May 29, 2020

মৌলভীবাজারে পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘মানবতার আধার’

মাহফুজ শাকিল : বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সৃষ্ট দূর্যোগের কারণে বাংলাদেশের মানুষের জীবন যাত্রা থমকে গেছে। আর এই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েছে ‘যারা দিন আনে দিন খায়’ এমন পর্যায়ের লোকজন। দেশের এমন দূর্যোগের সংকট মুহুর্তে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র ও অভাবী জনগোষ্ঠীর মাঝে সরকারের পাশাপাশি অনেক ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনসহ প্রবাসীরা মানবিক সহায়তা নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছেন। তাদের এগিয়ে আসার কারণে কেউ হয়ত একাধিক বার সহায়তা পেয়েছে আবার কেউ হয়ত একবারও সহায়তা পায়নি। আবার অনেক মধ্যবিত্ত/নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারও বর্তমান পরিস্থিতিতে আর্থিক দৈন্যতায় পড়েছে। কারো কাছে তারা মুখ ফুঁটে সহায়তার কথা বলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সহায়তা না পাওয়া অভাবী ব্যক্তিদের ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে সম্প্রসারিত বিট পুলিশিং, ‘গরীব-দুঃখির খোঁজ করি, যথাস্থানে পেশ করি, সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করি’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ এক ব্যতিক্রমী মানবিক পুলিশিং কার্যক্রম ‘মানবতার আধার’ নামে একটি ইনোভেশনের যাত্রা শুরু করেছে। এই ব্যতিক্রমী ইনোভেশনের নেপথ্যের কারিগর হলেন জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার)। তাঁর সময়পযোগী উদ্যোগে ও দিকনির্দেশনায় জেলার সদর থানা, শ্রীমঙ্গল, রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী থানায় এই ‘মানবতার আধার’ কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ গত বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার মডেল থানা প্রাঙ্গণে উপস্থিত অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জিয়াউর রহমান, মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হেসেন প্রমুখ। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমদের নির্দেশনায় শনিবার কুলাউড়া থানায়ও এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাওসার দস্তগীর। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়ারদৌস হাসান, ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তীসহ থানা পুলিশের সদস্যরা। প্রথম দিনে খাদ্য সহায়তা না পাওয়া এমন ৫০ দরিদ্র পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। আরো ৩০০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওসার দস্তগীর।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ রবিবার রাতে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, করোনার দূর্দিনে দুঃস্থ, অভাবী মানুষের ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য সম্প্রসারিত বিট পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলার সব থানায় ‘মানবতার আধার’ কার্যক্রম চালু হয়েছে। এই মানবিক কার্যক্রমে সমাজের যে কোনও আগ্রহী বিত্তবান ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এখানে খাদ্য সামগ্রী পাঠাতে পারবেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আপনাদের দেওয়া ত্রাণ ও সাহায্য প্রকৃত উপকারভোগী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, পুলিশের সকল কাজের বাইরে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবিক কারণে মানুষের মুখে হাঁসি ফুটানোর জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট থানার বিট অফিসারগণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমান্য ব্যক্তি, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও সাংবাদিকদের সাথে সমন্বয় করে তালিকা প্রস্তুুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