May 29, 2020

জুড়ীতে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে সহায়তা তালিকা শতভাগ সম্পন্ন করল প্রশাসন

মাহফুজ শাকিল:  মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট দূর্যোগের কারণে থমকে গেছে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্নআয়ের কয়েক সহস্রাধিক মানুষের জীবন চলার পথ। সেই সকল কর্মহীন দরিদ্র মানুষের জন্য সরকার ধারাবাহিকভাবে মানবিক সহায়তা হিসেবে ত্রাণ ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় করোনা ভাইরাস দূর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় উপকারভোগী পরিবারের তালিকা প্রণয়ন “ মুজিববর্ষে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ৫০ লক্ষ পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কর্মসূচী” ডাটাবেজ তৈরির কাজে জেলার মধ্যে প্রথম রয়েছে জুড়ী উপজেলা প্রশাসন। আর এ কাজের নেপথ্যে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অসীম চন্দ্র বনিক। তাঁর সময়পযোগী সঠিক নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় উপজেলার সকল কর্মকর্তারা টানা তিন দিন নির্ঘুম রাত কাটিয়ে নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছেন। যার কারণে কোন ধরণের অভিযোগ ও অনিয়ম ছাড়াই জেলার মধ্যে সর্বপ্রথম জুড়ী উপজেলা প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মানবিক সহায়তা কার্ডের এক্সেল ডাটাশীটের তথ্যসমূহ সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক যথাযথভাবে নির্দিষ্ট সময়ের আগে সার্ভারে আপলোড করে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজার এর সূত্র অনুযায়ী বলা হয়েছে যে, করোনা ভাইরাসের সংক্রামক বিস্তার লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের পরিসর বৃদ্ধিকল্পে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। মাঠ পর্যায়ে প্রেরিত তথ্য, পরিসংখ্যান ব্যুরো’র তথ্য, জনসংখ্যা, দারিদ্রতার হার, সম্পদের প্রাপ্যতা বিবেচনাপূর্বক মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জুড়ীতে ৬ টি ইউনিয়নে সর্বমোট ৫ হাজার ১১০ জন উপকারভোগীর বরাদ্দ আসে। ইউনিয়ন ভিত্তিক জনসংখ্যা ও দুঃস্থতার ভিত্তিতে বরাদ্দপ্রাপ্ত উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা হল উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নে ১৩৫৭, পশ্চিম জুড়ী ৮৩১, পূর্ব জুড়ী ৬২৯, সাগরনাল ৮৮৪, ফুলতলা ৬৫১, গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নে ৭৫৮ টি পরিবারসহ মোট ৫ হাজার ১১০ টি পরিবার এই মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রত্যেকে ২৫০০ টাকা করে নগদ অর্থ পাবে। জুড়ীতে সর্বমোট ১৭ হাজার ৯৮১ জন হতদরিদ্র পরিবার রয়েছে। তারমধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে ৫১১০ জন উপকারভোগী পরিবারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

জুড়ী উপজেলায় মোট ৫ হাজার ১১০ টি উপকারভোগী পরিবারের নামের তালিকা তৈরির জন্য চেয়ারম্যান/মেম্বারদের স্বমন্বয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটি থেকে প্রাপ্ত তালিকা যাচাই-বাছাই করে ইউনিয়ন কমিটি তা অনুমোদন করে উপজেলা কমিটিকে দাখিল করেন। এরপর উপজেলা প্রশাসন উপকারভোগীদের নামের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৬টি ইউনিয়নে ১ জন করে ৬ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োজিত করেন। এদিকে ১৬ মে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত চূড়ান্ত সকল উপকারভোগী পরিবারের সহায়তা তালিকা সার্ভারে আপলোড করার নির্দেশনা ছিল। যার কারণে ইউএনও অসীম চন্দ্র বনিকের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার, ইউনিয়নের সচিব, তথ্য উদ্যোক্তা, ইউনিয়নের হিসাব সহকারীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা টানা তিন দিন নিঘুম রাত কাটিয়ে উপজেলা সভাকক্ষে বিরামহীনভাবে কাজ করেন। কাজ করতে গিয়ে যখন সেহরীর সময় হয়ে গিয়েছিল তখন অনেক কর্মকর্তারা উপজেলা পরিষদে সেহরী খাওয়া শেষ করেন। তারপর আবার সকল কর্মকর্তারা ঘুমে না গিয়ে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ত্যাগ স্বীকার করে ডাটাবেজ সার্ভারে আপলোড করেন। বিশেষ করে এই কাজে সহযোগিতা করেন উপজেলা কৃষি অফিসার জসিম উদ্দিন, সমাজসেবা অফিসার রাকেশ পাল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওমর ফারুক, সহকারী শিক্ষা অফিসার রাজন সাহা, বিআরডিবি অফিসার তপন কান্তি পাল, একাডেমীক সুপারভাইজার মো. আলাউদ্দিন প্রমুখ। তাদের এই কাজে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রেখে উৎসাহ প্রদান করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরীন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অসীম চন্দ্র বনিক এ প্রতিবেদককে বলেন, বৈশি^ক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে আজ কঠিন সংকট দেখা দিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক রাষ্ট্রীয় কাজ হিসেবে মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করতে আমরা সবাই বদ্ধপরিকর। দেশের এই ক্রান্তিকালে এমন সেবা প্রদান আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্য ও সার্থকতা বলে মনে করি। জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরীন স্যার সবসময় খোঁজখবর রাখছেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, জুড়ীতে কোন ধরণের অনিয়ম-অভিযোগ ছাড়াই উপকারভোগী পরিবারের সহায়তা তালিকা প্রণয়নে প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ গণমান্য ব্যক্তি কর্তৃক প্রেরিত প্রাথমিক তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের সময় যেসকল অসঙ্গতি ছিল তা দূর করে একটি ত্রুটিমুক্ত তালিকা প্রণয়ন করা হয়। সবাই আন্তরিকভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন। উপজেলা প্রশাসন তাদের কাজ ও ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে। সর্বোপরি শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সুষ্ঠু ভাবে সকল উপকারভোগীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত মানবিক সহায়তা নগদ অর্থ ২৫০০ করে পৌঁছে দিতে পারলেই এটাই হবে আমাদের পরম স্বার্থকতা। কাজ করতে গিয়ে মনের মাঝে একটাই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে যে, দেশের কল্যাণের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার প্রচেষ্ঠা ও ত্যাগের বিনিময়ে হলেও খুবই তাড়াতাড়ি যেন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

সর্বশেষ সংবাদ