August 23, 2019

কুলাউড়া বিএনপির আহবায়ক থেকে আবেদ রাজাকে অপসারণ,কিছুই জানেন না বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ!

বিশেষ প্রতিনিধি : জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রীম কোর্ট শাখার সহ-সভাপতি, গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা কো- চেয়ারম্যান, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এড. আবেদ রাজাকে কুলাউড়া বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল ঘিরে সৃষ্ট ঘটনার জেরে জেলা বিএনপি তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন এর নির্দেশে প্রেরিত প্রেসরিলিজে দুঃখ প্রকাশ করার কথা উল্লেখ করা হয় কিন্তুু এ বিষয়ে কিছুই জানেন না ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, আবেদ রাজাকে দুঃখ প্রকাশ করতে আমি সরাসরি নির্দেশ কেনই বা দিতে যাবো। আবেদ রাজার বিষয়ে প্রেসরিলিজে কি লিখেছে, সেটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। জেলার প্রেসরিলিজে আমার রেফারেন্স যে দেয়া হয়েছে সেটায় আমি অবগত নই। এমনকি আমাকে কিছু বলা হয়নি। সাংগঠনিক হিসেবে জেলার কার্যক্রম দেখ ভালো করি। আমার কাছে এখন পর্যন্ত প্রেসরিলিজের চিঠি কেউ পাঠায়নি। দলের নেতাদের মধ্যে ভূল বুঝাবুঝি মনমালিন্য হতেই পারে, তাই বলে কোন দূরত্ব বাড়ানোর সুযোগ নেই। সাংগঠনিকভাবে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের ভূলবুঝাবুঝির মীমাংসা করতে হবে।
ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আবেদ রাজার অব্যাহতির বিষয়ে শুক্রবার জেলা সাধারণ সম্পাদক ও কুলাউড়া বিএনপির আহবায়ক আবেদ রাজা আমাকে জানিয়েছেন। কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির স্থগিত কাউন্সিল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে কুলাউড়া বিএনপির কাউন্সিল খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে। কাউন্সিলটা যত তাড়াতাড়ি করা যায় সেজন্য আমি জেলা সভাপতি নাসের রহমান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান ও কুলাউড়া বিএনপির আহবায়ক এড. আবেদ রাজাকে মুঠোফোনে বলেছি। ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মেলনের মাধ্যমে কুলাউড়া বিএনপি সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
এদিকে ২০ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি এম নাসের রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে গণমাধ্যমে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এড. আবেদ রাজাকে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির আহবায়ক থেকে অপসারণ করা হয় মর্মে জানানো হয়। জেলা বিএনপির প্রেসরিলিজে উল্লেখ করা হয়, সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন আবেদ রাজাকে আহবায়ক কমিটির সভা অবিলম্বে ডেকে জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে তার কটুক্তি ও আপত্তিজনক বক্তব্যের জন্য দু:খ প্রকাশ ও রেজুলেশন নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতির বাসভবনে বৈঠকে আবেদ রাজা গর্হিত আচরনের জন্য কোন দু:খ প্রকাশ অনুশোচনা ও রেজুলেশন নেওয়ার অপারগতা প্রকাশ করেন। আবেদ রাজা আহবায়ক হিসেবে বির্তকিত হওয়ায় তাকে কুলাউড়া কমিটির আহবায়ক পদ হতে অপসারন করা হল। দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে জেলা কমিটি একজন নতুন আহবায়ক দিয়ে সুবিধাজনক সময়ে নতুন কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করবেন বলে প্রেসরিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদ রাজার অব্যাহতির বিষয়টি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাউর হলে কুলাউড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ প্রকাশ ও নিন্দার ঝড় বইছে। জেলা বিএনপির প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে অনেকই ফেসবুকে জেলা নেতৃবৃন্দের এমন আত্মঘাতি সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা বিএনপির কাউন্সিলে (স্থগিত হওয়া) সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী সুফিয়ান আহমদ তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, বুঝলেন? সবসময় তো মন্দ কথা আমাদেরকে শুনতে হয়েছে। আর আপনারাই বলতেন অনেক কথা, ব্যক্তি বিশেষের কথা। এ টিম-বিটিমের কথা, কুলাউড়ায় যেই মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্ঠা করেছেন তাকেই কুপোকাত করা হয়েছে। সর্বশেষ বিএনপির রাজা আবেদ রাজাকে..! জেলা তুষ্ট নীতির জন্য আজ এই অবস্থা, যেন তেন নেতা হওয়ার জন্য এই অবস্থা, দোষারোপের রাজনীতির জন্য এই অবস্থা, অযোগ্যদের যোগ্য করার জন্য এই অবস্থা, সর্বশেষ রাজনীতি নিয়ে। কুলাউড়াবাসী কবে কুলাউড়ার সদ্য অতীত ফিরিয়ে আনার রাজনীতি শুরু করবেন?
জেলা বিএনপির সদস্য, কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বদরুজ্জামান সজল ও উপজেলা বিএনপি নেতা মইনুল হক বকুল লিখেছেন, এই মুহুর্তে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরী।

