March 31, 2020

ধন্যবাদ মান্যবররা তবুও আমাদের গোলামি ঠিক থাকবে!   

মু. ইমাদ উদ দীন : গেল ক’দিন থেকে রাজপথে নেমেছেন আড়ুয়া (বোকা) সমাজ (সংবাদকর্মীরা)। যারা ক’দিন পর পর এমন করে চিল্লায় ও চেচামেচি করে। তারপর ওরা কবরে ডুকে যায়। কারন তাঁদের ওই আর্তনাদ রাষ্ট্রের বড় কর্তাদের কর্ণকুহরে পৌঁছায় না। আর পৌঁছালেও তা তাঁরা আমলে নেন না। কেননা তাঁদের দৃষ্টিতে ওই পেশার কর্মীরাই দেশের অন্যতম বোকারাম সম্প্রদায়। যারা আজ পর্যন্ত ঐক্যমতের ভিত্তিতে তাদের কোন দাবিই বাস্তবায়ন করতে পারলনা। অন্য পেশার দাবি আদায়ে অনড় থাকলে নিজেদের বেলায় ভিন্ন রুপ। চরম উদাসীন। নিজেদের ব্যাপারে মনের দৈন্যতা থাকায় রাষ্ট্র পক্ষের তাচ্ছিল্য আর অবহেলায়ই যাদের নিত্য নিয়তি। নি:স্বার্থে রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য খেয়ে না খেয়ে কাজ করতে করতে যখন তারা ক্লান্ত হয়। ঠিক তখনই যেন তাদের উপর শাস্তির খড়গ নামতেই হয়। এটাই যেন ওদের নির্ধারিত ভাগ্য। আর কাজের যথাযোগ্য পারিশ্রমিক। শোনেছি ও জেনেছি মিডিয়াকে বলা হয় রাষ্ট্রের চর্তুথ স্তম্ভ বা রাষ্ট্রের অতন্দ্র প্রহরী মানে খোলা চোখ। ফুলিয়ে ফাপিয়ে মর্যাদা দিয়ে বলা হয় এই পেশা মহান ও পবিত্র। কিন্তু যুগ যুগ থেকে এপেশার কর্মীদের ভাগ্য বিড়ম্বনার চিরায়ত দৃশ্য দেখে এমনটি মোটেই মনেই হয়না। প্রকৃত দেশপ্রেমিক মানবতাবাদী এই পেশার কর্মীদের অত্যন্ত সুকৌশলে ও পরিকল্পিত ভাবেই হাতে মারা হচ্ছে। আর ভাতেও মারা হচ্ছে। এ ব্যথা এ কষ্ঠের বোবা কান্নায় নি:শব্দে দু চোখের অশ্রু জল নিজের শরীর ভেজাচ্ছে। কিন্তু মন গলাতে কিংবা বিন্দু মাত্র টলাতে পারেনি যাদের জন্য এপেশার কর্মীদের দিন রাত ছুটে চলা। যোগ্যতা, মেধা,মনন,দেশপ্রেম,মানবতা,নিষ্ঠা,সততা ও প্রকৃত দেশপ্রেমিক হয়ে যারা জেলা,উপজেলা থেকে উচ্চ পর্যায়ে পেশাধারীত্ব নিয়ে কাজ করছেন। তাদের জীবন জীবীকা কিংবা কল্যাণের জন্য রাষ্ট্র কি ভূমিকা রাখছে?  হ্যাঁ যদি বলি রাখছে। তা হলে বেশি দূর আগাব না। আর পেছনেও যাব না। সাগর রুনির কথা স্মরণ করে সরাসরি চলে আসি পাপিয়ার পাপ কান্ডে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক দেশের সৎ ও নির্ভিক সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক হাজার হাজার সাংবাদিকদের শিক্ষক ও আইডল শ্রদ্ধেয় মতিউর রহমান চৌধুরী ও মানবজমিনের ক্রাইম রিপোর্টার আল আমিনের উপর মিথ্যা মামলা। একজন আইন প্রণেতা (মহান জাতীয় সংসদ সদস্য) সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে আজব ও কান্ডজ্ঞানহীন এই মামলা করে তাঁর ক্ষমতা ও চূড়ান্ত দাম্ভিকতা দেখিয়েছেন। অথচ ওই সংবাদে তাঁকে জড়িয়ে কোন কথাই লিখা হয়নি। দেশের চলমান সাংবাদিক নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় তাঁর এই মহতি ও দেশবাসীর দৃষ্টি আর্কষনের প্রচেষ্ঠার মহান উদ্যোগ এই মামলার বাদী হওয়ায় তাঁকে অবশ্যই বাহ বাহ ও ধন্যবাদ দেওয়া আমাদের কর্তব্য নয় কি ? তাঁর এই মহান কান্ডজ্ঞানহীনতায় জাতি হতবাক ও কলংকিত হলেও আমি তাঁকে স্যালুট জানাই। কারন ঠাকুর ঘরে কে রে আমি কলা খাইনা। পাপিয়া কান্ডে হয়ত তাঁর এমন ত্রাহি অবস্থা নিজের বেলায় ডামাঢোল বাজার আগেই মোড় অন্য দিকেই ঘুরিয়ে দিয়েছেন। এমন বুদ্ধিমতায়ইতো পারে এমপি-মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধি বানাতে!  