September 15, 2019

হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা

বিশেষ প্রতিনিধি :  কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চুর স্বাক্ষর জাল করে উত্তরাধিকারী সনদ তৈরি করে সৃষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যানসহ আরো ৩জনকে আসামী করা হয়েছে।
জানা যায়, হাজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চুর স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের সময় ইউনিয়নের মাদানগর গ্রামের মৃত আবু নাসের লেচু মিয়ার পরিবারের একটি উত্তরাধিকারী সনদ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আটক করে। উত্তরাধিকারী সনদে মৃত আবু নাসের লেচু মিয়াকে নিঃসন্তান বলে উল্লেখ করা হয়। এসময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের কাছে সনদটি জাল সন্দেহ হলে বিষয়টি হাজীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে অবগত করেন। উত্তরাধিকারী সনদের সঠিকতা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু জাল স্বাক্ষর সম্বলিত সনদটি ভূয়া বলে ব্যাংক ব্যবস্থাপককে লিখিতভাবে জানান। এরপর চেয়ারম্যান সনদগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের পিতার মৃত্যু সনদ ও প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের নামে সঠিক উত্তরাধিকারী সনদ প্রদান করেন। কিন্তুু তারপরও ওই পরিবারের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটলে জুনেদের মাতা দিলোয়ারা বেগম বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু, ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান হেলালসহ ৪জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে ১নং আসামী চান্দু মিয়া ও ২ নং আসামী মোঃ আবদাল মিয়া হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু ও ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান হেলালের সহযোগিতা নিয়ে মৃত আবু নাসের লেচু মিয়ার সম্পত্তি আত্মসাৎ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
মামলার ব্যাপারে হাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, হাজীপুর ইউনিয়নের মাদানগর গ্রামের মরহুম আবু নাসের লেচু মিয়ার উত্তরাধিকার সংক্রান্ত একটি সনদ বাংলাদেশে কৃষি ব্যাংক মনু শাখার ব্যবস্থাপক সার্টিফিকেটের সঠিকতা জানতে চান। আমি ব্যাংক ব্যবস্থাপককে লিখিত জানিয়ে দেই, এই সার্টিফিকেট সঠিক নয় এবং আমার কার্যালয়ের রেকর্ড পত্র পরীক্ষা করে দেখেছি এমন সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়নি। পাশাপাশি আবু নাসের লেচু মিয়ার পরিবার কে খবর দিয়ে এনে তাঁর মৃত্যু সনদ এবং তাঁর মৃত্যুর পর ত্যাজ্যবিত্তে উত্তরাধিকার দের প্রকৃত সনদ প্রদান করি। যাতে কেউ জাল সনদ দিয়ে তাদের কোনো ক্ষতি করতে না পারে। এরপরও কেন আমাকে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে, তা আমার বোধগম্য নয়। মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের পরিচয় জানার পর মনে হচ্ছে সাম্প্রতিক কর্মকান্ডের জেলাব্যাপী আমার যে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তৈরী হয়েছে তা নষ্ট করে আগামী নির্বাচনে ফায়দা নেওয়ার জন্য আমাকে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়ে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