সাবেক ছাত্রনেতা মান্না বখশ লিখেছেন, আমার মনে হয় সকল থানা এক হয়ে নাসের রহমানকে প্রতিহত করতে হবে। না হলে কুলাউড়া বিএনপির আরো ক্ষতি হবে। কুলাউড়া বিএনপি ধ্বংস করার মূল কারিগর নাসের রহমান।

সাবেক ছাত্রনেতা ও যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জনি লিখেছেন, এই নাসের রহমানের কারণে এম এম শাহীন ভাইও বিএনপির রাজনীতি করতে পারেন নাই।

মুহিত চৌধুরী রিপন লিখেছেন, জেলা অন্যায়ভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রাজা ভাই কখনো কর্মীদের সাথে বেঈমানী করেননি।
প্রবাসী বিএনপি নেতা নিজামুর রহমান টিপু, জুবায়ের আহমদ নেফুর, ইছমত আলী লিখেছেন, আবেদ রাজার সাথে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সবাই আজ ঐক্যবদ্ধ।
বদরুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, আবেদ রাজাকে অপমান করা মানে কুলাউড়ার ১৩টি ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের অপমান করা। ৩টি মাস নিরলস কষ্টের মাধ্যমে ত্যাগ স্বীকার করে প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে কাউন্সিল সম্পন্ন করে দলকে গুছিয়ে এনেছেন। তাকে নিয়ে আজ ছলচাতুরী করা হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র আহবায়ক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, রাজনীতি একটা নিয়মের মধ্যে চলে। উপজেলাকে জেলা, জেলাকে কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করবে। দুঃখজনক বিষয় হলো ছোট্ট একটা বিষয় নিয়ে এ অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। জেলা বিএনপি না পেরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবেদ রাজা তাঁর কথায় অটল রয়েছেন। এর কারণে এই সিদ্ধান্তের সূত্রপাত। তিনি দুঃখ প্রকাশ করলে আজ এমন পরিস্থিতির স্বীকার হতে হতনা।
অব্যাহতি প্রসঙ্গে এড. আবেদ রাজা বলেন, এটা সম্পূর্ণ অগতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত। যারা এইসব স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তারা ইতিহাসের আস্থা কুঁড়ে নিক্ষেপ হবে। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমি আমার নীতিতে অটল থাকবো। আমি আমার জাতীয়তাবাদী আদর্শের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে আমৃত্যু রাজনীতি করেই যাবো। যারা অগতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাদেরকে ক্ষমা চাইতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক আহবায়ক কমিটি গঠন করে দেন। অতঃপর উপজেলা আহবায়ক কমিটি ১৩টি ইউনিয়নে ওয়ার্ড কমিটি এবং পরবর্তীতে সকল ওয়ার্ডের সমন্বয়ে ইউনিয়ন কাউন্সিলের মাধ্যমে ইউনিয়ন কমিটি নির্বাচিত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল শুরু হওয়ার ঘন্টা দুয়েক আগে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও আহবায়ক কমিটির সদস্য কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল স্থগিত ঘোষণা করেন।

সর্বশেষ সংবাদ