December 12, 2019

কুলাউড়ায় রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

কুলাউড়া প্রতিনিধি: কুলাউড়া উপজেলার পুষাইনগর হতে ভুকশিমইল ইউপি সড়কের গৌরিশংকর এলাকায় কাজের অনিয়মের অভিযোগ করে প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেয় স্থানীয় এলাকাবাসী। এসময় স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তার কাজে নিয়োজিত রুলার গাড়ি আটকে দিলে প্রায় ঘন্টা খানেক সময় রাস্তায় গাড়ি-চলাচল বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হয়। পরে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনের প্রতিশ্র“তি দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা শান্ত হয় এবং কাজ চালিয়ে যাওয়ার সম্মতি দেয়।
কুলাউড়া এলজিইডি ও স্থানীয় এলাকা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সেকেন্ড রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্র“ভমেন্ট প্রজেক্ট (আরটিআইপি-২) প্রকল্পের আওতায় কুলাউড়া উপজেলার পুষাইনগর আরএন্ডএইচ সড়ক হতে ভূকশিমইল ইউপি অফিস পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার রাস্তা মেরামতে ১০ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকার বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান মুহিবুর রহমান নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের ১৯ মে কাজটি শুরু হয়। কাজ শেষ হবার সময়সীমা আগামী বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার উপজেলার পুষাইনগর-ভূকশিমইল সড়কের গৌরীশঙ্কর এলাকায় কাজে অনিয়ম হচ্ছে দেখে সকাল ১১ টায় কাজ বন্ধ করে দেয় স্থানীয় এলাকাবাসী। প্রায় দেড় ঘন্টা কাজ বন্ধ রাখার পর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসতিয়াক হাসান ও ঠিকাদার মুহিবুর রহমান ঘটনাস্থলে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি , রাস্তা কার্পেটিংয়ে ৩ ইঞ্চি পরিমাণ ঢালাই হওয়ার কথা। কিন্তুু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ১ ইঞ্চি পরিমাণে কাজ করছে। আবার রাস্তার অনেক জায়গায় আধা ইঞ্চি পরিমাণেরও কাজ হয়েছে। কার্পেটিং করার পর হাত দিয়ে টানলে তা উঠে যাচ্ছে। কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি।
কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার মো. মুহিবুর রহমান জানান, রাস্তার কাজ চলমান আছে। এই রাস্তায় প্রাইম কোড করা হয়েছে মাত্র। কাজ শেষ হলে এই কাজ অনেক মজবুত হবে। চলমান কাজে কোন অনিয়ম হলে সেটা আমরা ঠিক করে দিব। শিডিউল অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিকভাবে ১ ইঞ্চি পরিমাণে কাজ হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন ভুল বুঝে কাজে বাঁধা দিয়েছে। পরে উপজেলা প্রকৌশলীসহ এলাকার গণমাণ্য ব্যক্তিদের সাথে কাজের শিডিউল দেখিয়ে বুঝানোর পর কাজ শুরু হয়। এই ভুল বুঝাবুঝির কারণে কিছুটা সময় কাজ বন্ধ ছিলো।
উপজেলা প্রকৌশলী মু. ইসতিয়াক হাসান বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে শিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। এলাকাবাসী মনে করেছে ৩ ইঞ্চি পরিমাণে পিছ ঢালাই কাজ হবার কথা। কিন্তুু তাদের ভুল বুঝাবুঝির কারণে কাজ কিছুক্ষণ বন্ধ ছিলো। নতুন ঢালাই কাজে স্থানীয় এলাকার কিছু লোকজন পিছের ঢালাই তুলে নেয়। পরে ঠিকাদারের উপস্থিতিতে এলাকাবাসীকে কাজের শিডিউলের (ইস্টিমিট) কপি দেখানো এবং বুঝানোর পর তারা মূল বিষয়টি বুঝতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদ