October 18, 2019

ছাগল নিয়ে বিরোধ- কুলাউড়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে কুপালো বখাটে!

বিশেষ প্রতিনিধি :  কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নে বখাটে কর্তৃক এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধারালো কাস্তে দিয়ে কুপানোর ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত ওই মাদ্রাসা ছাত্রী বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় মামলা হলে হামলাকারী বখাটে রুহল আমীনকে গ্রেফতার করে সোমবার মৌলভীবাজার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টায় টিলাগাঁও ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দুর রহমানের মেয়ে স্থানীয় চাউলীয়া জামিয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী হাজেরা বেগম (১৪) মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে একই গ্রামের আব্দুল মনাফের বখাটে পুত্র পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকা রুহুল আমিন (১৫) প্রথমে তার গতিরোধ করে। কাস্তে দিয়ে তার মাথা লক্ষ্যে করে কুপ দিতে চেষ্ঠা করলে মেয়েটি হাত দিয়ে আটকানোর সময় তার ডান হাতের ক্ববজির রগ কেটে মারাত্মক জখম হয়। এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন হাজেরা বেগমের আর্তচিৎকারে এগিয়ে এসে তাকে প্রথমে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা শঙ্কটাপন্ন হওয়ায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল এবং পরে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। চিকিৎসাধীন হাজেরা বেগমের ডান হাতের ক্ববজীর উপরে আঘাতের ফলে রগ কেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। আঘাতপ্রাপ্ত হাতের দুটি স্থানে ১২টি সেলাই লেগেছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, দীর্ঘদিন থেকে বখাটে রুহুল আমিন ও হাজেরা বেগমের পরিবারের সাথে পারিবারিক দ্বন্ধ চলছিলো। একমাস পূর্বে হাজেরার পরিবারের তিনটি ছাগল রুহুল আমীনের জমিতে গেলে রুহল ও তার পিতা তাদের তিনটি ছাগল তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। রুহুলের বাড়ি থেকে ছাগল আনতে গেলে হাজেরার পিতার সাথে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাজেরার বড়বোন ফাহিমা বেগমকে মারধর করে বখাটে রুহুল আমীন। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় তাদের দুটি ছাগল ফেরত দেয়া হয় এবং বাকি ছাগলটি ফেরত না দেয়ায় স্থানীয় টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ সালিশি বৈঠকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা রুহুল আমীনের উপর। জরিমানাকৃত টাকা না দিয়ে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে হাজেরা বেগমের উপর এই হামলা চালায় বখাটে রুহল আমীন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ নিজাম উদ্দিন জানান, ছাগল নিয়ে বিরোধের কারণে ধারালো দা দিয়ে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে বখাটে রহুল আমীন। এই পরিবারটি খুবই নিরীহ। তিনি এ ঘটনার সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে বিচার চেয়েছেন।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, মেয়ের বাবা সৈয়দুর রহমান বাদি হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত রুহুল আমিনকে আটক করে তার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়ায় সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