March 31, 2020

করোনা আতঙ্কে কুলাউড়া হাসপাতাল এখন রোগীশূন্যে

কুলাউড়া  প্রতিনিধিঃ কোথাও কেউ নেই। চারিদিকে কবরের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। ৫০ শয্যা হাসপাতালের বেডগুলো এখন ধূ ধূ মরুভূমি। নার্স- ডাক্তাররা অলস সময় পার করছেন। একদিকে করোনার আতঙ্ক অন্যদিকে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে হাসপাতালমুখো হচ্ছেন না কোন রোগী। এটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র।
সরেজমিন বৃহস্পতিবার আড়াইটায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ইমারজেন্সী বিভাগ ও বর্হিবিভাগ জনশূন্য। বুধবার মাত্র ৯ জন ও বৃহস্পতিবার ১৯জন রোগী হাসপাতালের জরুরী বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৬জন রোগী। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় পুরুষ ওয়ার্ডে কোন রোগীকে পাওয়া যায়নি। আর মহিলা ওয়ার্ডে মাত্র ৬জন রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রণতী মালাকার (৩৫) নামে এক মহিলা রোগী শরীরে রক্তশূন্যতার কারণে হাসপাতালে ১৮ মার্চ ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের দিখলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া অলি উদ্দিন নামে আড়াইমাসের এক শিশু ছেলে টান্ডাজনিত রোগ (নিউমোনিয়ায়) আক্রান্ত হয়ে ২০ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হয়। সে উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের লংলা নতুন বস্তির বাসিন্দা মসু মিয়ার ছেলে। শিশু ছেলেকে বুকে আগলে রেগে বাবা হাসপাতালের ওয়ার্ডে হাঁটাহুটি করছেন। ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার জিহান নামে দুই মাসের এক শিশু ছেলে নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সে উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ভাটগাঁও এলাকার বাসিন্দা জুবেদ আহমদের ছেলে। আখি আক্তার (২৩) নামে এক ডেলিভারী রোগী ভর্তি হয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামে। সোহেল আহমদ (১৮) নামে এক ছেলে পেটে ব্যাথার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রেশমা বেগম (২৩) নামে আরেক মহিলা পেট ব্যাথার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার বাড়ি পৌর শহরের জয়পাশা এলাকায়। এদের বাইরে আর কোন রোগীকে ভর্তি হতে দেখা যায়নি।
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুটির বাবা মসু মিয়া বলেন, করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে আত্মীয় স্বজন কেউই তাঁর শিশু ছেলেকে হাসপাতালে দেখতে আসেনি। রোগীশূন্য হাসপাতালে একমাত্র শিশুপুত্রকে নিয়ে অনেকটা ভয়ে আছেন। শিশুটি কিছুটা সুস্থ হলেই হাসপাতাল থেকে চলে যাবেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিনিয়ত যেখানে হাসপাতালের বিভিন্ন ধরনের রোগীদের জায়গা দিতে হিমশিম খেতে হয়। বর্তমানে করোনা ভাইরাস আতঙ্কে প্রায় সপ্তাহ খানেক সময় ধরেই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ছিল খুবই কম। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের খবর শোনার পর জনমনে আতঙ্ক বেড়ে গেছে অনেকটা। সেক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউই হাসপাতালে আসতে চাচ্ছেন না। দিনে আউটডোরে ৩৫-৪০জন রোগী চিকিৎসকদের পরামর্শ নিলেও অনেকে ভয়ে ভর্তি হতে হচ্ছেন না। স্বাভাবিকভাবে জ্বর, সর্দি ও কাশি রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন ।
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক বলেন, মানুষ দেরিতে হলেও এখন কিছুটা সচেতন হচ্ছে। করোনা আতঙ্কের ভয়ে বাড়ি থেকে কেউ বের হতে না পারলেও আমাদের স্থানীয় ডাক্তারদের মাধ্যমে তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার জন্য আমরা পরামর্শ দিচ্ছি। বর্তমানে হাসপাতালে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এটা সত্য যে, এখন করোনা আতঙ্কে রোগীশূন্য রয়েছে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।’

সর্বশেষ সংবাদ