December 12, 2019

বিএনপি এখন ভঙ্গুর, হাটছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে- কুলাউড়া আ’লীগের সম্মেলনে আহমদ হোসেন

মাহফুজ শাকিল : কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, এই সরকার জনবান্ধব ও উন্নয়নের সরকার। বিএনপির আসল সমস্যা হলো ভারত বিদ্বেষী। কারণ তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় ভারতের সাথে দেশের উন্নয়নে কোন চুক্তিও করতে পারেনি। আওয়ামীলীগ সরকার প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সকল দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার।

রোববার দুপুরে কুলাউড়া স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সম্মেলন অধিবেশনের আলোচনা সভায় তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, বিএনপি এখন ভঙ্গুর। তারা এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দূর্নীতির দায়ে এখন জেলে আছেন। খালেদা জিয়াকে যদি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিতে চান তাহলে হাইকোর্টের জামিন নিতে হবে অথবা প্যারেলে মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। সরকার সেটি বিবেচনা করে দেখবে। একমাত্র আদালতই সিদ্ধান্ত নিবে তিনি মুক্তি পাবেন কি না। এটা সরকারের কোন সিদ্ধান্ত না। উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিতে পারছেন না এটা বিএনপির চরম ব্যর্থতা। খালেদা জিয়া আর কোন দিন এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। দেশের যদি উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শান্তি চান তাহলে আ’লীগ সরকারকে বার বার নির্বাচিত করতে হবে। তরুণ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে পড়ো, বঙ্গবন্ধুকে জানো তাহলে বাংলাদেশকে জানতে পারবে। দূর্নীতি ও বিভিন্ন অপকর্ম যারা করবে তাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দলের মধ্যে থেকে ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করতে হবে। ত্যাগীদের দিয়ে দল সাজাতে হবে, ত্যাগীরা দলের জন্য কাজ করবে আর ভোগীরা সুবিধা ভোগ করবে এটা কখনো হবে না। প্রবীণ ও তারুন্যদের দিয়ে কুলাউড়া আ’লীগের নতুন কমিটি গঠিত হবে। দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বন্ধ করতে হবে। জামায়াত থেকে যারা এসেছে তাদের দলে রাখা যাবেনা। বিএনপি ক্ষমতায় এসে রাজাকারদের সংসদে নিয়ে এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছিলো। এই দেশে আর রাজাকারদের কোন স্থান নেই। তবে বিএনপি থেকে যদি ক্লিন ইমেজের ভাল কোন নেতা আসে তাহলে তাকে দলে নেয়া যাবে। কিন্তুু যারা অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের দলে নেয়া যাবেনা। আমরা চাই ইমানদার আ’লীগ। কুলাউড়া হবে শেখ হাসিনার আ’লীগের একটি শক্তিশালী দূর্গ বলে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি খ্যাত মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় সংগীত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুলাউড়া স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে সম্মেলন উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. নেছার আহমদ এমপি। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের আলোচনা সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ এমপিকে বেঈমান আখ্যায়িত করে বলেন, সংগঠনের নেতাদের বুকে ছুরি মেরে আপনি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলেন। আপনাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সভাপতি, ডাকসুর ভিপি, এমপি ও আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বানিয়েছেন। অথচও আপনি দলের সাথে বেঈমানী করেছেন। আওয়ামীলীগে এমন বেঈমানের কখনো ঠাই হবেনা।

আলোচনা সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য ও সাবেক সিলেট সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাবেক চীফ হুইপ মো. আব্দুস শহীদ এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, সাবেক এমপি ও বিগত নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী এম এম শাহীন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক নওশের আলী খোকন, সহ-সভাপতি অপূর্ব কান্তি ধর, সাংগঠনিক সম্পাদক রাধা পদ দেব সজল, জেলা যুবলীগের সভাপতি নাহিদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রেজাউর রহমান সুমনসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সভাপতি/সম্পাদকসহ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া কাউন্সিলে সভাপতি/সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে সকাল থেকেই বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা উপজেলা সদরের সম্মেলন স্থলে জড়ো হন। এসময় প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের স্লোগান ও মিছিলে মুখরিত হয় সম্মেলন স্থল। এছাড়া সম্মেলনস্থল ছাড়াও শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী প্রার্থীদের পক্ষে উপজেলা জুড়ে বিলবোর্ড ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। শহরে ও তৃণমূলের হাটবাজারে সম্মেলনের আসা সম্ভাব্য অতিথিদের পোষ্টার ব্যাপকভাবে সাঁটানো হয়েছে। অতিথিদের সম্মানে বেশ কয়েকটি তোরণ ও গেইট নির্মাণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