আমরা বোকারামরা ! তা বুজি  কেমনে? খেলারাম খেলে যায় আমরা শুধু তা প্রত্যক্ষ করি। কুঁড়ি গ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে ধরতে ডিসির নির্দেশে মধ্যরাতে ৪০ জন লোককে পাঠানো হল তার বাড়িতে। ঘরবাড়ি তছনছ করে জাহিলিয়াতের ন্যায় ধরে আনা হল তাকে। হাত, পা, চোখ বেঁধে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে চালানো হল অমানুষিক নির্যাতন। উলঙ্গ করে তোলা হয় ভিডিও চিত্র। সাদা কাগজে নেওয়া হয় স্বাক্ষর। একপর্যায়ে প্রস্তুতি চলে ক্রসফায়ারে দেওয়ার। তার দুই অবুজ সন্তানের দোহাই দিয়ে কেঁদে কেঁদে বাঁচার আকুতি জানান বার বার। যদি ওদের পাষান্ড হ্রদয় একটু টলে। কিন্তু শব যাত্রার এতো আয়োজন যার জন্য সেই কল সৈনিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যান জানেনা তার অপরাধ কি। বার বার করজোড়ে অপরাধ জানার আকুতি জানিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। অত:পর একপর্যায়ে ঘটনার নেপথ্যের কারিগর মাননীয় জেলা প্রশাসক এলেন। তাঁর উপর অর্পিত পবিত্র ও মহান ক্ষমতা বলে মধ্যরাতে আদালত বসিয়ে তাকে একমাসের কারাদন্ডও দিলেন। কারন রিগ্যান তো দেশ ও জাতির জন্য নিবেদিত হয়ে ওদের অপকর্মের কথা লিখে তাঁর দায়িত্ববোধ পালন করেছিলেন। ভাই আরিফুল ইসলাম রিগ্যান আপনি মাইন্ড করবেন না। রাষ্ট্র পক্ষ থেকে এটাইযে আমাদের প্রাপ্য ও ন্যায্য হক তা হয়ত আপনি, আমি ও আমরা মানে এই পেশার তরুণরা জানি না কিংবা বিশ্বাস করতে চাইনা। শুধু শুধু মনে দোলা দেয় জাতীয় শুদ্ধাচারের নামে রাষ্ট্রের কত শত টাকার যোগান কিন্তু আমাদের কর্তাদের একি হাল? ওরা কবে মানুষ হবে কে জানে। ঢাকার ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল,সাংবাদিক মাহাবুবুল হক পোলেন একই নির্মমতার শিকার। শ্রদ্ধাভাজন রাষ্ট্রের কর্ণধাররা ও প্রিয় দেশবাসী আমাদের কন্ঠ রোধ করার না প্রদক্ষেপের এই হল দু’একটি দৃশ্যমান নমুনা মাত্র। আর…! আমাদের রক্ষায় আপনাদের ঘুমন্ত বিবেক দয়া করে জাগ্রত করবেন কি না তা একটু ভেবে দেখবেন কি? আমরা না হয় মরে মরে বেঁচে থাকব। কিন্তু এমন চলমান বাস্তবতায় এপেশার ভবিষ্যত দশা কি হবে আপনাদের স্বার্থে তা নিয়ে চিন্তার একটু ফুরসদ হবে কি ? এখন এমন প্রশ্ন  এপেশার কর্মীদের মগজে ও মননে। তারপরও অভয় দিয়ে বলি মহামান্য মান্যবররা আপনারা আরো বিবেকহীন নির্দয় ও পাষান্ড হলেও আমাদের নিয়তিতে লিখা অখন্ডনের এই পেশাদারিত্বের গোলামি ঠিক থাকবে। কারন দেশ,জাতি ও মানুষের কল্যাণে নিবেদীত হওয়ার প্রত্যয়ে আমরা বোধ হয়ে মজে আছিযে। বুলন্দ আওয়াজেই বলি,জয় হোক মানবতা,মনুষত্ব ও বিবেক বোধের। চিরতরে নিপাত যাক বিকেহীন, পাষান্ড হিংসার হায়েনার আচরনের অভ্যস্ত অসভ্য স্বার্থপর অমানুষের দল। দানবমুক্ত হউক প্রাণ প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। পৌঁছাক উন্নতির চরম শিখরে। দেখি এ স্বপ্ন। রাখি এ প্রত্যাশা। সবার জন্য শুভকামনা নিরন্তর।

লেখক: সংবাদকর্মী, স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক মানবজমিন (মৌলভীবাজার), ১৬ মার্চ ২০২০

সর্বশেষ সংবাদ