতায় রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা, তার প্রয়োগ ও প্রতিপালন বিষয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রশ্নে এসব কারণ আপাতদৃশ্যে বিচার্য বলে আদালত মতপ্রকাশ করেন এরপর আদালত গাম্বিয়া মামলাটি করতে পারে না বলে মিয়ানমারের দাবির বিষয়টিতে তাঁর পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত তাঁর সিদ্ধান্তে বলেন, শুধু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রই মামলা করার অধিকার রাখে, এমন দাবি ঠিক নয়। গণহত্যা সনদের বাধ্যবাধকতা পূরণে অভিন্ন স্বার্থে সনদে অংশগ্রহণকারী যেকোনো রাষ্ট্র মামলা করার অধিকার রাখে এবং গাম্বিয়ার সেই অধিকার আছে। আদালতের ১৫ জন স্থায়ী সদস্য এবং গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের মনোনীত দুজন অ্যাডহক বিচারপতির সবাই অন্তর্বর্তী আদেশগুলোর বিষয়ে একমত হলেও আদালতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, একজন স্থায়ী বিচারপতি এবং একজন অ্যাডহক বিচারপতি দু-একটি বিষয়ে ভিন্নমত দেন। তাঁদের সেসব ভিন্নমতও প্রকাশ করা হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট চীনের বিচারপতি সু হানকিন গণহত্যা সনদের বিধানসমূহের আলোকে গণহত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়ে থাকতে পারে, এমনটি মনে করেন না। তবে যে মাত্রায় রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা ও বৈষম্যমূলক আচরণ সংঘটিত হয়েছে, তা অন্তর্বর্তী নির্দেশনা জারির জন্য যথেষ্ট বলে তিনি মতামত দিয়েছেন।

বিপরীতে, অন্যতম স্থায়ী বিচারপতি কনচাতো ত্রিনদাদে জাতিসংঘ তথ্যানুসন্ধানী দল এবং জাতিসংঘের অন্য সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বর্ণিত রোহিঙ্গাদের নিপীড়ন-নির্যাতন ও বৈষম্য কতটা গুরুতর, তা তুলে ধরে গণহত্যার উদ্দেশ্য থাকলেও থাকতে পারে। বিষয়টা এতটা সাধারণ নয় বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন মিয়ানমারের মনোনীত বিচারপতি ক্লাউস ক্রেস অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাগুলোর বিষয়ে সম্মত হয়েও আলাদা ঘোষণায় বলেছেন, এই অন্তর্বর্তী আদেশের উদ্দেশ্য হচ্ছে সুনির্দিষ্টভাবে সুরক্ষামূলক। আদালত গণহত্যার উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত নিরীক্ষা করেননি। আদালতের এই আদেশ মূল মামলার গুণাগুণ বিচারের বিষয়ে কোনো প্রভাব ফেলে না দাবিকৃত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাগুলোর সম্পর্কের বিষয়ে আদালত বলেছেন, সনদের ৪১ বিধির আওতায় মূল অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা বিচারের আগেই ওই জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় অন্তর্বর্তী নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার ও ক্ষমতা আদালতের রয়েছে। আদালত এ ক্ষেত্রে শুনানিতে মিয়ানমারের সাফাইয়ে দেওয়া বক্তব্য ‍উদ্ধৃত করেন। মিয়ানমার বলেছিল, ২০১৭ সালের কথিত ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের সময়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে অনানুপাতিক হারে শক্তি প্রয়োগ করেছে এবং বেসামরিক নাগরিক ও আরসা যোদ্ধাদের মধ্যে পার্থক্য করেনি, এমনটা বলা যাবে না। আদালত জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী দলের ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে আর্ন্তজাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন ঘটেছে বলে বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে বলে যে উপসংহার টানা হয়েছে, তা উল্লেখ করেন। এসব গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের আলোকে গাম্বিয়া যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করেছিল, সেগুলোর প্রথম তিনটি রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আদালত অভিমত দেন। আদেশের পর তিনি এটিকে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ নিপীড়ন ও বঞ্চনার অবসানের পথে একটি ছোট পদক্ষেপ অভিহিত করে বলেন, ন্যায়বিচারের জন্য আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
লেখক ও কলামিস্ট-raihan567@yahoo.com

