October 22, 2019

কুলাউড়ার ভূকশিমইল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানবন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি: কুলাউড়ার ভূকশিমইল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একটি ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ এবং শৌচাগারের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে। এর আগে ৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে এলাকার প্রায় শতাধিক মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি অভিযোগ পত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে দেয়া হয়। যার অনুলিপি মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়।

৫ অক্টোবর শনিবার বিকেল ৫টায় ভূকশিমইল এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনিরের সভাপতিত্বে ও প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তণ ছাত্র সিরাজুল ইসলাম রাজুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য কালা মিয়া, সাবেক সদস্য মো. মাসুক মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য মো. রফিক মিয়া, ভূকশিমইল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বীরেন্দ্র কান্ত দাস, উপজেলা ছাত্রদলের সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, যুবলীগ নেতা রেজাউল ইসলাম রাজু, ভূকশিমইল যুব সমাজের সদস্য নজরুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ইব্রাহিম খা, মানিক মিয়া, পংকি মিয়া, ফরিদ মিয়া, কাদির মিয়া, হারুন মিয়া, মিসবাউল বাশার বাবু, ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান নিজাম, হোসাইন সৌরভ, জাকারিয়া আলম মিতুল প্রমুখ। এসময় মানববন্ধনে এলাকার প্রায় তিন শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। বিল্ডিংয়ের প্রতিটি পিলারে ৫/৬ সুতা রড দেয়ার কথা থাকলেও প্রতিটি পিলারে ৩/৪টি করে রড দেয়া হয়েছে। এমনকি বিল্ডিংয়ের ছাদে ৪ সুতা রড দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে ৩সুতা রড। বিল্ডিংয়ের ফ্লোরে মোজাইকের কাজে চিপ পাথর দিয়ে ঢালাই দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে যত সামান্য সিমেন্ট ব্যবহার করে বালু ও কংক্রিটের গুড়ো দিয়ে ঢালাই দেয়া হয়েছে। বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নজরে আসলে নড়েচড়ে বসে ম্যানেজিং কমিটি। তারা অভিযোগ করেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু প্রতিষ্ঠানের বিভিন্নি অনিয়মের সাথে জড়িত।

তিনি এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে হাত মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এরআগেও তিনি অপরিক্লপিতভাবে একটি ভবন নির্মাণ করিয়েছেন। রাতের আধারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজশে এই কাজ করেছে। ম্যানেজিং কমিটি অভিযোগকারীদের সাথে যোগাযোগ না করে প্রকৌশলী, ঠিকাদার, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে নিয়ে গোপনে বৈঠক করেছেন। এ নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে বিষয়টি ধাপা-চাপা দেবার পায়তারা করছে তারা। বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে চলমান কাজ বন্ধ করে নতুন করে কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারী দেন বক্তারা। কিন্তুু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যে কোন সময় বিল্ডিং ধসে পড়া নিয়ে রয়েছে সংশয়। অনিয়ম ও দূর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করে সুষ্টু ও মানসম্পন্ন কাজ করার জোরালো দাবি জানান।

জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের অধীনে ভূকশিমইল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বিদ্যমান একাডেমীক ভবনের আনুভূমিক (টয়লেট ব্লক) ও উর্দ্ধমুখী সম্প্রসারণ (২য় ও ৩য় তলা) পয়ঃপ্রনালী ও অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়নের জন্য প্রায় ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৪২ হাজার টাকার কাজটি পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুবের আহমদ। গত বছরের ৪ নভেম্বর কাজ শুরুর কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে চলতি বছরের মার্চ মাসে। কাজের সময়সীমা দেয়া হয় ৯ মাস।

কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার জুবের আহমদ জানান, বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। চিপ পাথরের পরিমাণ কম থাকায় কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছে। শুক্রবারের সভায় প্রতিষ্ঠানের সভাপতিসহ এলাকাবাসী কাজটি সুন্দর করে করার জন্য বলেছেন।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুলাউড়ার দায়িত্বে থাকা আবু সাঈদ মুহাম্মদ রাহী জানান, ঠিকাদারকে বলেছি যে কাজে অনিয়ম হয়েছে সেটা ভেঙ্গে নতুন করে কাজ করা হবে আমার উপস্থিতিতে। বাকি কাজগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে সিডিউল অনুযায়ী করা হয়েছে।

ভূকশিমইল স্কুল এন্ড কলেজের গভর্ণিং বডির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেণু জানান, বিষয়টি শুনে আমি তাৎক্ষণিক ঠিকাদারকে ডেকে আনি। প্রকৌশলীকে সামনে রেখে আমি ঠিকাদারকে কঠোরভাবে শাসিয়ে দেই। ঠিকাদার কাজটি সংশোধন করে করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আর আমার বিরুদ্ধে যারা না জেনে অভিযোগ করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি আদালতে মানহানির মামলা করবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাজের মানের ব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া হবে না।

সর্বশেষ সংবাদ