October 22, 2019

জুড়ীতে ফল বিক্রেতার রহস্যজনক মৃত্যু, আদালতে হত্যা মামলা দায়ের

জুড়ী, (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা সদরের পোষ্ট অফিস রোডস্থ রেল কলোনীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী ধন মিয়া (৪২) গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে পোষ্ট অফিস রোডস্থ জান্নাত ফার্মেসীর পিছনে অবস্থিত জহির উদ্দিন শামীমের বোডিং এ মৃত্যু বরন করলে ওই দিন ভোরে বোর্ডিং কর্তৃপক্ষ নিজেরাই তার লাশ বের করে পুলিশকে অবহিত না করে তাড়াহুড়া করে দাফন করে ফেলেছেন। এ নিয়ে তার স্বজনদের মনে সন্দেহ হলে তারা ২ অক্টোরব বোর্ডিং এর স্বত্তাধিকারী পূর্ব বেলাগাঁও নিবাসী মোঃ মোসলেহ উদ্দিন (সাবেক চেয়ারম্যান) এর পুত্র জহির উদ্দিন শামীম (৪২), মৃত রইছ উদ্দিনের পুত্র ইব্রাহিম আলী ইরফান (৫৫) সহ অজ্ঞাত নামা ব্যাক্তিদের আসামী করে মৃতের ভাতিজা পশ্চিম বেলাগাঁও গ্রামের মোঃ রমজান আলীর পুত্র জসিম উদ্দিন (২৮) বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৫নং আমল আদালত মৌলভীবাজারে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পিবিআই মৌলভীবাজারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন। আদালতে দেয়া দরখাস্ত সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদ আলী ধনা একজন মৌসুমী ফলের বিক্রেতা ও বাদাম বিক্রেতা ছিলেন। জান্নাত ফার্মেসীর সম্মুখেই তিনি ব্যবসা করতেন। স্ত্রী, ছেলে মেয়েদের নিয়ে পোষ্ট অফিস রোডের রেল কলোনিতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে দোকানদারী করে বোডিং এ থেকে যান। ওই দিন রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত যে কোন সময়ে তাকে হত্যা করা হয় মর্মে অভিযোগ আনেন বাদী। মৃত ব্যাক্তির আত্মীয় স্বজনকে অবহিত না করেই পোস্ট মর্টেম ছাড়া লাশ দাফন করায় তারা সন্দেহ বশতঃ হত্যা মামলা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মোহাম্মদ আলীর এক স্বজন জুড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মুজিবুর রহমান জানান, মোহাম্মদ আলীর অন্যান্য স্বজনরা আমার নিকট এলে আমি তাদের কথা শুনে তাদেরকে আদালতে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেই। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তার ছোট মেয়ে শারমিন কে হবিগঞ্জের এক বিবাহিত ব্যাক্তির নিকট বিয়ে দেওয়ার জন্য শামীম খুব চাপাচাপি করছিল। কিন্তু মোহাম্মদ আলী তাতে রাজি ছিল না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অনেক বাক বিতন্ডা হয়েছিল। ধারনা করছি এরই একপর্যায়ে শামীম এবং তার চাচা ইব্রাহিম আলী ইরফান হয়তো ওই রাতে বোডিং এ কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। আমরা আদালতকে জানিয়েছি অবিলম্ভে তার লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করা হলে রহস্য উদঘাটিত হবে। অভিযুক্ত জহির উদ্দীন শামীম বলেন, তার স্ত্রী, কন্যাগণের অনুরোধে পোস্ট মর্টেম ছাড়াই আমরা লাশ দাফন করেছি।

সর্বশেষ সংবাদ