November 21, 2019

বড়লেখার ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি : বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ (দঃ) ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান আজির উদ্দিনের অনিয়ম দূর্ণীতির বিরুদ্ধে বিগত ৫ আগষ্ট ২০১৯ তারিখে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করি। তিনি অভিযোগটি তদন্তের জন্য মাননীয় সহকারী কমিশনার (ভুমি) মহোদয়কে দায়িত্ব প্রদান করেন। উক্ত অভিযোগের অনুলিপি সদয় অবগতির ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা ১। মাননীয় মন্ত্রী-বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২। মাননীয় সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ৩। মাননীয় বিভাগীয় কমিশনার-সিলেট বিভাগ, সিলেট। ৪। মাননীয় জেলা প্রশাসক, মৌলভীবাজার। ৫। মাননীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, বড়লেখা বরাবরে প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি এখন তদন্তাধীন রয়েছে। ৯ জন সদস্য এ ব্যাপারে ৮ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাব মৌলভীবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করেন তা হলো-
ইউপি পরিষদের ভূমি হস্তান্তর ফি ১% অর্থ ছাড় করে চেয়ারম্যান নিজে আত্মসাৎ করেন। বিভিন্ন মাসিক সভা ও বিভিন্ন সভায় আমাদের হাজিরা বহিতে উপস্থিতির সাক্ষর নিয়ে পরবর্তীতে রেজুলেশন করে আমাদের না জানাইয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে মর্মে রেজুলেশন প্রকাশ করেন। বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড কাবিটা, কাবিখা, টিআর, কর্মসৃজন/কর্মসূচী ও এডিপি ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকল্পে নিজের পছন্দমত লোক দিয়া আমাদেরকে না জানাইয়া প্রকল্প কমিটি গঠনসহ হাতে কলমে প্রজেক্ট দেখাইয়া অর্থ আত্মসাৎ করিয়াছেন। ৬০০০ (ছয় হাজার) হোল্ডিং নম্বর প্লেট (প্রতিটি ১০০/= টাকা হারে) বিতরণ করে টাকা আত্মসাৎ করিয়াছেন। ২০১৬/১৭, ২০১৭/১৮, ২০১৮/১৯ অর্থ বছরের টেক্স কালেকশন করে টাকা চেয়ারম্যান নিজে আত্মসাৎ করেন। জানুয়ারী ২০১৯ইং হইতে জুন/১৯ পর্যন্ত ভিজিডির টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন রাজস্ব আয় যেমন, নাগরিক সনদ, উত্তরাধিকারী সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, বাজার নিলাম, খোয়াড় নিলাম, জলমহাল নিলাম, তিনটি চা বাগান থেকে প্রতি বছর ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকাসহ লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় করলেও তা ব্যাংকে জমা না করে নিজের পকেটস্থ করিয়াছেন। পরিষদের আয় ব্যয়ের হিসেব চাইলে চেয়ারম্যান বা সচিব কেউ আমাদেরকে হিসেব দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আমরা লিখিতভাবে চেয়ারম্যান ও সচিব বরাবরে আয় ব্যয়ের হিসেব চাইলে অদ্যাবধি তারা কোন হিসেব দেননি অথবা কোন সদুত্তর দেননি।
সরকার নির্ধারিত আমাদের সম্মানীভাতা পরিষদের নির্ধারিত অংশের কোন টাকা আজও আমরা পাইনি। আমরা বার বার বলার পরও আমাদের সম্মানী ভাতা চেয়ারম্যান দেননি। যে কারণে আমরা বিগত ১৫ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে আমাদের পরিষদের সাবেক সচিব তপন দে চৌধুরীর বিরুদ্ধে মাননীয় জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দিলে তদন্তে তা প্রমানিত হওয়ায় তাকে অন্যত্র বদলী করা হয়।
নারী গঠিত কেলেংকারীর মাধ্যমে পরিষদের সম্মানহানী তিনি দীর্ঘদিন থেকে করে আসছেন। জনৈক এক মহিলাকে ইউনিয়ন পরিষদে এনে ঘন্টার পর ঘন্টা উনার রুমে বসিয়ে আড্ডা দেন। মাঝে মধ্যে উক্ত মহিলাকে প্রকাশ্যে টানা হেছড়াও করতে দেখা যায়। বর্ণিত বিষয়ে চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ অনৈতিক আচরণ এবং হুমকি ধামকি দিয়ে আমাদেরকে অপমানিত করেন। এক পর্যায়ে উক্ত জনৈক মহিলা লম্পট চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষনের বিচার চেয়ে দক্ষিণভাগ বাজারে মানববন্ধন এবং আদালতে মামলা দায়ের করেন। যা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। (মামলা নং-নাঃ শিঃ মৌঃ ৩০০/১৭)