The post অপরাধী মিয়ানমার এবং অতঃপর appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
বিশ্বজুড়ে শক্তিমত্তা প্রদর্শনের খেলায় মত্য http://banglanewsnetwork.net/2020/01/28/75655/ Tue, 28 Jan 2020 12:04:33 +0000 http://banglanewsnetwork.net/?p=75655 রায়হান আহমেদ তপাদার : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী প্রায় চার দশকের স্নায়ুযুদ্ধের অবসান হয় নব্বইয়ের দশকের প্রথমার্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। তারপর পৃথিবীজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পায়। যুক্তরাষ্ট্রের... বিস্তারিত »

The post বিশ্বজুড়ে শক্তিমত্তা প্রদর্শনের খেলায় মত্য appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
রায়হান আহমেদ তপাদার : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী প্রায় চার দশকের স্নায়ুযুদ্ধের অবসান হয় নব্বইয়ের দশকের প্রথমার্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। তারপর পৃথিবীজুড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেই একচ্ছত্র ক্ষমতা এখন ভাগাভাগি হতে যাচ্ছে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে।ট্রাম্পের নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে বিশ্বজুড়ে চিন্তাভাবনা, বিতর্ক ও নানা সন্দেহ দানা বাঁধলেও এটাকে আসলে ইউনিপোলার বা একক বৈশ্বিক শক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র ক্ষমতার পতন হিসেবে বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এই কৌশলে কার্যত চীন ও রাশিয়ার ক্ষমতাকে সমপর্যায়ের হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে এবং সব শক্তি দিয়ে তা মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ট্রাম্পের বর্তমান বিশ্বরাজনীতির বাস্তবতায় পরিবর্তনের সূচনা ঘটাবে এবং ছোট-বড় সব দেশের ওপর এর প্রভাব পড়বে। বৃহৎ শক্তি হিসেবে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বা ভিত্তি গড়ে তোলার জন্যে চীন এখন মার্কিন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। চীনের অভিপ্রায় এখন পরিষ্কার তারা (চীন) এশিয়ার প্রধান বা মুখ্য শক্তি হিসেবে আত্ম প্রকাশ করে সময় থাকলে এশিয়ার বাইরেও তার প্রভাব ছড়িয়ে দিতে চায়। তবে চীনের তৎপরতা দেখেও আমেরিকাও মনে হয় আবার নতুন করে নড়েচড়ে বসার চিন্তা করছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন এসব দেশ নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে মরিয়া। এই আধিপত্য ধরে রাখার প্রতিযোগিতা আজ থেকে শুরু হয়নি। প্রথম শিল্প বিপ্লবের পর থেকে বিভিন্ন দেশ কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলে।

সেই সাথে প্রযুক্তির বিকাশ সাধনের ফলে নতুন নতুন মারণাস্ত্র আবিষ্কার করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তারা। সেই সময়ে এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলো তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে ছিল। প্রথম দিকে এসব খুব বেশি প্রভাব বিস্তার না করলেও ধীরে ধীরে শক্তিমত্তার বিস্তার ঘটতে থাকে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নিত্য নতুন অস্ত্র আবিষ্কারের শুরু সেই তখন থেকেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা ছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের। সেক্ষেত্রে স্নায়ুযুদ্ধকালীন ঘটনাকে স্মরণ করা যেতে পারে। আধিপত্যবাদের সাথে সাথে আমরা উপনিবেশবাদের সাথেও পরিচিত।
পৃথিবী জুড়ে বহু বছর ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বলাই বাহুল্য, এ ক্ষেত্রে মার্কিন প্রযুক্তি, শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি এবং দক্ষ রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে প্রভাব বিস্তারের প্রধান নিয়ামক যে ক্ষমতাই, তা আজ না বোঝালেও চলবে। আমাদের সামাজিক পরিমণ্ডলেও যাদের ক্ষমতা বেশি, তারাই প্রভাব বিস্তার করে আছে। তাদের সিদ্ধান্তই মেনে চলতে হয়। বিশ্ব পরিমণ্ডলেও একই অবস্থা। উন্নত ক্ষমতাধর দেশগুলো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। আধিপত্যবাদে অন্যকে নিজের আয়ত্তে রাখা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজের পক্ষে মতামত দেওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।আজ বিশ্বজুড়ে শক্তিমত্তা প্রদর্শনের খেলায় মত্য ক্ষমতাশালী দেশগুলো। একসময় এই ভারতীয় উপমহাদেশও ব্র্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল। ধীরে ধীরে উপনিবেশবাদ বিদায় নেয়। শুরু হয় আধিপত্য ধরে রাখার প্রতিযোগিতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দেয় যুক্তরাষ্ট্র। আধিপত্য বিস্তারের খেলায় যা যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেয়। এরপর বিভিন্ন সময় নতুন নতুন আধুনিক অস্ত্র, বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র আবিষ্কার অব্যাহত থাকে।

এখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এসব দিক থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে। ধীরে ধীরে আরো কয়েকটি দেশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে। অবস্থা এমন, এই অস্ত্র হাতে থাকলেই ক্ষমতাধর দেশগুলোর সঙ্গে মাথা উঁচু করে কথা বলা যায়। এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যে দ্বন্দ্ব চলছে, তার মূলেও রয়েছে পরমাণু অস্ত্র তৈরি। যদিও ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে জানিয়েছে কিন্তু সে আশঙ্কা থেকে বিশ্ব মুক্ত হতে পারেনি। বাস্তবিকপক্ষে অস্ত্র মানেই ক্ষমতা! আর ক্ষমতা মানেই প্রভাব বিস্তার। পরমাণু অস্ত্রসম্পন্ন দেশগুলো শেষমেশ নিজেদের রক্ষায় যে এই পথ বেছে নেবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এসব ক্ষমতার কারণে পৃথিবীব্যাপী বহু বছর ধরেই মার্কিন আধিপত্য রয়েছে। আরো দীর্ঘ সময় থাকা সম্ভব। কিন্তু কত দিন? যত দিন না অন্য কোনো সুপার পাওয়ার নিজেদের শক্তি নিয়ে মাথা উঁচু করে না দাঁড়ায় ততদিন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে চলেছে রাশিয়া, ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ। এখন একক আধিপত্যের যুগ আর নেই। একক আধিপত্য বজায় রাখা বেশ কঠিন। ক্ষেত্রবিশেষে সম্ভবও নয়। কারণ প্রযুক্তির যুগে যেসব দেশ উন্নত সামরিক প্রতিযোগিতায় রয়েছে, তারাও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অস্ত্র আবিষ্কার করতে ব্যস্ত। নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শুধু পৃথিবী নামক গ্রহের নিয়ন্ত্রণ নিতেই ব্যস্ত নেই সেসব দেশ বরং মহাশূন্যেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টায় রত আছে। যুক্তরাষ্ট্র চাঁদে মানুষ পাঠিয়ে সারা বিশ্বের চোখ কপালে তুলে দিয়েছিল এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নিজেদের বিশাল উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। আজও তারাই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে।

বর্তমানে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে আরম্ভ করেছে। বিশেষ করে একক আধিপত্য বিস্তারের চেয়ে মিত্রদের সঙ্গে চলতেই বেশি পছন্দ করছে। সবচেয়ে দ্রুত বদলাচ্ছে চীনের অবস্থান। পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন অস্ত্র বানিয়ে এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। গত কয়েক বছরে চীন তাই বিশ্বের পরাশক্তির কাতারে। যার ফলে কৌশল হিসেবে মিত্রদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিজ বলয়ের প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারত নিজেদের পাশের মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখার চেষ্টায় ব্যস্ত। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে মিত্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। কিন্তু এখন এসব ছাড়িয়ে চীনের আধিপত্য বেশি লক্ষণীয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ এখনো চলমান। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের বিপরীতে চীনও পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে। এতেই বোঝা যায়, চীন পিছিয়ে যেতে আগ্রহী নয়। এর কারণ চীনের পৃথিবীব্যাপী পণ্যের বিশাল বাজার, যা চীনের অর্থনীতিকে ক্রমেই শক্তিশালী করছে, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা।চীন যুক্তরাষ্ট্রের মতো সক্ষমতা এখনো অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু তা অর্জনে যে তাদের লক্ষ্য নেই তা বলা যাবে না। চীনের যে জিনিসের অভাব রয়েছে, তা হলো ওভারসিজ মিশন। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে দাপিয়ে বেড়ানো, তা এই ওভারসিজ মিশনের জন্যই। যুক্তরাষ্ট্র এখনো যে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বে এগিয়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান।
এশিয়া এবং ন্যাটোর মাধ্যমে ইউরোপে গভীর নেটওয়ার্ক বজায় রাখতে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্র।

