November 19, 2019

বিশ্ব শক্তিগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বে পারস্য উপসাগর

রায়হান আহমেদ তপাদার : পৃথিবীতে এমন অনেক স্থান বা এলাকা রয়েছে, যা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। এই স্বাতন্ত্র্য কখনো কখনো ঐ স্থানকে মহিমান্বিত করে তোলে। পারস্য উপসাগর এমনি একটি স্থান, যা সুদূর অতীতকাল থেকেই ঐতিহাসিক ও ভূগোলবিদদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত পারস্য উপসাগর হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর একটির লালনক্ষেত্র। বিশ্বে চারটি সাগর রয়েছে বলে প্রাচীন গ্রীকরা উল্লেখ করেছে। আর এই চারটির একটি হচ্ছে পারস্য উপসাগর। এই পারস্য উপসাগরীয় রাজনীতিতে নতুন একটি মাত্রা যুক্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সৌদি আরব সফর, আরব-ইসলামিক-আমেরিকান শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান এবং সৌদি আরবকে ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির চুক্তির পরপরই দুটো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে এ অঞ্চলে; যা পারস্য উপসাগরীয় তথা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে আগামী দিনে। পারস্য উপসাগরের গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে আমেরিকার একজন নৌকৌশল বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলফ্রেড টি.মাহান অভিমত পোষণ করেন, মধ্যপ্রাচ্য শুধুমাত্র ভূরাজনৈতিক অবস্থানগত এবং সামরিক কৌশলগত কারণেই গুরুত্বপূর্ণ নহে, পারস্য উপসাগরের কারণেও পশ্চিমা বিশ্বের নিকট এ অঞ্চলের গুরুত্ব সর্বাপেক্ষা বেশি। আর তেলের আবিষ্কার ও উত্তোলন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও কৌশলগত চিত্রই বদলে দেয়। বিশেষ করে, পশ্চিমে লিবিয়া থেকে পূর্বে ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল ভূখন্ডে পারস্য উপসাগর বরাবর এলাকায় তেলের বিশাল ভান্ডার আবিস্কার এই অঞ্চলকে বিশ্বের নব্য এক শক্তিতে পরিণত করে এবং এ অঞ্চলকে ঘিরে তাই বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটই বদলে যায়।

ফলে শুরু হয় পারস্য উপসাগর তথা মধ্যপ্রাচ্য দখলে বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিশ্ব শক্তিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা ও শত্রুতাপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কারণ-মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রণ মানে-তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ। মধ্যপ্রাচ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ মানে-পারস্য উপসাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ। আর পারস্য উপসাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ মানে-পূর্ব-পশ্চিমের নৌযোগাযোগ, ট্রেডরুট ও তেল বাণিজ্যের বৃহৎ নৌরুটের ওপর আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। অর্থাৎ সার্বিক অর্থে, ভূরাজনীতি ও ভূকৌশলগত অবস্থানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দ্বারা বিশ্বের ওপর প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ আয়ত্ব করা সম্ভব হবে বলেই বিশ্বশক্তিগুলো এ অঞ্চলের প্রতি গভীর আগ্রহী হয়ে ওঠেছিলো অতীত থেকেই।
রাজনৈতিক ইতিহাসবিদগণের মতে, ১৭৯৮ সালে নেপোলিয়নের সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক মিসর অভিযান ও দখলের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে বহিঃশক্তির মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আগমনের যে সূচনা ঘটেছিলো, সে ধারা এখনো অবধি অব্যাহত আছে। বর্তমানের একবিংশ শতকেও বাইরের বৃহৎ শক্তিগুলো এ অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব, আধিপত্য এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সামরিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং অন্যান্য অসামরিক উপায়ে ও পদ্ধতিতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো সহ চীন, রাশিয়া, আমেরিকা, ভারতসহ শিল্পোন্নত এবং সামরিক শক্তি সম্পন্ন অন্যান্য বৃহৎ শক্তিগুলোর আগ্রহের কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো, এর ভূরাজনৈতিক ও ভূকৌশলগত অবস্থান তথা পারস্য উপসাগর। পারস্য উপসাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বব্যবস্থার ওপর খবরদারি করার সুযোগ ত্বরান্বিত হয় বলেই সুদুর অতীত থেকে বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায়ও পারস্য উপসাগরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়।