আমরা চেয়ারম্যানের এহেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়ার কারণে চেয়ারম্যান তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি দেয়ায় আমাদের জীবন এখন দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে।
৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মদন সাহাকে লম্পট চেয়ারম্যান নিজে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। বিষয়টি তিনি সকলকে অবহিত করেছেন। চা শ্রমিক হওয়ায় তিনি এখন ঘর থেকে ভয়ে বের হচ্ছেন না।
গাংকুল গ্রামের ফাইমা আক্তার জুলেখা নামক এক মহিলাকে প্ররোচনা দিয়ে গত ৩/০৯/২০১৯ বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য সাহেদুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করান চেয়ারম্যান।
চেয়ারম্যানের এহেন দূণীতির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ইউপি সদস্যা পারুল বেগম দূণীতি দমন কমিশন (দুদকে) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যাহা তদন্তাধীন রয়েছে।
৭নং ওয়ার্ডের সদস্য আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে হুমকি ধামকিসহ তার মান সম্মান নষ্ট করার হীন উদ্যেশ্যে বিভিন্ন ভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে চেয়ারম্যান এর বাহিনীরা। চেয়ারম্যান এবং তার কথিত সন্ত্রাসী বাহিনী যে কোন সময় আমাদের উপর হামলা মামলা করতে পারে। আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
আমাদের লিখিত অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে এর তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিলে তিনি তদন্তে এসে খাতাপত্র কিছু না পেয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর তিনির অফিসে সরেজমিনে উপস্থিত থাকার জন্য আদেশ দিলে সেই তারিখেও চেয়ারম্যান প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রমানাদি নিয়ে উপস্থিত হননি।
বিধি মোতাবেক এলজিএসপির একাউন্টে একজন মহিলা সদস্যাকে এক বছর পর পরিবর্তন করার কথা থাকলেও সাড়ে তিন বছর থেকে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য চেয়ারম্যান উনার পছন্দের একজন মহিলা সদস্যকে দিয়ে একাউন্ট পরিচালনা করে আসছেন।
বিভিন্ন প্রকল্পে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যকে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান তার পছন্দের লোকদের দিয়ে প্রকল্প কমিটি দাখিল কওে টাকা আত্বসাৎ করেন।
আমরা উক্ত চেয়ারম্যানের নানা অনিয়নম ও দূর্ণীতি এবং স্বজনপ্রীতির ৩৬ ফর্দ্দ প্রমাণাদি সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার নিকট দাখিল করি। যাহার একস্টে অনুলিপি আপনাদেও নিকট প্রদান করিলাম। দয়া করে আপনারা তাহা গুরুত্ব দিয়ে পাঠ করলে বিস্তারিত অবগত হতে পারবেন এবং দূর্ণীতিবাজ চেয়ারম্যানের দূর্ণীতির চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরতে আপনাদের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
উক্ত চেয়ারম্যান ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাঁটিয়ে অহরহ নানা অনিয়ম, দূর্ণীতি ও স্বজনপ্রীতি করে যাচ্ছেন। তাকে স্বপদে বহাল রেখে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত কাজ সুষ্টভাবে পরিচালনা বিঘœ ঘটতে পারে বিধায় তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারন করে তদন্ত কাজ সম্পাদন করার জন্য আমরা আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু সুদৃষ্টি কামনা করছি।

বড়লেখার ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন

সর্বশেষ সংবাদ