কিন্তু এসব দিক দিয়ে চীন পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু কত দিন পিছিয়ে থাকবে, সেটাই প্রশ্ন? কেউ এগিয়ে যেতে চাইলে তাকে থামানো সম্ভব নয়। প্রযুক্তির বাজারে এশিয়ার বাইরেও চীন টেক্কা দিয়ে চলেছে। ভূমি, আকাশ বা সাগরে নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে প্রতিনিয়ত। এখন হয়তো চীন এশিয়া বা নিজের আশপাশে প্রভাব বিস্তারে মনোযোগী। ভবিষ্যতে এর বিস্তার যে আরো বৃদ্ধি পাবে না, তার নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনকে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে। দশকের পর দশক সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ চালানোর মধ্য দিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনর্গঠিত হয়ে গেছে। তারা নতুন নতুন অস্ত্রে সজ্জিত হচ্ছে। পাশাপাশি বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে। ফলে আধিপত্য বিস্তারের খেলা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনির যুক্তরাষ্ট্র স্টাটিজ সেন্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয় চীনের কাছে এশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় একক আধিপত্য হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বহু দিন ধরেই চীন নিজেকে প্রতিযোগিতার পর্যায়ে এনেছে। নিজের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করার সঙ্গে সঙ্গে সামরিক ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কাজে মনোযোগী হয়েছে। বহু দিন ধরেই চীনকে সামরিক খাতে যে রাইজিং পাওয়ার বা উঠতি শক্তি বলে ধরা হচ্ছিল, এখন সেই উঠতি শক্তি পূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথে।
চীনও আজ এক সুপার পাওয়ার হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। চীনকে সুপার পাওয়ার বিবেচনা না করলে তা ভুল হবে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কৌশল ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নজিরবিহীন সংকটে রয়েছে। ওয়াশিংটনকে হয়তোবা তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে রক্ষা করার জন্য চীনের বিরুদ্ধে লড়তে হবে।

এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একক সামরিক আধিপত্য নেই। সেই রিপোর্টে আরো বলা হয়, বেইজিংয়ের দারুণ সব ক্ষেপণাস্ত্র ও যে সম্ভার রয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং তার বন্ধু দেশগুলোর জন্য হুমকি।যুক্তরাষ্ট্র এখনও যে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বে এগিয়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সর্বাধুনিক যুদ্ধ বিমান। এশিয়া এবং ন্যাটোর মাধ্যমে ইউরোপে গভীর নেটওয়ার্ক বজায় রাখতে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্র। এসব দিকে চীন পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু কতদিন পিছিয়ে থাকবে সেটাই প্রশ্ন? কেউ এগিয়ে যেতে চাইলে তাকে থামানো সম্ভব নয়। প্রযুক্তির বাজারে এশিয়ার বাইরেও চীন টেক্কা দিয়ে চলেছে। ভূমি, আকাশ বা সাগরে নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে চলেছে প্রতিনিয়ত। এখন হয়তো চীন এশিয়া বা নিজের আশেপাশে প্রভাব বিস্তারে মনোযোগী। ভবিষ্যতে এর বিস্তার যে আরও বৃদ্ধি পাবে না তার নিশ্চয়তা দেয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনকে নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে। দশকের পর দশক সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ চালানোর মধ্যে দিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনর্গঠিত হয়ে গেছে। তারা নতুন নতুন অস্ত্র সজ্জিত হচ্ছে। পাশাপাশি বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছে। ফলে আধিপত্য বিস্তারের খেলা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট-raihan567@yahoo.com

The post বিশ্বজুড়ে শক্তিমত্তা প্রদর্শনের খেলায় মত্য appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
নতুন প্রযুক্তির বিশ্বে ২০১৯ সাল http://banglanewsnetwork.net/2020/01/28/75652/ Tue, 28 Jan 2020 12:02:58 +0000 http://banglanewsnetwork.net/?p=75652 রায়হান আহমেদ তপাদার : বিদায়ী বছরটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছলেও শেষ পর্যন্ত তা সংঘাতের দিকে মোড় নেয়নি। ১২ মে ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আক্রান্ত হয়। ২০... বিস্তারিত »

