May 28, 2020

কুলাউড়ায় করোনা জয় করে স্বাস্থ্য সেবা কাজে ফিরলেন স্বাস্থ্যকর্মী জাবের

মাহফুজ শাকিল : মহামারি করোনা ভাইরাসের সাথে টানা ২২ দিন যুদ্ধ করে জয়ী হয়ে আবারো স্বাস্থ্য সেবা কাজে ফিরলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার স্বাস্থ্যকর্মী আহমেদুল কবির জাবের। তিনি উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের ঘাঘটিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের একজন সিএইচসিপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

করোনা থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে রবিবার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এসময় জাবেরকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ নুরুল হকসহ হাসপাতালের সকল ডাক্তার, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। ২২ দিন পর সহকর্মীকে কাছে পেয়ে আনন্দে উল্লাস করেন তাঁর সহকর্মী সকল সিএইচসিপি কর্মকর্তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ নুরুল হক জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে সবকিছু লকডাউন থাকলেও আমাদের মাঠ পর্যায়ের সিএইচসিপি কর্মকর্তারা অনেক ঝুঁকি নিয়ে দেশের টানে মানুষদের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ত্যাগ ও স্বাস্থ্য সেবার কথা কখনো ভূলার নয়। সম্ভবত দায়িত্বপালন কালে স্বাস্থ্যকর্মী জাবের করোনার উপসর্গ জ্বরে ভুগছিলেন। গত ২৫ এপ্রিল তাঁর দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। ৫ মে তাঁর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর তাঁকে নিজ বাসায় আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। এদিকে করোনার সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসন গিয়ে ওইদিনই তাঁর বাসাসহ ১২টি বাসা লকডাউন করে। এরপর ৫ মে পুনরায় জাবেরসহ তাঁর পরিবারের সকল সদস্যদের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানা হয়। ১৬ মে জাবেরসহ তাঁর পরিবারের সকলের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। করোনাকালীন মুহুর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সবসময় জাবেরের পাশে থেকে চিকিৎসা প্রদান ও খোঁজ খবর নিয়েছিল।

এক প্রতিক্রিয়ায় স্বাস্থ্যকর্মী আহমেদুল কবির জাবের এ প্রতিবেদককে বলেন, সকলের দোয়ায় আমি এখন সম্পূর্ণরুপে সুস্থ আছি। আমার আর কোনো ধরণের সমস্যা নেই। দুই/তিন দিনের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান করবো। করোনায় কেউ আতঙ্কিত না হয়ে একটু সচেতন হলেই আমরা কেউই করোনায় আক্রান্ত হব না। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি মুহুর্তকে স্পর্শ বা অনুভব করাটাই জীবন। কারণ জীবন কোন রিউইন্ডস বা ব্যাক টু দ্য বিগিনিং নাই। তাই আমাদের উচিত অতিরিক্ত স্মৃতি মন্থন বা আগামীর আশায় বসে না থেকে আজকের দিনটাতে ভাল থাকা। আমার অসুস্থতার খবরে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ যারা প্রতিনিয়তই খোঁজখবর নিয়েছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

সর্বশেষ সংবাদ