September 19, 2019

কুলাউড়ায় সেই প্রধান শিক্ষক জেলহাজতে, ছেলে পলাতক

কুলাউড়া প্রতিনিধি : কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নির্যাতনের পর অর্ধনগ্ন করে ছবি তোলার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মোঃ মন্তাজ আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাঁর ছেলে মোঃ জাকারিয়া পলাতক রয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্কুলছাত্রীকে নির্যাতন ও অর্ধনগ্ন করে ছবি তোলার অভিযোগের সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসনসহ সমগ্র জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। গণমাধ্যমে সংবাদ দৃষ্টিগোচর হলে কুলাউড়া থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ পৃথক পৃথক তদন্তে নেমে ঘটনার সত্যতা পায়।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে নির্যাতিতা স্কুল ছাত্রীর ফুফু আমিনা আক্তার অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মন্তাজ আলী (৪৯) ও তাঁর ছেলে মোঃ জাকারিয়া (১৫) কে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা ( নং ১০) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মন্তাজ আলী বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানাকে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ফি প্রদানে বিলম্ব হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করতে তার ছেলে দশম শ্রেণী পড়–য়া জাকারিয়াকে দিয়ে অফিস কক্ষে ডেকে নেন। এসয় প্রধান শিক্ষক অফিসের দরজা বন্ধ করে এলোপাতাড়ি মারধর করলে ছাত্রীর পিঠে ও হাতের বিভিন্ন জায়গা ফুলে যায়।
এরপর পূর্বের ঘটনার জের ধরে ক্ষোভ মেটাতেই প্রধান শিক্ষক মন্তাজ আলী বুধবার ৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে নয়টায় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ডেকে নেন ওই স্কুলছাত্রীকে। এসময় অফিস কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে স্কুল ছাত্রীর পিঠের জখম দেখার কথা বলে তার পরনের কামিজ খুলে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে নির্যাতন করেন। এবং তার ছেলে জাকারিয়াকে দিয়ে মোবাইল ফোন দিয়ে কয়েকটি আপত্তিকর ছবি তুলেন। ছবি তোলার পর একথা কাউকে বললে ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করেন। উভয় ঘটনায় স্কুলছাত্রীর পিতা মোঃ মশাহিদ আলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করেন।
স্কুলছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তদন্তে সত্যতা মিললে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় ওই প্রধান শিক্ষককে অন্যত্র বদলীর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আইয়ুর উদ্দিন বলেন, একজন সহকারি শিক্ষা অফিসার ঘটনার সরেজমিন তদন্ত করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ দেখেই পুলিশ বিষয়টি আলাদা করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। নির্যাতিতা ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা হলে প্রধান শিক্ষক মন্তাজ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। অপর আসামী মো. জাকারিয়াকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

কুলাউড়ায় মারধরের প্রতিবাদ করা সেই ছাত্রীকে অর্ধনগ্ন করে ছবি তুললেন প্রধান শিক্ষক

সর্বশেষ সংবাদ