December 12, 2019

মুহিম খানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন ব্যবসায়ী রউফ আহমেদ

কুলাউড়ার চাতল গাও গ্রামের ব্যবসায়ী রউফ আহমেদ শিবলু গত ৩০ সেপ্টেম্বর কুলাউড়া পৌরমিলনায়তনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাঈদ খান শাওনের পিতা মুহিম খানের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ করেন—

উপস্থিত প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা আসসালামু আলাইকুম।
আমি রউফ আহমেদ শিবলু, পিতা মৃত আব্দুল মালিক মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর
ইউনিয়নের উত্তর চাতলগাঁও এর বাসিন্দা। আমি মৌলভীবাজার জেলা নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন কুলাউড়া উপজেলা শাখার কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমি দীর্ঘদিন থেকে ঠিকাদারী ব্যবসার সাথে জড়িত।
আমার পার্শ¦বর্তী বাড়ীর চাচা মোঃ মুহিম খান, পিতা মৃত মোঃ মনোহর খান ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগে পার্টনারশিপে একটি ইটভাটার কাজ শুরু করার সময় ইট দেয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে নগদ ২২ লাখ টাকা ও আমার বন্ধু বান্ধবদের কাছ থেকে আরো ৬ লাখ টাকা নেন। ইটের মেমো তৈরী না হওয়ায় তিনি ষ্টাম্পে এফিডেবিট করে একটি চুক্তিনামা আমার সাথে সম্পাদন করেন। মেমো তৈরী হলে পরবর্তীতে আমাকে মেমো দেয়ার কথা থাকলেও পরবর্তিতে তিনি আমাকে মেমো কিংবা কোন ইট না দেয়ায় চাচার সাথে আমার ঝগড়া বাধে।
তিনি দক্ষিণভাগ থেকে ইটের ব্যবসা গুটিয়ে আসার পর টাকা নিয়ে আমার ও আমার বন্ধুবান্ধবদের ঝগড়া চলতে থাকাবস্থায় তিনি আমার বন্ধু নুর বাসারকে তিনি ৪ লাখ টাকা, খলিলের পাওনা বাবদ আমার কাছে আরো দেড় লাখ টাকা দেন। এর পর তিনি আমাকে আর কোন টাকা দেননি। টাকা নিয়ে উনার সাথে মৌখিক ঝগড়া চলতে থাকলে তিনি প্রায় এক বছর আগে আমাদের গ্রামের কৃতি সন্তান এম. মছব্বির আলীর কাছে আমাদের মধ্যের লেনদেনের বিষয়টি সুরাহা করার প্রস্তাব দিলে এম. মছব্বির আলী গত বছরের আগষ্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে উনার অফিসে আমাদের গ্রামের ১৫/২০ জন লোকদের নিয়ে আমাদের সাথে বসেন। উক্ত বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর আমি উনার কাছে ২০ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাবো বলে তিনি জানান। ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আমি দাবী করলেও উপস্থিত সবাই আমার চাচা মুহিম খানের স্বীকারোক্তি মতো ২০ লাখ টাকা আমাকে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ৫ মাসের মধ্যে তিনি আমার টাকা পরিশোধ করবেন বলে সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তিতে ১৬/৮/২০১৮ তারিখে তা ষ্টাম্পের মাধ্যমে চুক্তিনামা করা হয়।
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,
ষ্টাম্প সম্পাদন করার কিছুদিন পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে উনার তিনজন এবং আমার তিনজন লোক নিয়ে সালিশ করে যে রায় হবে সে টাকা তিনি সাথে সাথে দেয়ার প্রস্তাব দিলে আমি সালিশে রাজী হয়ে যাই। কুলাউড়া দক্ষিণবাজারস্থ উনার সমিতির অফিসে পরবর্তীতে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্টিত হয়। জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ মানিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সালিশে আমার পক্ষে পৌর কাউন্সিলর ইকবাল আহমদ শামিম, সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতই ও আমার গ্রামের এম. মছব্বির আলী এবং আমার চাচার পক্ষে কুলাউড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামিম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস এম জামান মতিন ও আইনজীবি সহকারী আব্দুর রহিম সালিশে অংশ নেন। প্রায় ২ মাস এভাবে সালিশ বৈঠক হবার পর আমাকে নগদ ১৭ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হলেও তিনি পরে জানাইবেন বলিয়া চলিয়া যান। এর পর থেকে তিনি আমার ফোনও ধরেন না। বাড়ীতে গেলেও আমি উনাকে পাইনা। গত রমজানের ঈদের আগে কুলাউড়া শহরে উনাকে পেয়ে টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় ঈদের পরে টাকা দিবেন বলে চলে যান।
