December 12, 2019

কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জি থেকে যুবকের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার

কুলাউড়া প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কর্মধায় নিখোঁজের ৪দিন পর ইসমত আহমদ (২৫) নাম এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে সাড়ে ৮টায় কর্মধা ইউনিয়নের লম্বাছড়া খাসিয়া পুঞ্জি থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইসমত উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মৃত ইছহাক আলীর ছেলে। এ ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে মঙ্গলবার থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-১০) দায়ের করেছেন নিহত ইসমতের ভাই আব্দুস সামাদ। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসমত আহমদ উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের আসকরাবাদ এলাকার বাসিন্দা ছত্তার শাহ’র ছেলে মামলার প্রধান আসামী ফেরদৌস মিয়ার দখলকৃত লম্বাছড়া পুঞ্জিতে (পাহারাদার) হিসেবে চাকুরী করতো এবং সবসময় ফেরদৌসের নিয়ন্ত্রণে থাকতো। ১১ অক্টোবর থেকে ইছমত আলীর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর পরিবারের স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। ১৪ অক্টোবর সোমবার প্রধান আসামী ফেরদৌস আহমদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গত ১৩ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় প্রধান আসামী ফেরদৌসের স্ত্রী নিহতের স্বজনদের কাছে ফোন করে জানতে চায় ইসমত বাড়িতে এসেছে কিনা। তখন ইসমতের স্বজনরা জানান সে বাড়িতে যায়নি। ১১ অক্টোবর শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টায় উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের লম্বাছড়া ২৫ একর এলাকায় মামলার ২নং আসামী প্রনলার বসত বাড়ীতে মদ্যপান করে আক্রমণ করে ইসমত আহমদ। তখন প্রনলার লোকজন প্রধান আসামী ফেরদৌসকে অবগত করলে ফেরদৌস তাদেরকে বলে ইসমতের হাত-পা ভেঙ্গে দিতে। ফেরদৌসের হুকুমে পরস্পর যোগসাজশে মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামী প্রনলা, আশা হাকিডক, রিয়া রিচিল, জুয়েল (সনি পলেন), সাজিব, ফেরদৌসের স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও পলাতক ডাইব্যা মিলে তাদের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুঁপিয়ে ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে ইসমতের লাশ প্রধান আসামী ফেরদৌসের নির্দেশে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সাঁড়াশি তল্লাশি চালিয়ে ইসমতের লাশ উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে ১৭জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত ৬জনকে গ্রেপ্তার করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামীসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