September 19, 2019

ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান প্রভাব

রায়হান আহমেদ তপাদার : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নৃশংসতার কথা তখন অনেকেই ভুলে গেছে। এর অস্তিত্ব তখন বইয়ের পাতায়, সিনেমার রূপালি পর্দায় কিংবা সামরিক জাদুঘরের ক্যাবিনেটে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিলো। ইউরোপের বড় রাষ্ট্রগুলো তখন শান্তিপূর্ণভাবে একজোট হয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলো। ঠিক তখন ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি যুগোস্লোভিয়াতে বিভক্তির গুঞ্জন শুরু হয়। যুগোস্লোভিয়ার রাষ্ট্রনায়ক মার্শাল টিটোর মৃত্যুর পর দেশটি বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর মাধ্যমে সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, মেসিডোনিয়া, বসনিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। কিন্তু ভিন্ন জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়। আঞ্চলিক নেতারা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। ফলে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে এক নৃশংস গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। মানব ইতিহাসে বলকানের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচ্চ মাত্রার আগ্রহের কারণ হলো এর ভূরাজনীতি ও ভূকৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব। এ অঞ্চলের ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক, সামরিক কৌশল এবং অর্থনৈতিক সংযোগ মূলত: ভূমধ্যসাগর ও এর অববাহিকার সাথে সংশ্লিষ্ট ও জড়িত। ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলকান হলো-ভূমধ্যসাগরের একটা উপদ্বীপ এবং অধিক সংখ্যক বলকান রাষ্ট্রই ভূমধ্যসাগরের অববাহিকায় অবস্থিত, যা বৃহত্তর ভূমধ্যসাগরের অবিচ্ছেদ্য অংশ বিশেষ। অন্যদিকে, অ্যাড্রিয়াটিড ও আইওনিয়ান সাগর উপকূল ও ভূমধ্যসাগরের অবিচ্ছেদ্য অংশ-যা ইতালির নিকটবর্তী এবং অত্রাঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে বিদেশী বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো বলকান অঞ্চলের প্রতি অতীতে যেমন আগ্রহী ছিল; বর্তমান সময়কালেও তেমনি আগ্রহী।

প্রাচীনকালে রোমান, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীন বা উসমানীয় সভ্যতা বলকানে সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য যুদ্ধ করেছিলো এবং স্থাপন করেছিলো সাম্রাজ্য। কিন্তু বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় জোর করে সাম্রাজ্য বিস্তারের ব্যবস্থা স্বীকৃত না হওয়ায় বর্তমান যুগের বৃহৎ শক্তিগুলো-বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নামে বলকান অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, বৃটেন প্রভৃতি রাষ্ট্রগুলো ঐ অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও নিজেদের প্রভাব-আধিপত্য স্থাপনে কাজ করছে। বিশেষ করে, আমেরিকা, রাশিয়া ও চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণভাবে বলকানের ওপর প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট রয়েছে। তিনটা বৃহৎ শক্তিই বলকানের সাথে স্বার্থ ও নিরাপত্তা জড়িত রয়েছে বলে মনে করছে। ভূকৌশলগত গুরুত্বের কারণেই সুদূর অতীতকাল থেকেই বৃহৎ শক্তিগুলো ঐ অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারে যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হয়েছিলো এবং এমনকি সাম্রাজ্য বিস্তার ও স্থাপন করেছিলো। বলকানে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিলো প্রাচীন গ্রীক, বাইজেন্টাইন, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয়ান, সার্বস, রোমান, নরমান এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের নৃপতিরা। এ সকল বিজেতা শাসকরা বলকানে সাম্রাজ্য স্থাপনের পাশাপাশি সাথে করে নিয়ে আসেন নিজেদের ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ধর্ম ও সভ্যতার সকল অনুসঙ্গ। ফলে বলকান অঞ্চলে বহুজাতিক সমাজ, ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির বিস্তার ও বিকাশ ঘটেছিলো। আর সমাবেশ ঘটেছিলো বহুবর্ণের, মিশ্রভাষার, সংস্কৃতির এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী বহুজাতিক লোক সমাজের। এ কারণে, গবেষক ও বিশেষজ্ঞ জনেরা বলকান অঞ্চলকে বহুজাতিক মানুষের-মিক্সিংপয়েন্ট’ এবং মেল্টিংপট অব রেসেস বলে অভিহিত করে থাকেন।

ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের অবস্থান হলো এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের মধ্যস্থলে। এর তিনদিক সমুদ্র বেষ্টিত এবং একদিক নদীবেষ্টিত। তিন সীমান্তর পশ্চিম দিকে অ্যাড্রিয়াটিক সাগর ও ভূমধ্যসাগর। দক্ষিণ সীমান্তে আজিয়ান সাগর এবং পূর্ব সীমান্ত জুড়ে রয়েছে মার্মারা ও কৃষ্ণ সাগর। আর উত্তর-পূর্ব সীমান্তে রয়েছে দানিউব, সাভা ও কুফা নদী। এ চার সীমান্তের ভেতরে বলকান অঞ্চলের মোট আয়তন হলো ৫,৫০,০০০ বর্গমাইল এবং মোট লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি। বর্তমান বলকান অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলো হলো-আলবেনিয়া, বসনিয়া-হার্জেগোবিনা, কসোভা, বুলগেরিয়া, ক্রুয়েশিয়া, হাঙ্গেুরী গ্রীস, মেসোডোনিয়া, মন্টেনিগ্রো, মলদোভা, রুমানিয়া, সার্বিয়া ও শ্লোভাকিয়া।তুরস্কের ইউরোপীয় অঞ্চলকেও বলকানের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। বলকানের তিন হাজার বছরের ইতিহাসের সূচনাকাল হতে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের ভূরাজনীতি, অর্থনৈতিক সম্পদের প্রাচুর্যতা এবং ভূকৌশলগত অবস্থানের কারণে অত্রাঞ্চলের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিশ্বজনীনভাবে স্বীকৃত।ভৌগোলিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত বলকান অঞ্চল তার তিন হাজার বছরের ইতিহাসে পৃথিবীর শক্তিমান বৃহৎ শক্তিগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলো এবং আছে। কারণ, ভূরাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য, বিশ্বব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তারের জন্য বলকান অঞ্চলের ভূকৌশলগত গুরুত্ব বৃহৎশক্তিগুলোর জন্য অপরিহার্য একটি বিষয়।
বুলগেরিয়া থেকে পূর্ব সার্বিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বলকান পর্বতমালার নামে এ অঞ্চলটিরও নাম ‘বলকান অঞ্চল’ বা ‘বলকান উপদ্বীপ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলো বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন।

অপরদিকে অভ্যন্তরীণ সাংস্কৃতির বিকাশ, উন্নতি ও মিশ্র বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সমাজ বিকাশে অত্রাঞ্চলের ভূরাজনীতি ও ভূকৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।বলকান অঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলো-বিশেষ করে দানিউব নদী প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেতু হিসেবে কাজ করেছিলো। আর, ৫০ মাইল দীর্ঘ অটরান্টো প্রণালী ছিলো বলকান এবং পশ্চিম ইউরোপীয় সভ্যতার মধ্যে সংযোগ ও যোগাযোগ রক্ষার অন্যতম উৎস এবং এখান থেকে পূর্ব ইতালি, ডালমাটিয়ার ভূখন্ড, মন্টেনেগ্রো, ইপিরাস, আলবেনিয়া ও পেলোপনিয়াস, পশ্চিম ইউরোপ ও বলকানের সাথে যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলো। ফলস্বরূপ, উপকূলবর্তী বাসিন্দা ডালমাটয়ান জনগোষ্ঠী ও মন্টেনেগরোরিয়ান অধিবাসীরা পশ্চিম অ্যাড্রিয়াটিক ইটালিয়ানদের অনুকরণে জীবন যাত্রা প্রণালী, সংস্কৃতি, শিল্পকলা, পৌর ও সামাজিক সংগঠন এবং অর্থনৈতিক কাঠামো গ্রহণ করেছিলো। অন্যদিকে এটাও লক্ষণীয় যে, অ্যাড্রিয়াটিক তার অবস্থানগত কারণে বলকান ও এ্যাপেনিয়ানস উপদ্বীপের মধ্যে যোগাযোগের সংযোগ সেতু হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিলো। অ্যাড্রিয়াটিক দ্বীপ বলকান ও ইতালিয়ান সংস্কৃতি ও সভ্যতায় বিস্তর প্রভাব রেখেছিলো বলে মনে করেন গবেষকরা। এর উদাহরণ হিসেবে-‘দ্য বলকান মেলটিং পট অব সিভিলাইজেশন’-শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।তিন হাজার বছরের ইতিহাসে বলকান ক্রসরোড ও মিলনস্থল হিসেবে যে সভ্যতার বিকাশ সাধন করেছিলো তার মধ্যে বলকান অঞ্চলে ব্যাপক সংখ্যক মিশ্র বর্ণের, ভাষার ও সংস্কৃতির সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সমাবেশ ও উপস্থিতি ঘটিয়েছিলো। এবং এ অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্মানুসারী মানুষের আগমন ঘটেছিলো এবং সে সাথে তাদের ধর্মীয় উপাসনালয় স্থাপিত হয়েছিলো।

