April 1, 2020

আয়ারল্যান্ড ফেরৎ রহিমার সাথে এ কেমন নিষ্ঠুরতা?

স্টাফ রিপোর্টার : কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই রহিমা বেগম মিতা নামের এক নারীকে আয়ারল্যান্ড থেকে ধরে দেশে পাঠিয়ে দেয় সে দেশের ইমিগ্রেশন বিভাগ। দেশে পৌছে তার উপর অবিচার হয়েছে এমন বিষয়টি সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেন রহিমা। কিন্তু এ নিষ্ঠুরতার পর বিদায় নিতে পালেননা এই পৃথিবী থেকে। ভাগ্যক্রমে গলার রশি ছিড়ে বেঁচে গেলেন। প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে।
জানা গেছে, রহিমা বেগমের পৈতৃক বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আহসান হাবিব মেয়ে। ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে স্টুডেন্ট ভিসায় লন্ডন পাড়ি দেন। বিদেশে পাড়ি দেয়ার সময় এক পুত্র ও কন্যা সন্তান দেশে রেখে যান। লন্ডনে তিনি প্রায় ৫ বছর অবস্থান করেন। পরে লন্ডন থেকে পাড়ি দেন আয়্যারল্যান্ডে।
গত ১৭ জানুয়ারি রহিমা বেগম মিতাকে আয়ারল্যান্ড স্থানীয় সময় দূপুর আড়াইটার দিকে তার মালিকানা মিতাস বিউটি শেলুন, ইউনিট ৫, কিলারনি শপিং অরকেড (স্মল টেসকো) ৯৫/৯৬ নিউ ষ্ট্রিট, কিলারী,কো-কেরি, আয়ারল্যান্ড থেকে ধরে নিয়ে আসে ইমিগ্রেশনের লোক। ২ দিন আটকে রেখে কাতার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে ঢাকাস্থ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌছে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এক দিন ঢাকায় অবস্থানের পর তার ছেলে ইমন আহমেদ নিয়ে আসে মৌলভীবাজারে।
২৩ জানুয়ারি রাতে আয়ারল্যান্ড ইমিগ্রেশনের লোক জনের অবিচার সইতে না পেরে রহিমা গলায় রশি লাগিয়ে আত্মহত্যারপথ বেঁচে নেন। ভাগ্যক্রমে রশি ছিড়ে বেঁচে গেলেও গুরুত্বর আহত হন রহিমা। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোক উদ্ধার করে মধ্য রাতে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেন।
রহিমা বেগম জানান, আয়ারল্যান্ড ইমিগ্রেশনের লোক তাকে ধোকা দিয়ে এয়ারপোর্টে নিয়ে আসে। যদি উড়োজহাজে না উঠেন আমাকে তাকে লাশ বানিয়ে পাঠিয়ে দেবে। তারা বলে আপনার এ দেশে থাকার কোন অধিকার নাই। তারপর আমি বলি আমি কীভাবে যাবো আমার জীবনের মৃত্যু নিশ্চিত। আমার মা, বাবা কেউ নেই। কে আমাকে সাহায্য করবে। আমার থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। আমার সাবেক স্বামী আমাকে লন্ডন থাকা অবস্থায় প্রানে হত্যার হুমকি ফোনের মাধ্যমে বার বার দিতেন। এমনকি আমাকে প্রানে হত্যার জন্য আমার কাছে লিখিত পত্র লন্ডনে পাঠান। সেই পত্র আমি আশ্রয় (Asylum) এর ইন্টারভিউর সময় প্রমাণ হিসেবে জমা দেই। কোন কথা না শুনে আমাকে এয়ারপোর্টে নিয়ে যায়। রহিমা বেগমকে নিয়ে ইমিগ্রেশনের ৩ জন লোক উড়োজাহাজে উঠে শাহজালাল এয়ারপোর্টে নিয়ে আসে। উড়োজাহাজে ভেতর তারা ঠিকমত পানি পান করতে দেয়নি। বাথরুমে গেলে দরজাও বন্ধ করতে দেয়নি।

রহিমা আরো জানান, তিনি মানসিক হাসপাতাল লন্ডন ও আয়ারল্যান্ড নিয়মিত চিকিৎসা ও চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ সেবন করতেন। আয়ারল্যান্ড গিয়ে বিউটি পার্লরের ব্যবসা শুরু করেন একটি দোকান ঠিক করে। দোকানের ভাড়া প্রতিমাসে ১ হাজার ইউরো পাউন্ড দিয়ে আসছেন। পাশাপাশি ইলেকট্রিক বিল, এরিয়া ট্যাক্স, ইনকাম ট্যাক্স দিয়েছেন। রয়েছেও তার পাবলিক সার্ভিস কার্ড।
তিনি প্রথম দুই বছর ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই আশ্রয়ে (Asylum) আসার পর প্রায় দুই বছর আয়ারল্যান্ড দুইটি স্কুলের সেচ্ছাসেবক এর কাজ করেন। এ ছাড়াও তিনি আমাদের Another Hostel Atlas House এ Merry Manager এর সহযোগিতায় সেলাই শিখানোর জন্য সরকার থেকে চারটি মিশিন বাড়িতে দেওয়া হয়। তাদের এক বছর সেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রশিক্ষণ দেন।
নিষ্ঠুরতার স্বীকার আয়ারল্যান্ড ফেরৎ রহিমা বেগম মিতা তার জীবের কষ্ঠার্জিত অর্জন ও সে দেশের বিউটি পার্লার সহ সকল কিছু ফিরে পেতে সকলের সহযোগীতা চান।

সর্বশেষ সংবাদ