ঈদের পরদিন বিকেল বেলা আমি কুলাউড়া আসার সময় মনসুর ঈদগাহের কাছে আসলে চাচা মুহিম খান ও উনার দুই ছেলে সাঈদ খান শাওন (কেন্দ্রীয় ছাত্রীগের সহ সম্পাদক) ও নাঈদ খান নয়ন মোটরসাইকেল যোগে কুলাউড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। আমাকে দেখে সাইকেল থামিয়ে আমার দিকে আসেন। আমি চাচাকে সালাম দেই আর পিছন থেকে উনার ছেলেরা আমাকে গালি গালাজ আরম্ভ করে অকথ্য ভাষায়, তাদের ব্যবহারে আমি হতবাক হয়ে যাই, শাওন বলে আমার আব্বার সাথে টাকা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করলে ৬৪ জেলায় আমার নামে মামলা দিয়ে ঘরে থাকা হারাম করে দিবে। পুলিশ ও ছাত্রলীগ দিয়ে পিটিয়ে হাড় গুড়া করে দিবে, গুম ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে বেশি বাড়াবাড়ি করলে মোটরসাইকেল দিয়ে আমাকে পিষে মেরে ফেলবো। আমি ঘটনাটি গ্রামের কয়েক জনকে জানাই। ঐ দিন রাতেই আমার হার্টঅ্যাটাক হয়।
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,
আমি সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা করাইয়া বাড়ীতে এসে এখন মানবেতর জীবন যাপন করছি।
আমি নিরুপায় হয়ে উত্তর চাতল গাও জামে মসজিদের পঞ্চায়েতের কাছে বিচার প্রার্থী হলে গত ৩০ আগষ্ট শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর পঞ্চায়েত প্রধান মোঃ ইসহাক আলীর বাড়ীতে এ নিয়ে এক বিচার অনুষ্টিত হয়। উক্ত বিচারে চাচা মুহিম খান ও উনার দুই ছেলে নয়ন ও শোভন উপস্থিত ছিলেন। চাচার স্বীকারোক্তি মতো বিচারের সিদ্ধান্ত হয় আমার পাওনা ২০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা অথবা উক্ত টাকার সমপরিমান ২০ শতক জমি আমাকে দেয়ার জন্য। চাচা মুহিম খান পঞ্চায়েতের কাছে একদিনের সময় চেয়ে চলে যান। পরবর্তীতে তিনি আর পঞ্চায়েতের ডাকে সাড়া না দেয়ায় গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ তাহির মিয়ার বাড়িতে মসজিদের মোতাওয়াল্লী মোঃ ইসহাক আলী সাহেবের সভাপতিত্বে পঞ্চয়েতের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চয়েতের ডাকে সাড়া না দেয়া ও পঞ্চয়েতের রায় না মানার কারণে উক্ত সভায় উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে মোঃ মুহিম খানকে পঞ্চায়েতের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,
বর্তমানে আমি মানবেতর জীবন যাপন করছি, তার উপর মুহিম খানের ছেলের মামলা হামলার হুমকিতে আমি ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
মুহিম খান এর কাছ থেকে আমার পাওনা টাকা আদায় করতে ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আপনাদের মাধ্যমে আমি প্রশাসনসহ সমাজের সকল স্তরের বিবেকবান মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করছি।
পরিশেষে আমাকে আপনাদের মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য আমি ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বিনীত
মোঃ রউফ আহমদ শিবলু
মোবা-০১৭১২-৮৯৩১০৬
তারিখ-৩০ সেপ্টেম্বর-২০১৯

কুলাউড়ায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতার পিতার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সর্বশেষ সংবাদ