November 19, 2019

আগামীকাল জুড়ী আ’লীগের কাউন্সিল,চাপিয়ে দেয়া নেতৃত্ব মানবেনা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা

মাহফুজ শাকিল, জুড়ী থেকে ফিরে : মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা গঠনের পনের বছর পর এই প্রথম আগামীকাল ১২ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। জুড়ী উপজেলা সদরে অবস্থিত শিশুপার্ক চত্ত্বরে শনিবার সকাল ১১টায় সম্মেলন শুরু হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাংসদ মো. নেছার আহমদ। দীর্ঘ প্রত্যাশিত এই কাউন্সিলে চাপিয়ে দেয়া কোন কমিটি নয়, কাউন্সিলারদের ভোটেই যেন নেতৃত্ব নির্বাচন হয় এমন প্রত্যাশা তৃণমূল নেতাকর্মীদের।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৬ আগস্ট জুড়ীকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষণা করা হয়। একই বছরের ২৮ নভেম্বর আব্দুল খালিক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করে জেলা আওয়ামী লীগ। নব্বই দিনের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা থাকলেও দীর্ঘ ১৫ বছরে তা করতে ব্যর্থ হয় আহ্বায়ক কমিটি। পরবর্তীতে আর সম্মেলন হয়নি। এর মধ্যে আব্দুল খালিকের মৃত্যু হলে আহবায়কের দায়িত্ব পান আজির উদ্দিন। তিনিও মৃত্যুবরণ করলে দায়িত্ব পান যুগ্ম আহবায়ক বদরুল হোসেন।
এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বেশ প্রাণ চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁরা তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সভাপতি পদে উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান আহবায়ক বদরুল ইসলাম ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস শহীদ চৌধুরী খুশি প্রার্থী হচ্ছেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মাসুক আহমদ, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল খালিক, কুলাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, যুবলীগের সাবেক নেতা এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ও সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুল ইসলাম প্রার্থী হচ্ছেন। পদপ্রত্যাশী নেতাদের কেউ কেউ প্রার্থিতা ঘোষণা করে উপজেলা সদরে তোরণ নির্মাণ করেছেন। আবার কেউ কেউ ফেস্টুন স্থাপন করেছেন। নেতারা কাউন্সিলারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজেদের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্ঠা-তদবির চালাচ্ছেন।
দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ১৫বছরে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে খ্যাত জুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন বা কমিটি না হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়েছিল দলীয় কার্যক্রম। নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ বিরাজ করছিল। অবশেষে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের মরা গাঙ্গে বান ডেকেছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের মাঝে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে। তবে আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি তৃণমূলকর্মীদের মধ্যে অজানা আশংকা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলীয় কর্মীরা বলেন, শেষ পর্যন্ত কাউন্সিলররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কি না? কোন কমিটি চাপিয়ে দেয়া হবে কি না? পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে, না ছাত্রলীগ-যুবলীগের মত কমিটিহীন বা আংশিক কমিটি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হবে বছরের পর বছর ইত্যাদি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মৌলভীবাজার জেলায় প্রথম জুড়ী উপজেলার কাউন্সিল হচ্ছে। এই কাউন্সিলের উপর জেলার অন্যান্য উপজেলার কাউন্সিল নির্ভর করছে। পুরো জেলাবাসী জুড়ীর দিকে তাকিয়ে আছে। সবার প্রত্যাশা তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমেই যেন নেতৃত্ব তৈরি করা হয়। চাপিয়ে দেয়া কোন নেতৃত্ব তৃণমূল মেনে নেবে না।

জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাংসদ মো. নেছার আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, কাউন্সিল ও সম্মেলনের সকল প্রস্তুুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সুষ্টু ও সুন্দর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত জুড়ী আ’লীগের কাউন্সিল হবে।

সর্বশেষ সংবাদ