January 19, 2020

না ফেরার দেশে ভাষা সেনানী রওশন আরা বাচ্চু, কুলাউড়ায় শোকের ছায়া

মাহফুজ শাকিল: সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভাষা সেনানী রওশন আরা বাচ্চু। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সোচ্চার মহীয়সী এই নারী আজ (৩ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১০টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৭ বছর। জীবদ্দশায় তিনি বলতেন, ‘ভাষা বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’ তাঁর মৃত্যুতে নিজ জন্মমাটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
রওশন আরা বাচ্চুর মেয়ে তাহমিদা খাতুন জানান, তাঁর মা দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
একই দিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তাঁকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এদিকে রওশন আরা বাচ্চুর ভাইপো জহির আহমেদ খান ডলার বলেন, আগামীকাল বুধবার সকাল ১১টায় কুলাউড়া নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাযার নামাজের পূর্বে উপজেলা প্রশাসন, কুলাউড়া থানা প্রশাসন, কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে রওশন আরা বাচ্চু সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সংগঠিত করা ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হলের ছাত্রীদের ভাষা আন্দোলনের পক্ষে সুসংগঠিত করেন। একুশে ফেব্র“য়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী প্রথম ছাত্রী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ভাষা সংগ্রামী এই নারী।
ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু ১৯৩২ সালের ১৭ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরের উছলাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা এ এম আরেফ আলী, মা মনিরুন্নেসা খাতুন। ১৯৪৭ সালে রওশন আরা বাচ্চু শিলং লেডি কিন স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৪৯ সালে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনে অনার্স পাস করেন। ১৯৬৫ সালে বিএড এবং ১৯৭৪ সালে ইতিহাসে এমএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে রওশন আরা বাচ্চু ‘গণতান্ত্রিক প্রগ্রেসিভ ফ্রন্ট’-যোগ দিয়ে ছাত্ররাজনীতি শুরু করেন। তিনি সলিমুল্লাহ মুসলিম হল এবং উইম্যান স্টুডেন্টস্ রেসিডেন্স এর সদস্য নির্বাচিত হন। রওশন আরা বাচ্চু কুলাউড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন (১৯৫৮-১৯৬২)।

সর্বশেষ সংবাদ