The post নতুন প্রযুক্তির বিশ্বে ২০১৯ সাল appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>
রায়হান আহমেদ তপাদার : বিদায়ী বছরটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছলেও শেষ পর্যন্ত তা সংঘাতের দিকে মোড় নেয়নি। ১২ মে ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আক্রান্ত হয়। ২০ জুন মর্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান আক্রমণের নির্দেশ দিয়ে অনতিবিলম্বে সেটি প্রত্যাহার করে নেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ১৩ জুন তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির সঙ্গে দেখা করে তার কাছে ট্রাম্পের একটি চিঠি পৌঁছে দেন। চিঠিতে ট্রাম্প সংলাপে বসার আগ্রহের কথা জানান। খামেনিই আবের মাধ্যমে দেয়া ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। একই দিনে ওমান উপসাগরে আরও দুটি তেল ট্যাঙ্কার আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে একটি জাপানী ট্যাঙ্কার ছিল। এ ঘটনার জন্য ট্রাম্প আবারও ইরানকে দায়ী করেন। ১৯ জুলাই জিব্রাল্টার থেকে ব্রিটিশ তেল ট্যাঙ্কার স্টেনা ইমপেরা আটক করে ইরান। দু মাস পর ট্যাঙ্কার ছেড়ে দেয়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন গত বছর এপ্রিল ও জুনে দুটি বৈঠকের পর এ বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি আবার মুখোমুখি হন। বৈঠকটি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। ভিয়েতনামের হ্যানয়ের পাঁচ তারকা হোটেল ‘মেট্রোপোলে’ বৈঠকটি হয়। এর আগে ট্রাম্প এই সম্মেলন থেকে বড় ধরনের কিছু প্রত্যাশা না করার কথা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির ব্যাপারে তার ‘কোন তাড়া নেই। এর সুফল পেতে সময় লাগবে। এরপর বছরজুড়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। এছাড়া ভারত সরকার ৫ আগস্ট কাশ্মীরকে স্বায়ত্তশাসন প্রদানকারী সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করে। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীর ৭০ বছর ধরে যে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছিল তার অবসান ঘটে।

সম্ভাব্য প্রতিবাদ এড়াতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ লোককে আটক করা হয়। নেট ও টেলিযোগযোগ বন্ধ করে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় পুরো উপত্যকাকে। কাশ্মীর ইস্যুতে এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো পাক-ভারত সম্পর্কে অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি প্রায় যুদ্ধের কাছাকাছি চলে গেলেও শেষ পর্যন্ত দুইপক্ষই সংযত হয়। এমনকি দেশে দেশে বিক্ষোভ ছিল বছরের উল্লেখযোগ্য আলোচিত ঘটনা। বিদায়ী বছরটিকে আরও যেসব কারণে মানুষ মনে রাখবে তার মধ্যে ট্রাম্পকে ইমপিচ করা, ক্রাইস্টচার্চে হামলা, আরামকো তেলক্ষেত্রে হামলা, অস্ট্রেলিয়ায় দাবানল, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ, অসমের নাগরিক পঞ্জি ও ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, উপসাগরে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর উত্তেজনা। আরেক উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে হংকং বিক্ষোভ ছিল ২০১৯ সালের সবচেয়ে দীর্ঘ আলোচিত ঘটনা। বিক্ষোভের মূলে ছিল জুনে গৃহীত প্রত্যর্পণ বিল। বিলটি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নেয়া হলেও গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন থামেনি। ২৪ নবেম্বর অনুষ্ঠিত ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থী আশাতীত ভাল ফল করলেও হংকংয়ের শীর্ষ নির্বাহী ক্যারি লাম তাদের দাবির প্রতি নমনীয় হননি। ৬ জুন ১০ লাখের বেশি মানুষ প্রতিবাদ মিছিল করে। স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিতে ৩০ বছরের মধ্যে এত বিশাল মিছিল আর হয়নি। এরপর সপ্তাহান্তে চলতে থাকে বিক্ষোভ। সবকিছু মিলে পরিস্থিতি ২০১৪ সালের আমব্রেলা মুভমেন্টের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এককালের ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং ১৯৯৭ সালের ৩০ জুন চীনের কাছে ফিরিয়ে দেয় হয়। চীনের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হলেও হংকং ‘একদেশ দুই ব্যবস্থা’র আওতায় এতদিন বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে এসেছে।

