August 23, 2019

সম্ভাবনার ক্ষেত্র এবং নতুন প্রযুক্তি

রায়হান আহমেদ তপাদার : এক সময় আমাদের এই পৃথিবীর সকল দেশই ছিল কৃষিভিত্তিক। তারপর কৃষিভিত্তিক সমাজ ভেঙ্গে হলো শিল্পভিত্তিক সমাজ। শিল্পভিত্তিক সমাজ থেকে সেবা ও তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ হলো। সমাজ বিকাশের ধারায় উৎপাদনশীলতা হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উৎপাদনশীলতার কারণে সমাজ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন এসেছে। প্রথমে যন্ত্র, তারপরে বিদ্যুত এবং তারও পরে ইন্টারনেট উৎপাদন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করেছে। এরপর উৎপাদন ব্যবস্থায় আসছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। ডিজিটাল অর্থনীতি হচ্ছে মেধাভিত্তিক উৎপাদনশীল একটি অর্থনীতি, যার ভিত্তি হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তি। কৃষি, শিল্প-বাণিজ্য, সেবা খাতকে বাদ দিয়ে কাগজে-কলমে তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক সমাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নাম ডিজিটাল অর্থনীতি নয়। ডিজিটাল অর্থনীতি হচ্ছে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে গড়ে তোলা মেধাভিত্তিক উৎপাদনশীল অর্থনীতি। আমাদের ডিজিটাল অর্থনীতি বলতে কি বোঝায় এটি আগে পরিষ্কার করে বুঝতে হবে। এই বিষয়ে অনেকেরই ভুল ধারণা আছে। ডিজিটাল অর্থনীতি যদি বোঝায় বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাইজড্ হয়ে গেছে, ব্যাংকগুলো ডিজিটাইজড্ সেবা দিচ্ছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামে-গঞ্জে সাধারণ মানুষের কাছে টাকা পৌঁছে যাচ্ছে, এটিএম ব্যবহার করে টাকা তোলা যাচ্ছে- এ ধরনের কার্যক্রম, তাহলে বলার কিছু নেই। এগুলো হচ্ছে ডিজিটাল অর্থনীতির এক ধরনের প্রদর্শন প্রভাব। ডিজিটাল অর্থনীতি বুঝতে হলে আমাদের অর্থনীতির রূপান্তর সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার পর আমরা আমাদের সভ্যতাকেই ডিজিটাল করার চেষ্টা করছি। বিশ্বজুড়ে এখন এই বিষয়টি সর্বোচ্চ আলোচ্য বিষয় হয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামেও ডিজিটাল অর্থনীতি আলোচিত হয়েছে। ওরা এখন অনুভব করছে যে, দুনিয়া চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে হাঁটছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি সেই বিপ্লবের হাতিয়ার এবং সারা দুনিয়াতেই ডিজিটাল অর্থনীতি এখন চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে। আমাদের দেশের মানুষের একটি সুবিধা হচ্ছে তারা খুব দ্রুত আপগ্রেড টেকনোলজি নিজেদের আয়ত্তে নিতে পারে। দেশে বর্তমানে ১৫.৭০ কোটি মোবাইল সংযোগ আছে এবং অন্তত ১০ কোটি লোক মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। এখন প্রায় ১০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। এখন ৫ মিনিট যদি ইন্টারনেট বন্ধ থাকে তবে আমাদের অর্থনীতির ওপর যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে তা চিন্তাও করা যায় না। অথচ আজ থেকে ১০ বছর আগে ইন্টারনেটের কোন প্রভাবই অর্থনীতিতে ছিল না। ফেসবুক ব্যবহার করে হাজার হাজার তরুণ নিজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। অনুমান করা হয় যে, ১০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী এতে ব্যবসা করে। বিপণন ও সামাজিক যোগাযোগের কথা না হয় উল্লেখই করা হলো না। ফেসবুক থেকে সরাসরি জিনিসপত্র বেচাকেনা হচ্ছে। এখন আর ভোক্তাকে বাজারে গিয়ে পছন্দের জিনিস কিনতে হচ্ছে না। ইন্টারনেটে জিনিস পছন্দ করে অর্ডার দিলেই তা বাসায় পৌঁছে যাচ্ছে। মূল্য পরিশোধ করে ভোক্তা তা গ্রহণ করতেও পারছে। মানুষ যতটুকু সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্রীয়ভাবে পেয়েছে তা সুন্দরভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে। যেটা বর্তমানে ডিজিটাল অর্থনীতি হিসেবে দৃশ্যমান হচ্ছে। মানুষ কিন্তু বসে নেই। তার নিজের প্রয়োজনে এগিয়ে যাচ্ছে। যার সুফলটা পাচ্ছে রাষ্ট্র এবং সরকার। এখানে আরও অনেক বেশি কাজ করার সুযোগ আছে।