পারস্য উপসাগরের গুরুত্ব এ কারণে যে, ঐ উপসাগরের উপকূলে রয়েছে বিশ্বের প্রধান প্রধান তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী রাষ্ট্রসমূহ। এগুলো হলো-ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আবর, কাতার, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও স্টেইট অব ওমান। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে সংঘাতপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধ, সংঘাত, সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান, শিয়া-সুন্নী দ্বন্দ্ব, প্যালেস্টাইন-ইসরাইল দ্বন্দ্ব যুদ্ধ এবং বৃহৎ শক্তির দ্বারা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আধিপত্য স্থাপনের প্রচেষ্টা ইত্যাদি কারণে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল সামরিকায়িত ও যুদ্ধপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে দশকের পর দশক ধরে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়কালে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে ধরনের শত্রুতামূলক উত্তপ্ত সম্পর্ক বিরাজ করছে তাতে যেকোনো সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বের মোট তেল সম্পদের অর্ধেকেরও বেশি তেলের মজুত মধ্যপ্রাচ্যে থাকার কারণে এ অঞ্চলের ওপর উন্নত-বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টি নিবদ্ধ এ কারণে যে, এ অঞ্চলের তেল প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে বা এর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারালে-বিশেষ করে শিল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি মারাত্মকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়ার আশংকা থাকে। ফলে সামরিক অস্ত্র উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ার আশংকা আছে বলেই এ অঞ্চলের ওপর আধিপত্য, প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার জন্য বৃহৎ শক্তিগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংঘাতপূর্ণ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে, যার লক্ষ্য হলো-এ অঞ্চলের তেল সম্পদ, বাজার মূলধন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভূকৌশলগত অবস্থান ও ভূরাজনীতির ওপর নিজেদের আধিপত্য কায়েম করা অথবা এগুলোকে নিজেদের অনুকূলেও আয়ত্তাধীনে রাখা। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য স্থাপন করতে গিয়ে বৃহৎশক্তিগুলো পুরো অঞ্চলকে একটা বিপজ্জনক সামরিকায়িত অঞ্চলে পরিণত করে ফেলেছে সেটা বেশ লক্ষণীয়।

এর ফলে গোটা বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকির সৃষ্টি হয়েছে। তবে শুধুমাত্র বর্তমান শতাব্দীতেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে বহিঃশক্তির আগ্রাসন, প্রভাব প্রতিপত্তি স্থাপনের জন্য প্রতিযোগিতা, সংঘাত, যুদ্ধ ইত্যাদি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসছে। বিশ্বের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের অতীব গুরুত্বের পিছনের কারণ বেশ স্পষ্ট। যেমন; ভূ-রাজনৈতিক, ভূ-কৌশলগত অবস্থান এবং জ্বালানী তেলের প্রাচুর্যতা। এ তিনটি কারণে মধ্যপ্রাচ্য বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হয়ে ওঠেছে এ কারণে যে, বিশ্বব্যবস্থায় প্রভাব বৃদ্ধি ও আধিপত্য স্থাপনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের নৌরুট খ্যাত পারসিয়ান গালফ, হরমুজ প্রণালী ইত্যাদি পানি প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করা অপরিহার্য। কারণ, পূর্ব-পশ্চিমের নৌ যোগাযোগের মাধ্যম হলো মধ্যপ্রাচ্যের নৌরুট। অন্যদিকে, বিশ্বের জ্বালানী তেলের মোট মজুতের ৫৫% শতাংশ মজুতই রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এই জ্বালানী তেল হচ্ছে বৃহৎ শক্তিসমূহ এবং শিল্প উন্নত দেশগুলোর সামরিক শিল্প এবং অন্যান্য শিল্পসহ গোটা অর্থনৈতিক শিল্প শক্তির চালিকা শক্তি। শুধু যে তেলের কারণেই পারস্য উপসাগরের প্রতি এতোটা গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে, সেটা নয়-বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হওয়ার কারণেও পারস্য উপসাগরের গুরুত্ব সমধিক। পৃথিবীর পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম এবং পশ্চিম হতে পূর্বাঞ্চলের নৌযোগাযোগের মাধ্যম হলো পারস্য উপসাগর। হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্বের সর্বাধিক তেল-গ্যাস বাণিজ্য সম্পাদিত হয়ে থাকে। তাই মধ্যপ্রাচ্য তথা পারস্য উপসাগরকে পূর্ব-পশ্চিম বিশ্বের মধ্যে যোগাযোগের গেটওয়ে হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরে আমেরিকার একক কর্তৃত্ব, নেতৃত্ব ও আধিপত্য ভেঙ্গে পড়েছে।