অন্যদিকে আরেকটি দিন ছিল শুক্রবার ১৫ মার্চ। শান্তিকামী দেশ হিসেবে পরিচিত নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে যেন রক্তের বন্যা বইয়ে যায়। জুমার নামাজের সময় আল নূর মসজিদ এবং ক্রাইস্টচার্চে লিনউড ইসলামিক সেন্টারে ঘটে গণগুলিবর্ষণের ঘটনা। এতে প্রায় ৫০ জন নিহত হন ও কমপক্ষে ৫০ জনের মতো গুরুতরভাবে আহত হয়। অভিযুক্ত অপরাধী, অস্ট্রেলিয়ান ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে গ্রেফতার এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। টেস্ট ম্যাচ উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম ওই সময় সেখানে অবস্থান করলেও অল্পের জন্য তারা প্রাণে রক্ষা পান। এক সপ্তাহ পর আল নূর মসজিদের কাছে হ্যাগলি পার্কে জুমার নামাজের আগে সমবেত হন হাজারো মানুষ। সমাবেশে অন্যদের সঙ্গে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওতে জোহরের আজান প্রচারের পর দেশজুড়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এমনকি ২০১৯ সালে ভারতে লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। ৭ পর্বের নির্বাচন ১১ এপ্রিল শুরু হয়ে ১৯ মে শেষ হয়। ২৩ মে ফল ঘোষণা করা হয়। ৫৪৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি পায় ৩৫০টি আসন, আগের নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ৩৩৬টি আসন। নরেন্দ্র মোদি অর্থনীতি ও উন্নয়নকে একত্রিত করে যে রাজনীতির জন্ম দেন কোন কোন বিশ্লেষকের ভাষায় যা মোদিনোমিক্স হিসেবে পরিচিতি পায়, তাতে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস স্থাপন করে। ভারতের মানুষ চেয়েছে উন্নয়ন। ভারতের মানুষ নরেন্দ্র মোদির ওপর আবারও আস্থা রাখে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ১৪ ফেব্রুয়ারি জঙ্গী হামলায় ৪০ জনের বেশি ভারতীয় নিহত হয়।

এর ১২ দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বোমাবর্ষণ করে মানুষের হতাহত হওয়ার দাবি করে। অভিযানের উল্লেখযোগ্য দিক ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক পাইলথাক অভিনন্দন বর্তমান পাকিস্তানে গিয়ে ধরা পড়েন। তাকে ৬০ ঘণ্টার জন্য আটক থাকতে হয়। শেষমেশ শান্তি রক্ষার্থে তাকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ১ মার্চ ওয়াঘা সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফেরেন উইং কমান্ডার বর্তমান। ১৫ আগস্ট ভারতের জাতীয় দিবসে তাকে বীরচক্র সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। রাতারাতি অভিনন্দন বর্তমানকে ঘিরে উন্মাদনা তৈরি হয়। অভিনন্দনের গোঁফের স্টাইল রাতারাতি ‘ফ্যাশন ইন’ হয়ে যায়। পাশাপাশি ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট অভিনন্দন বর্তমানের ছবি ব্যবহার করে পাকিস্তানের এক চাওয়ালার চা বিক্রির খবরও সামনে আসে। সিন্ধুর টিপ সিংহল দ্বীপ কাঞ্চনময় দেশ খ্যাত শ্রীলঙ্কায়ও জঙ্গী হামলায় কেঁপে উঠেছিল। ২০১৯ সালের ২৩ মার্চ সিরিয়ার বাগুজে জঙ্গী গ্রুপ ইসলামিক স্টেট বা আইএসের সর্বশেষ ঘাঁটির পতন হয়। আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। তারা এদিন পূর্ব সিরিয়ায় আইএসের শেষ ঘাঁটি বাগুজ দখল করে নেয়। এর মধ্যদিয়ে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কথিত খেলাফদের অবসান ঘটে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আইএস শতভাগ পরাজিত হয়েছে। এক সময় আইএস সিরিয়া ও ইরাকের ৮৮ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত। ২৬ অক্টোবর মার্কিন অভিযানে আইএস নেতা আবুবকর আল বাগদাদি নিহত হন।