ডিজিটাইজেশনের কারণে খুনীর অপরাধ সম্পর্কে কোন সাক্ষী ছাড়াই জানা সম্ভব হয়েছে। এতে বিচারও সুষ্ঠু হয়েছে। এটি হচ্ছে ডিজিটাইজেশনের দৃশ্যমান ফলাফল। এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, ডিজিটাইজেশন হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য। যার কারণে অনেকে নিজেদের কৃতকর্ম আড়াল করার স্বার্থে ডিজিটাইজেশনের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করছে। তরুণ সমাজের মাঝে আমরা ডিজিটাইজেশ নের পক্ষে যে জোয়ার দেখছি তা কোন বাধা দিয়ে আটকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। জনগণ যেভাবে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে চলতে চাচ্ছে তার সঙ্গে সরকারের প্রশাসনযন্ত্রকেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তবে কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে দুনিয়ার সকল কিছু বদলানো যায়, শুধু ব্রিটিশ ধাঁচের আমলাতন্ত্র পরিবর্তন চ্যালেঞ্জিং। ২০১৮ সালে যে আইসিটি পলিসি আমরা প্রণয়ন করেছি সেখানে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সময় সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে সরকারের টাইম লাইনের আগেই মানুষ সকল বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশরা আমাদের অফিসের কেরানী, কল-কারখানার শ্রমিক তৈরি করার যে শিক্ষা পদ্ধতি দিয়ে গেছে এটা আমাদের অর্থনীতির জন্য এখন বিশাল একটা বোঝা। এই বোঝা কমাতে হলে আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল রূপান্তর করে উৎপাদনশীল, সৃজনশীল, ডিজিটাল ও নতুন যুগের ডিজিটাল দক্ষতাসম্পন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা চালু করতে হবে। আমাদের অর্থনীতি যেভাবে রূপান্তর হচ্ছে এর সঙ্গে চাহিদা অনুযায়ী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। না পারলে অর্থনীতি গতিশীল ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে না। আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা হচ্ছে ক্ষত স্থানে মলম লাগানোর উপযোগী। শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার না করা হলে ডিজিটাল অর্থনীতিতে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা মূলত সেলস ও মার্কেটিংয়ে পারদর্শী। অন্যদিকে ভারতের ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে। এদিকটিতে বাংলাদেশের তরুণ ও যুবশ্রেণী পর্যাপ্ত সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ পেলে দ্রুতই অগ্রসর হতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে যে হারে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে তাতে স্বউদ্যোগ ও স্বনিয়োজিত আউটসোর্সিং হতে পারে বেকার সমস্যা নিরসন এবং অর্থনীতির অন্যতম খাত। পড়ালেখা অবস্থায় কিংবা পাশ করার পর এ খাতে তারা যুক্ত হতে পারে। বলার অপেক্ষা রাখে না, মেধাবিকাশ এবং সম্মানজনকভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য খাতটি নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। অনেক শিক্ষিত নারী যারা চাকরি করতে স্বচ্ছন্দবোধ করে না, তারা এ কাজে বেশি যুক্ত হতে পারে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অনেক শিক্ষিত নারী এ খাতে যুক্ত হয়েছে। নিজের সংসার খরচ চালানোর পাশাপাশি অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে। আউটসোর্সিংয়ের খাতটি এমনই যে প্রত্যন্ত গ্রামে বসেও তা করা যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে ৬৫ শতাংশ তরুণ যাদের বয়স ২৫ বছরের নিচে। এই বিপুল তরুণ শ্রেণীর ওপরই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নির্ভর করছে। তবে তাদের সিংহভাগ ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিষয়টি অবগত নয়। তাদের অবগত করে প্রশিক্ষণ দিয়ে এ খাতে নিয়োজিত করতে পারলে দেশের অর্থনীতির চেহারা বদলে যাবে। অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অনলাইন শ্রমশক্তির সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী দেশ হচ্ছে ভারত। বিশ্বে দেশটির প্রায় ২৪ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার ওয়ার্কার রয়েছে। এর পরের অবস্থানই বাংলাদেশের। আমাদের বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সার ওয়ার্কার রয়েছে ১৬ শতাংশ। বাংলাদেশের তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে গৃহিণীরা এ খাতে যেভাবে যুক্ত হচ্ছে, পর্যাপ্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে এ খাতে বিশ্বে শীর্ষস্থানে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়।