ইরান, চীন ও রাশিয়া আমেরিকার আধিপত্যবাদী ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। গোটা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী রাষ্ট্র ও শক্তির উদ্ভব হওয়ার এবং এসব রাষ্ট্রগুলোর প্রতি চীন ও রাশিয়ার সমর্থন থাকার কারণে আমেরিকা এখন এ অঞ্চলের ওপর এককভাবে খবরদারি করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল ধরে চলে আসা বৃহৎ শক্তিগুলোর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ ও দখলদারিত্ব স্থাপন বা বজায় রাখার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল ও যুদ্ধ প্রবণ অঞ্চলে পরিণত করে রেখেছে-যা তথাকার জনগণকে বিপজ্জনক অবস্থায় পতিত করেছে। ইতিহাস থেকে দেখা যায়, গত পাঁচশ বছর কাল সময় জুড়ে পারস্য উপসাগরে কমপক্ষে চারটা পশ্চিমা বৃহৎ শক্তি আধিপত্য স্থাপন করেছিলো। ষোল শতক থেকে ঊনবিংশ শতক সময়কালে পর্তুগীজ, ডাচ ও বৃটিশ-এ তিন বৃহৎ শক্তি পারস্য উপসাগরে আধিপত্য স্থাপন করেছিলো। ইতিহাস থেকে দেখা যায়, পৃথিবীর অতীতকালের বিশ্বশক্তিগুলো থেকে বর্তমান বিশ্বের বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রায় সবকটি পারস্য উপসাগরে নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য স্থাপন করেছিলো বা আধিপত্য স্থাপনের জন্য চেষ্টা করেছিলো। ফলে পারস্য উপসাগর সর্বকালেই সংঘাতপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে ইতিহাসে। পারস্য উপসাগরের ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্পদ, যেমন-তেল, গ্যাস, মাৎস্য সম্পদ, মণিমুক্তা ইত্যাদির কারণে যেমন-তেমনি এর ভূরাজনীতি ও ভূকৌশলগত কারণেও অনেক বৃহৎ শক্তি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ঐ অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল ছিলো। এ অঞ্চল যেমন তেল ও গ্যাস সম্পদ সমৃদ্ধ, তেমনি বিশ্বের প্রধান তেল রপ্তানীকারকও অঞ্চলটা। ফলে নিজেদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক, ব্যবসায়িক ও রাজ্য বিস্তারের সুবিধার্থে পারস্য উপসাগরের পানির ওপর কর্তৃত্ব স্থাপনের জন্য বৃহৎ রাষ্ট্রগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল ধরে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলো।

এবং এর ধারাবাহিকতায় একটা বৃহৎ শক্তিকে হটিয়ে দিয়ে অন্য বৃহৎ শক্তি পারস্য অঞ্চলে আধিপত্য স্থাপন করেছিলো এবং সে ধারা এখনো অব্যাহত আছে।
অপরদিকে সিরিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি যখন এমনিতেই উত্তপ্ত, ঠিক তখনই সৌদি-কাতার দ্বন্দ্ব ও তেহরানে সন্ত্রাসী হামলা নতুন একটি মাত্রা এনে দিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপপ্রধান রেজা সেইফুল্লাহ ‘প্রতিশোধ’ নেয়ার কথা বলেছেন। এখন দেখতে হবে ইরান এ হামলার প্রতিক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত নেয়। তবে স্পষ্টতই মধ্যপ্রাচ্য তথা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে। এ উত্তেজনা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে তা বিশ্ব রাজনীতিতে একটি পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে ইরানের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে স্ট্রেইট অব হরমুজ বা হরমুজ প্রণালী, যে প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরের তেল বহির্বিশ্বে যায়। বিশ্বে সমুদ্রপথে যে পরিমাণ তেল পরিবহন করা হয়, তার ২০ ভাগ এ পথে পরিবাহিত হয়, যার পরিমাণ প্রতিদিন ১৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ব্যারেল। সুতরাং এ অঞ্চলে যে কোনো দ্বন্দ্বে এই জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে। অন্যদিকে কাতারে রয়েছে বিশ্বের বড় গ্যাস রিজার্ভ। প্রতি মাসে বিশ্বে যে পরিমাণ তরল গ্যাস (এলএনজি) রফতানি হয়, তার মধ্যে কাতার একাই সরবরাহ করে ৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন কিউবিক মিটার। কাতারের এলএনজি ও পাইপলাইনে সরবরাহকৃত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল আরব আমিরাত। এমনকি ভারত, জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া কাতার থেকে এলএনজি ক্রয় করে। এই এলএনজি সরবরাহে যদি বিঘ্ন ঘটে, তাহলে বিশ্বে উত্তেজনা বাড়বে।

শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট
raihan567@yahoo.com

সর্বশেষ সংবাদ