October 22, 2019

কুলাউড়ার কানিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগে অনিয়ম

কুলাউড়া প্রতিনিধি : কুলাউড়ার কানিহাটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনরায় নিরীক্ষণের জন্য রবিবার জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী মো. দিদারুল আমিন। যার অনুলিপি মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের কিয়াতলা গ্রামের বাসিন্দা রুশন আলীর পুত্র মো. দিদারুল আমিন গত ২ অক্টোবর কানিহাটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার পদে প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় ২৪ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। মৌখিক পরীক্ষা শেষে ফলাফলে জানানো হয়, দিদারুল আমিন ও অন্য প্রার্থী তাজুল ইসলাম লিখিত পরীক্ষায় ২২ করে নম্বর পেয়েছেন। লিখিত, মৌখিক ও একাডেমীক সনদ বিবেচনায় দিদারুল ইসলাম দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন মর্মে জানানো হয়। ফলাফল নিয়ে বেশ ধু¤্রজাল সৃষ্টি হয়। জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মো. ফজল উদ্দিন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনোয়ারের যোগসাজশে নিয়োগ পরীক্ষায় ২য় স্থান অর্জন কারী তাজুল ইসলামকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে লিখিত পরীক্ষায় তার প্রাপ্ত ১৭ নম্বর কাটাকাটি করে ২২ নম্বর ও দিদারুল আমিনের প্রাপ্ত ২৪ নম্বর কাটাকাটি করে ২২ নম্বর দেয়া হয়। এদিকে একই বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ এনে নিয়োগ স্থগিত চেয়ে রবিবার জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে আরেকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য লোকমান আহমদ চৌধুরী ও মো. ছয়ফুল ইসলাম। তারা অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২ অক্টোবর বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা হয়। পরদিন ৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে কোন সভা না ডেকে নিয়োগের জন্য তাদের স্বাক্ষর নেওয়ার জোর চেষ্ঠা চালানো হয়। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সভা ডেকে আলোচনা করার প্রস্তাব দিলে প্রধান শিক্ষক তাদের কথায় কোন কর্ণপাত না করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অন্য অভিভাবক সদস্যদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। এছাড়া নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ২ স্থান অর্জনকারী প্রার্থীকে ১ম স্থানে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে। তাড়াহুড়ো করে মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিয়োগ অনুমোদনের চেষ্ঠা করা হয়। নিয়োগ পরীক্ষার দুইদিন পূর্বেই এলাকায় জানাজানি হয় যায় তাজুল ইসলামকে গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজল উদ্দিন জানান, নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনোয়ার জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় ৫জন প্রার্থীর মধ্যে দুই জন ২২ করে নাম্বার পেয়েছেন। সরকারী বিধি মোতাবেক নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ সংবাদ