অর্থনীতিতে এটি অন্যতম বড় একটি খাতে পরিণত হবে। এক্ষেত্রে সরকার যে কাজটি করতে পারে তা হচ্ছে, ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা, তরুণ-তরুণীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সহজ করা। যদি শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এসব সুবিধা নির্বিঘম্ন করা যায়, তবে খাতটি দ্রুত এগিয়ে যাবে। এ খাতের সুবিধা হচ্ছে, খুব বেশি পুঁজি লাগে না। বাসায় বসে কম্পিউটার বা যে কোনো স্থানে মোবাইলে কাজ করা যায়। এর জন্য অফিস বা আলাদা জায়গার প্রয়োজন নেই। ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যাম ঠেলে অফিসে যাওয়া লাগে না। এর সাথে জড়িত গৃহিণীরা ঘরের কাজের ফাঁকে ফাঁকেই কাজ সারতে পারে। তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ৬ লাখ ৫০ হাজার। এর বাইরে আরও অনেকেই যুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ তথ্য ও প্রযুক্তি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ফ্রিল্যান্সাররা ১০ কোটি ডলার আয় করছে। ক্রমেই এই আয় বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতির একটি শক্তিশালী খাতে পরিণত হবে। ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং খাতটি আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশকে গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানো জরুরি। যেখানেই অর্থনীতির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে সেখানেই হাত দেয়া অপরিহার্য। আউটসোর্সিংয়ের বিষয়টি যেহেতু শিক্ষিত তরুণ শ্রেণী স্বউদ্যোগে করছে, তাই তাদের এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। তরুণদের এ খাতে যুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত ও সাশ্রয়ী এবং নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্যোগ নিতে হবে। আউটসোর্সিং খাতে এ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে সরকারের যে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন তা যেমন দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, তেমনি বিশ্বে শীর্ষ ডিজিটাল অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।

বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের তরুণশ্রেণী খুবই উৎসাহী। তারা সম্ভাবনার ক্ষেত্র এবং নতুন প্রযুক্তি পেলে নিজেরাই স্বউদ্যোগে অনেক কাজ করে। তরুণদের এই আগ্রহ-উদ্দীপনাকে কাজে লাগাতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বজুড়ে অনলাইন অর্থনৈতিক কার্যক্রম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থনৈতিক লেনদেন থেকে শুরু করে, ব্যবসার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে অনলাইন। এ তালিকায় বাংলাদেশও যুক্ত হয়েছে এবং বেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক খাতে ধীরে ধীরে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি রচিত হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিজিটাল অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখতে শরু করেছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। এদিক থেকে এশিয়া এগিয়ে রয়েছে। তথ্যমতে, ঘরে বাসে অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় রোজগারে বিশ্বের ১৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দ্বিতীয়। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং থেকে শুরু করে ট্যাক্স প্রিপারেশন, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজ অনলাইন ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে হচ্ছে। বাংলাদেশের সাফল্যের মূলে রয়েছে দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সুবিধা, সরকারি-বেসরকারি প্রচারণা এবং তরুণদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উদ্ভাবনী শক্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রসারের ফলে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তিতে তৈরি হবে নতুন এক বাংলাদেশ। এটি হবে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন খাত। সরকারের প্রশাসন যদি ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনে চলে যায় তাহলে সেখানে অনেক মেধাবী লোকবলের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনীতির দিকে যদি তাকাই তবে সকল সূচকে এর অগ্রগতির একটি বড় কারণ হচ্ছে যে, প্রচলিত প্রথম শিল্পযুগের শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ মানবসম্পদকেও আমরা ডিজিটাল যুগের কাজে ব্যবহার করতে পারছি। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য একটি বড় সফলতা। তবে শিশুশ্রেণী থেকে যদি ডিজিটাল দক্ষতা গড়ে তোলার কাজটা আমরা শেখাতে পারি তবে বিশ্বের সেরা দেশে পরিণত হতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে না। ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনাটা হচ্ছে আমাদের মানবসম্পদ। আমাদের জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ ভাগের বয়স ৩০ বছরের নিচে। আমরা যদি এই মানবগোষ্ঠীকে ডিজিটাল যুগের মানবসম্পদে পরিণত করতে পারি তবে সেটিই হবে অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তরের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা।

লেখক ও কলামিস্ট-raihan567@yahoo.com

সর্বশেষ সংবাদ