December 12, 2019

কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার মিশন হাসপাতাল-ডাক্তার ডেভিড কর্তৃক রোগীকে শ্লীলতাহানি নিয়ে ধুম্রজাল

ইকবাল হোসেন রিজন :  কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার খ্রীস্টিয়ান মিশন হাসপাতালের সিনিয়র ডাক্তার (ইনচার্জ) ডাঃ ডেভিড তন্ময়ের বিরুদ্ধে অপারেশনের এক রোগীকে শ্লীলতাহানির ঘটনা নিয়ে ধু¤্রজাল তৈরী হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রোগীর আত্মীয়ের দেয়া অভিযোগ পত্র নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অপারেশনের তারিখ ও অভিযোগপত্রের তারিখের সাথে কোন মিল নেই। রোগীর অপারেশন ৩১ আগষ্ট হলেও অভিযোগপত্রে ১৫ সেপ্টেম্বর উল্লেখ করা হয়। তাছাড়া অভিযোগকারী রোগীর ভর্তি ও অপারেশনের সময় দেয়া সাক্ষরের সাথে কোন মিল নেই। তিনটি কাগছে তিন রকমের সাক্ষর দেন তিনি।
হাসপাতালের রেজিষ্টার ঘেটে দেখা যায় ৩১ আগষ্ট সকাল ৮টায় অপারেশন হলে ১৯ সেপ্টেম্বর চেকআপ করা হয় এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রোগীর সেলাই কাটা হয়।
৭ অক্টোবর রোগীর খালাতো ভাই জসিম উদ্দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে জানায় সেলাই কাটার সময় ডাক্তার ডেবিট রোগীর হাতে ও গালে অশ্লিলভাবে হাত দেন।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঐ দিনই প্রজেক্টের ডিরেক্টর ফাল্গুনী সরকার ঢাকা থেকে হাসপাতালে এসে ঘটনা আমলে নিয়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যরা হলেন, খ্রীস্টিয়ান হাসপাতাল প্রধান অফিসের হিসাব রক্ষক মি. রবিন সরকার, ব্রাহ্মণবাজার মিশন হাসপাতালের হিসাবরক্ষক ডেভিড দফাদার, হাসপাতালের মেডিকেল সহকারী মোঃ আসাদুজ্জামান, হাসপাতালের অন্য একটি প্রকল্পের হিসাব রক্ষক নৌয়েল বারই। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটিতে যুক্ত হন হাসপাতালের সিনিয়র রিসিপশনিস্ট মেরী বিশ^াস ও ডাক্তারের সহকারী এলি বিশ^াস। এ ঘটনায় গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হয়েছে। রোগীর সাথে সরাসরি আলাপ করে ও হাসপাতালের তৎকালীন সময়ে কর্তব্যরত স্টাফদের সাথে আলোচনা করে ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সকল নথিপত্র পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে এই অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাজার খ্রীষ্টিয়ান স্বাস্থ্য প্রকল্পের ডিরেক্টর ফাল্গুনী সরকার। তিনি বলেন, গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এবং অভিযোগকারী সহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং অভিযোগকারীর আত্মীয়স্বজনসহ যাচাই বাচাই সাপেক্ষে এবং অভিযোগকারীর স্বীকারোক্তী অনুযায়ী উক্ত অভিযোগের কোনরুপ সত্যতা পাওয়া যায়নি। উক্ত অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট, ষড়যন্ত্রমুলক এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত, যা ব্রাহ্মণবাজার মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি স্বার্থন্বেষী মহলের চক্রান্ত। অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে বৃহস্পতিবার প্িরতবাদ জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, কুলাউড়া ব্রাহ্মণবাজার খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালটি দীর্ঘ দিন ধরে এতদ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মাঝে স্বল্পমুল্যে আধুনিক মানের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে এবং এই হাসপাতালের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরিক্ষাসহ স্বাস্থ্যসেবার ভালমানের কারণে এর সুনাম এই অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে। গত দুই বছরে এই হাসপাতালে প্রায় সাড়ে সাতশত রোগীর সিজার করানো হয়েছে। কোন রোগী কর্তৃক ডাক্তারের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উঠেনি। এছাড়া এই হাসপাতালের সিনিয়র ডাক্তার (ইনচার্জ) ডা. ডেভিড তন্ময় একজন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন গাইনী বিশেষজ্ঞ ও ধর্মভীরু মানুষ। হাসপাতাল ও ডাক্তারের সুনামের কারণে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিক্রিয়াশীল কোন গোষ্ঠীর প্ররোচনায় হাসপাতালের সুনাম নষ্ট করার মানসে সম্পূর্ণ চক্রান্ত করে একটি সংবাদ বেশ কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার রিমা আক্তার নামীয় রোগীটি বর্তমানে বাচ্চাসহ সম্পুর্ণ সুস্থ আছেন। চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে তার সাথে কোনরূপ অসৌজন্যমূলক বা শ্লীলতাহানির কোন আচরণ করা হয়নি। রোগীর আত্মীয় জসীম উদ্দিন সম্পূর্ণরুপে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এই অভিযোগ করেছেন।
এদিকে ৯ অক্টোবর বৃধবার রাতে রাতে বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজন এবং অভিযোগকারীকে নিয়ে এক সমঝোতা বৈঠকে বিষয়টি নিষ্পতি হওয়ায় অভিযোগকারী আপোষনামায় সাক্ষর করার পরও কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করায় দুঃখ প্রকাশ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ সংবাদ