এবং এভাবেই গোটা ইউরোপে চীন তার প্রভাব ও কৌশলগত অবস্থান সংহত করার মাধ্যমে বিশ্ব শক্তির প্রথম আসনটা পাকাপোক্ত করতে চায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়কাল থেকে অদ্যাবধি বলকান অঞ্চলে আমেরিকানরাই প্রভাবশালী বহিরাগত শক্তি হিসেবে এ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে আসছে-যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক প্রভৃতি বহিরাগত শক্তিগুলো বলকানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে চলেছে। আমেরিকান প্রভাব কমে আসতে শুরু করলেও আমেরিকাই এখনো ঐ অঞ্চলে প্রধান নিয়ন্ত্রক। কসোভোতে রয়েছে আমেরিকান সামরিক ঘাটি। বলা হয়, এ সামরিক ঘাটি অতি বৃহৎ এবং প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছে আমেরিকা ঐ ঘাটি নির্মাণে। এছাড়া, কসোভোতে আমেরিকান দুতাবাস বিল্ডিং ইউরোপের মধ্যে বৃহৎ ক্যাম্পাসভবন। এসবই বলকানে আমেরিকান আগ্রহের উদাহরণ হয়ে আছে। অন্যদিকে, বলকান অঞ্চলের কয়েকটি রাষ্ট্র ন্যাটোতে যোগদান করায় আমেরিকার সাথে ঐ অঞ্চলের সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে-কেননা, মূলত: আমেরিকাই ন্যাটোর মূল শক্তি। বিশ্ব পরিসরে এবং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান প্রভাব অব্যাহত রাখার জন্য বলকান আমেরিকানদের নিকট অপরিহার্য কৌশলগত অঞ্চল। আমেরিকানরা মনে করে বলকান তাদের জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত। রাশিয়া মনে করে বলকান অঞ্চলের সাথে তার জাতীয় স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টা জড়িত। তাই দেশটার পররাষ্ট্রনীতি সেভাবেই সাজানো হয়েছে। বলকানের সাথে রুশদের রয়েছে ঐতিহাসিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক। বলকানের প্রায় রাষ্ট্রই রাশিয়ান রাজনীতি এবং আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত। বেশিরভাগ বলকান রাষ্ট্রের জনগণের বড় অংশ রাশিয়ান জনগণের ন্যায় খৃষ্টীয়ান অর্থোডক্স ধর্মে বিশ্বাসী।

অন্যদিকে, জোসেফ টিটোর নেতৃত্বাধীন যুগোস্লাভিয়া ছিলো রাশিয়ার মিত্র। আর সার্বিয়া হলো বর্তমান সময়ে রাশিয়ার ঘনিষ্ট মিত্র। দেখা যায়, বলকান অঞ্চলের সাথে রাশিয়ার একটা ঘনিষ্ট ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। অতীত থেকে বর্তমান সময়কাল পর্যন্তও বলকানে বহিরাগত শক্তির উপস্থিতির কারণে ঐ অঞ্চল সবসময়েই অস্থিতিশীল ও যুদ্ধপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। এবং এখনও এ অঞ্চল অস্থির-এটাই বাস্তবতা। আসল কথা হচ্ছে, বলকানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ধর্মানুসারী মানুষদের আগমন এবং সাথে তাদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার উপস্থিতির কারণে অত্রাঞ্চলে ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক সংকট ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছিলো-যার রেশ বর্তমান যুগেও অব্যাহত আছে। তা সত্ত্বেও, বলকান উপদ্বীপ একই সাথে-‘সভ্যতার মিলনস্থল এবং পাউডার রুম অব ইউরোপ’-হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ও ভূকৌশলগত অবস্থানের কারণে ইতিহাসের পুরোটা সময় ধরে বলকান অঞ্চল বিভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতির মধ্যে সংযোগ সেতু এবং একই সাথে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের মিলনস্থল হওয়ার কারণে এখানে আদর্শগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি দ্বন্দ্ব ও সংঘাতপূর্ণ সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও পদ্ধতি দেখতে পাওয়া যায়। এমনকি বসনিয়া যুদ্ধে বলকান কসাইদের দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বিশ্বমানবতার জন্য এক কালো অধ্যায়। কিন্তু অপরাধ করে কেউ ছাড় পেতে পারে না। পৃথিবীর বুকে সকল অত্যাচারী নেতার পতন ঘটেছে। তাদের অহংকার ধূলিস্যাৎ হয়েছে ন্যায়ের হাতে। বলকান কসাইদের গ্রেফতার এবং বিচারকার্য পরিচালনা যেন তাই প্রমাণ করে।
লেখক ও কলামিস্ট-raihan567@yahoo.com

সর্বশেষ সংবাদ