অতঃপর ইসরাইল অধিকৃত ফিলিস্তিনী ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইহুদী বসতি স্থাপনকে শেষ পর্যন্ত বৈধতা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে চার দশকের বেশি সময় অনুসরণ করে আসা নীতি থেকে পশ্চাদপসরণ করে ওয়াশিংটন। ১৮ নবেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, পশ্চিম তীরে ইহুদী বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।তিনি আরও বলেন,আইনি দিকগুলো পর্যবেক্ষণের পর যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, পশ্চিম তীরে ইহুদী বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলাটা ভুল হবে। ১৯৬৭ পূর্ব জেরুসালেম ও পশ্চিম তীর দখলের পর থেকে অধিকৃত এলাকা গুলোতে ১৪০টির মতো বসতি স্থাপন করেছে তেল আবিব। বসতিগুলোতে ছয় লাখের মতো ইহুদী বাস করে বিদায়ী বছরটিতে সৌদি তেল শিল্প আচমকা হামলার শিকার হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর পূর্বাঞ্চলীয় আবকাইকের আরামকোর তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে তেল উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে আনে রিয়াদ। হামলা ইরান করেছে না ইরানী মদদপুষ্ট ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা করেছে তাও স্পষ্ট জানা যায়নি। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা ২০ সেপ্টেম্বর জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে ধর্মঘট পালন করে। সিডনি থেকে সিউল, ম্যানিলা থেকে মুম্বাইয়ের শিক্ষার্থীরা জার্মান কিশোরী পরিবেশবাদী গ্রেটা থানবার্গেও নেতৃত্বে রাজপথে র‌্যালি করে। মার্চে জলবায়ু ইস্যুতে যে র‌্যালি হয় তার চেয়ে এই র‌্যালিতে দ্বিগুণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ শিরোনামে বৈশ্বিক পর্যায়ে অন্তত পাঁচ হাজার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের মধ্যে ডিজেল ও পেট্রোলচালিত গাড়ি বন্ধের দাবি জানায়।

অস্ট্রেলিয়ায় পশ্চিমাঞ্চলে ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালি- ফোর্নিয়া দাবানল নতুন কোন ঘটনা নয়। তবে এ বছর ওই অঞ্চল গুলোতে অসময়ে শুরু হওয়া দাবানল জ্বলেছে দীর্ঘ সময় ধরে। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দাবানলে এ পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সাতশ’র বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। পুড়ে গেছে প্রায় ৩০ লাখ হেক্টর জমি। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সিডনিতে জারি করা হয স্বাস্থ্য জরুরী অবস্থা। ১৮ ডিসেম্বর দেশটিতে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪০ দশমিক ৯ ডিগ্রী সেলসিয়সে পৌঁছায়। এছাড়া শ্রিলঙ্কায় ১৬ নবেম্বর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসের ভাই গোটাবায়া রাজাপাকসে। তিনি সাজিথ প্রেমাদাসাকে পরাজিত করেন। গোটাবায়া দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিন দশক ধরে চলা তামিল বিদ্রোহ দমনে তার বিশেষ অবদান ছিল। ধারণা করা হচ্ছে এপ্রিলে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলা রাজাপাকসে পরিবারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি নিজের ভাই মাহিন্দকে প্রধানমন্ত্রী করেন। ২০১৯ সালের শেষ দিকে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে ইমপিচ হন। ১৭ ডিসেম্বর ২৩০-১৯৭ ভোটে ইমপিচ- মেন্টের প্রথম আর্টিকেলটি পাস হয়। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়- তিনি তার পদ ব্যবহার করে তার ডেমোক্র্যাট রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন। অন্যদিকে বহুল আলোচিত রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মিয়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ করা যেতে পারে, জেনোসাইড কনভেনশনের সদস্যদেশ হিসেবে গাম্বিয়া এই মামলা করেছিল। গণহত্যার ঝুঁকিতে থাকা অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের যাতে এখনই নিরাপত্তা দেয়া যায় এবং গণহত্যার প্রমাণ ও আলামত যেন মিয়ানমার নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য গাম্বিয়া আইসিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করে। নতুন বছরের শুরুতে আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুনানিতে গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর আউং সান সুচি হেগের গ্রেট হল অব জাস্টিস অব দ্য পিস প্যালেসের মঞ্চে বাকযুদ্ধে জড়ান।

লেখক ও কলামিস্ট-raihan567@yahoo.com

The post নতুন প্রযুক্তির বিশ্বে ২০১৯ সাল appeared first on BANGLANEWSNETWORK.COM.

]]>