December 12, 2019

কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জির পাহারাদার ইসমত হত্যা- হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ৫ আসামির জবানবন্দি

কুলাউড়া প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নের লম্বাছড়া খাসিয়া পুঞ্জির পাহারাদার ইসমত আহমদকে নির্মমভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ৫আসামী। বুধবার মৌলভীবাজার বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে ইসমত হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃত ৫ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে এ কথা জানায়। তাকে এলোপাতাড়িভাবে লাঠিপেটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাতের পর তার মৃত্যু হয়। এরপর তার লাশ পুঁটিছড়া ও লম্বাছড়া পুঞ্জির পাহাড়ি ছড়ার পাশে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
গত ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে ৪ দিন নিখোঁজ থাকার পর পুলিশ উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ঘড়গাঁও গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মৃত ইছহাক আলীর ছেলে ইসমত আহমদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে কর্মধার লম্বাছড়া পুঞ্জি থেকে। ওইদিন রাতে ইসমত হত্যার সঙ্গে জড়িত গারো ও খাসিয়া সম্প্রদায়ের ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে কুলাউড়া থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- লম্বাছড়া পুঞ্জির বাসিন্দা প্রনলা (৪০), আশা হাকিডক (২২), রিয়া রিচিল (২২), সনি পলেন ওরফে জুয়েল (২৫), সজিব (২৭) ও রোকেয়া বেগম (৩০)।
এ ঘটনায় ১৬ অক্টোবর দুপুরে নিহতের ছোট ভাই মো. আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা (নং-১০) দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘ইসমত কর্মধা ইউনিয়নের আসকরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ফেরদৌস আহমদের মালিকানাধীন লম্বাছড়া পুঞ্জির একটি টিলায় পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করতো। ১১ অক্টোবর রাত থেকে তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। সে মদ খেয়ে আশেপাশে টিলায় বসবাসরত খাসিয়া ও গারো সম্প্রদায়ের লোকজনকে গালাগালি এবং মারধর করতো। ঘটনার দিন গত ১১ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে ইসমত লম্বাছড়ায় পাহারার দায়িত্বে থাকা জাহিদের ঘরের পাশে গিয়ে তার স্ত্রীকে গালিগালাজ এবং দা দিয়ে ঘরের দেয়ালে কোপাতে থাকে। এসময় লম্বাছড়া পুঞ্জির মালিক ফেরদৌস আহমদকে ওইখানে বসবাসরত বাসিন্দারা বিষয়টি জানান। এসময় ফেরদৌসের নির্দেশে ওই এলাকার বাসিন্দা ডাইব্যার স্ত্রী প্রনলা লাঠি দিয়ে ইসমতের পেছন দিক থেকে আঘাত করেন। এতে ইসমত মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে একে একে ওই পাহাড়ে বসবাসরত গারো ও খাসিয়া পরিবারে বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ ইসমতকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যার পর লাশ পার্শ্ববর্তী পুঁটিছড়ার একটি ছড়ার পাশে মাটিতে পুঁতে রাখে।’ এর আগে ১৪ অক্টোবর পুঞ্জির মালিক ফেরদৌস আহমদের স্ত্রী রোকেয়া বেগম কুলাউড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর কুলাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহিম জিবান বিষয়টি তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুর রহিম জিবান বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় নিহত ইসমতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। রোকেয়া বেগম বাদে গ্রেপ্তার হওয়া ৫ আসামী হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামী ফেরদৌসসহ জড়িত বাকি ১২ জনকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