July 15, 2019

বহিস্কারের দাবি নেতাকর্মীদের- কামালের অভিযোগেই কুলাউড়া বিএনপির সম্মেলন স্থগিত!

বিশেষ প্রতিনিধি : বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলন না হওয়ায় নানা আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, পৌর কমিটি গঠন শেষে কাউন্সিলারদের ভোটে পূর্ব নির্ধারিত কুলাউড়া বিএনপির কাউন্সিল ও সম্মেলন ছিলো ১৫ জুন শনিবার। এ নিয়ে মাস দুয়েক থেকে কুলাউড়ার সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বেশ উজ্জীবিত হন। সাজ সাজ রবে ব্যানার, ফেস্টুনে সুসজ্জিত হয় সম্মেলনস্থল। এই সম্মেলনকে কেন্দ্রকে করে সভাপতি, সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এই তিন পদে ১৩জন প্রার্থী মনোনয়ন ক্রয় করেন, এবং প্রচারণা চালিয়ে যান। কিন্তুু হঠাৎ করে সম্মেলনের ঠিক আগের দিন শুক্রবার ১৪ জুন প্রতিদ্বন্ধিতা থেকে সরে দাঁড়ান সভাপতি প্রার্থী ও সাবেক মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ। তখন থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয় কামাল আহমদ জুনেদকে নিয়ে। কাউন্সিলে ভরাডুবির টের পেয়েই তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন এবং সম্মেলনকে বানচালের জন্য জেলায় তদবির ও সম্মেলনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। সম্মেলন আয়োজনের সকল প্রস্তুুতি সম্পন্ন সত্ত্বেও সম্মেলনের দিন শনিবার সকালে কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমানের কাছে গিয়ে তাঁকে প্রভাবিত করে সম্মেলন স্থগিত করালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সহস্রাধিক নেতাকর্মীরা। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর ও শোভাকাঙ্খীরা সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হয়ে জানতে পারেন সম্মেলন স্থগিতের বিষয়টি। সম্মেলন স্থগিতের কারণে কাউন্সিলের প্রার্থী, ভোটার ও বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হন। সম্মেলনকে নিয়ে যড়যন্ত্রকারী কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদকে কুলাউড়ায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বয়কট ও বহিস্কার করার দাবি জানান উপস্থিত সহস্রাধিক নেতাকর্মীরা। এদিকে শনিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি মিজানুর রহমান মিজান স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় অনিবার্য কারণবশত কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।
কাউন্সিল স্থগিত হলেও উপস্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনা সভায় জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এড. আবেদ রাজা তাঁর বক্তব্যে বলেন, সম্মেলনের দিন হঠাৎ করে জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান কোন কারণ ছাড়াই একটি কুচক্রী মহলের দ্বারা প্রবাহিত হয়ে কাউন্সিল স্থগিতের নির্দেশ দেন। জেলা বিএনপি আমাকে ডেকে নিয়ে কাউন্সিল বাতিল ঘোষণা দিয়ে আমার হাতে একটি প্রেসরিলিজ ধরিয়ে দেয়। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমাদের কোন কথা শুনতে রাজি হননি। এতবড় একটা আয়োজনকে যারা ধুলিসাৎ করেছে, এরা কখনো দলের বন্ধু হতে পারেনা। এদের আচরণ স্বৈরাচারী। এই সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সমস্ত বিষয় কেন্দ্রকে জানাবো। কেন্দ্র যা সিদ্ধান্ত নেবে আমরা তা মেনে চলবো। এসময় তাঁর বক্তব্য শুনে উপস্থিত শত শত নেতাকর্মী কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদকে বিএনপির শত্র“ আখ্যায়িত করে “কুলাঙ্গার কামালের বহিস্কার চাই, জাতীয় পার্টির নেতা কামালের বহিস্কার চাই, কামালের গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে” বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কুলাউড়া বিএনপির সম্মেলন স্থগিত প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া জানান, কি কারণে সম্মেলন স্থগিত হলো, কার কারণে হলো তার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। সম্মেলনকে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ জেলা বিএনপির কাছে অভিযোগ প্রদানের বিষয় স্বীকার করে বলেন, আমার প্রতি অনেক অন্যায়-অবিচার করা হয়েছে। বিএনপির আহবায়ক কমিটির উপর আপত্তি জানিয়ে আমি প্রথমে আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করি এবং জেলা কমিটির সভাপতি-সম্পাদক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছি। আমার অভিযোগের সত্যতা আছে বলে জেলা কমিটি জরুরী সভা ডেকে সম্মেলন স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে। বহিস্কারের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কে কাকে বহিস্কার করবে না করবে সেটা জেলা এবং কেন্দ্রেরই এখতিয়ার।

সর্বশেষ সংবাদ