November 19, 2019

প্রসংঙ্গ : কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন ও কিছু কথা

রাহাদুজ্জামান রাজু : বহুল প্রতিক্ষিত কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ’র সম্মেলনের মাধ্যমে পূনরায় কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ’র অতীত ঐতিহ্য ফিরে আসার আশায় বুক বাধছেন কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

মৌলভীবাজার জেলায় এক সময়ের সবচেয়ে বেশি সাংগঠনিক শক্তিশালী দল কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ বর্তমানে রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারনে দুই ভাগে বিভক্ত।

যার কারণে আওয়ামী লীগের ঘাটি খ্যাত কুলাউড়ায় আওয়ামী লীগ’র শত্রু আওয়ামী লীগ। যার শুরু হয়েছিল বিগত পৌরসভা নির্বাচন এর মাধ্যমে। পৌরসভা নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের একপক্ষ নৌকা প্রতীকের জন্য মনোনীত করেছিল উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এ কে এম সফি আহমদ সলমান সাহেবকে অপর আরেকটি পক্ষ মনোনীত করেছিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সফি আলম ইউনুস সাহেবকে।
পরবর্তীতে স্বয়ং আওয়ামীলীগ সভানেত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা মহোদয়া নৌকা প্রতীক তুলে দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এ কে এম সফি আহমদ সলমান সাহেব এর হাতে।
যেটা অপর পক্ষ মেনে নিতে না পেরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সফি আলম ইউনুস সাহেবকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করে নৌকা প্রতীকের পরাজয় ঘটায়।

সেখান থেকে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং আওয়ামীলীগের সকল সহযোগী সংগঠন। সেই থেকে একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ’র সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু সাহেব। অপরাংশকের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এ কে এম সফি আহমদ সলমান সাহেব। পরবর্তীতে আসল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সেখানে দুই ভাগে বিভক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগ’র নেতৃত্বের কারণে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক ত্যাগী এবং নিবেদিত আওয়ামী পরিবারের সন্তান নৌকা প্রতীক থেকে বঞ্চিত হন। যেটা মেনে নিতে পারে নাই তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী পরিবারের মানুষ।
যার ফলাফল হিসাবে নৌকা প্রতীকের ভরা ডুবি হয়, ১৩ টা ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ৪ টা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক বিজয়ী হয়।
উল্লেখ্য, উপজেলা আওয়ামী লীগ’র একাংশের প্রধান উপজেলা আওয়ামী লীগ’র সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু সাহেব ও ভূকশিমইন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে পরাজিত হন।

তার পর আসল জাতীয় নির্বাচন যেখানে উভয় গ্রুপ’র একাধিক প্রার্থী নৌকা প্রতীক’র জন্য লবিং শুরু করেন। যার কারণে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা মহোদয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ’র উভয় গ্রুপকে ব্যাতিরেখে কুলাউড়ায় নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করার জন্য মহাজোট শরীক বিকল্প ধারার এম এম শাহীন সাহেবকে বিকল্প ধারার নিজস্ব প্রতীক ব্যাতিরেখে সরাসরি নৌকা প্রতীক দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগকে নির্দেশ পাঠালেন দীর্ঘদিন থেকে বিভক্ত উপজেলা আওয়ামীলীগ এক হয়ে নৌকা প্রতীককে যেন বিজয়ী করেন।

নৌকা প্রতীক কে বিজয়ী করার জন্য আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ মহল এর চেষ্টায় দীর্ঘদিন থেকে বিভক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগ কে এক করা হয়।
কিন্তু আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে আবারো শুরু হয় বিরোধ সেই বিরোধের জের ধরে আবারো দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। কিন্তু নৌকা প্রতীক এর প্রার্থী কোন গ্রুপের না হয়ায় বিভক্ত হলেও নৌকা প্রতীক কে বিজয়ী করার জন্য দিনরাত খেয়ে না খেয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়েও শেষ রক্ষা সম্ভব হয় নি।
কারণ উপজেলা আওয়ামী লীগের এই বিরোধের সুবাদে সুযোগ নেয় বিরোধী পক্ষ যার সুবাদে জাতীয় নির্বাচনেও অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে প্রথম বারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নির্বাচিত হয় কুলাউড়ায় (মৌলভীবাজার ০২ আসনে)। তার পর আসল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন যেখানে নৌকা প্রতীক পেলেন তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব বিষয়ক সম্পাদক আ স ম কামরুল ইসলাম কিন্তু আওয়ামী লীগ মনোনীত মহাজোট শরীক দল ছাড়া বাকি দল গুলো নির্বাচন বর্জন করায় আওয়ামী লীগ’র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল নির্বাচন কে উৎসব মুখর করতে নৌকা প্রতীকের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী অংশ নেয়ার ব্যাপারে উন্মুক্ত করে দিলেন।
তখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে অপর গ্রুপের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী করা হল গ্রুপের প্রধান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এ কে এম সফি আহমদ সলমান সাহেব কে। আবার নতুন করে শুরু হল দুই গ্রুপের আধিপত্যের লড়াই উপজেলা থেকে শুরু করে পৌরসভা হয়ে ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড হয়ে গ্রাম পর্যন্ত জমে উঠল দুই গ্রুপের জমজমাট নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। চারিদিকে হৈচৈ শুরু হল, এবার বুঝা যাবে কুলাউড়ায় শুধু আওয়ামী লীগ নয় কোন গ্রুপের গ্রহণ যোগ্যতা সাধারণ মানুষের কাছে ও বেশি।
শুরু হল নির্বাচন সেখানে বিশাল ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হলেন সতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগ’র একাংশের প্রধান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ এ কে এম সফি আহমদ সলমান সাহেব।

সম্মানিত মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের শ্রদ্ধেয় নেতৃবৃন্দ আমি একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এবং বঞ্চিত আওয়ামী পরিবারের সন্তান হিসাবে আপনাদের কাছে আকুল আবেদন দীর্ঘদিন থেকে বিভক্ত আমাদের কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উভয় পক্ষ কে এক করে উভয় গ্রুপের সমঝোতার মাধ্যমে সুন্দর একটা কমিটি উপহারের মাধ্যমে আগামীর সকল নির্বাচনে উন্নয়নের প্রতীক স্বাধীনতার প্রতীক নৌকা মার্কা কে বিজয়ী করতে একটি শক্তিশালী কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আমাদের উপহার দেয়ার জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি।-রাহাদুজ্জামান রাজু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগ

সর্বশেষ সংবাদ