September 15, 2019

জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমানকে অবাঞ্চিত করলো কুলাউড়া বিএনপি

বিশেষ প্রতিনিধি : বহুল প্রতীক্ষিত কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি’র সকল প্রস্তুতি ছিলো সম্পন্ন। কাউন্সিলাররাও ভোট দিতে এসেছিলেন। কিন্তু বেলা ৩টার কাউন্সিল দুপুরে আচমকা স্থগিত ঘোষণা করে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি। এতে হতাশ আয়োজকসহ উপজেলা বিএনপির তৃণমুল পর্যায়ের সহস্রাধিক নেতাকর্মীরা। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর ও শোভাকাঙ্খীরা সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হয়ে জানতে পারেন সম্মেলন স্থগিতের বিষয়টি। এদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় অনিবার্য কারণবশত কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। সম্মেলন স্থগিতের কারণে কাউন্সিলের প্রার্থী, ভোটার ও বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হন এবং নানা ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সহস্রাধিক নেতাকর্মী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি এম নাসের রহমানকে কুলাউড়ায় বয়কট ও অবাঞ্চিত ঘোষনা করে কুলাউড়া বিএনপির নেতাকর্মীরা। এছাড়া এই সম্মেলনকে নিয়ে যড়যন্ত্রকারী কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে বয়কট ও বহিস্কার দাবি জানানো হয়। এদিকের সম্মেলনের সকল প্রস্তুুতি থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাত কারণে জেলার নির্দেশে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন স্থগিত করার কারণে দলীয় উপজেলা আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন বিএনপি নেতা এড. আবেদ রাজা।
প্রায় ১৫ বছর পর ঐক্যবদ্ধ কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিল এর তারিখ ছিলো শনিবার। বহুল প্রতীক্ষিত এ সম্মেলন ও কাউন্সিলকে ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছিলো নেতাকর্মীদের মাঝে। প্রায় তিন মাস পরিশ্রম করে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে কাউন্সিল সম্পন্ন করে উপজেলা বিএনপি ১৫ জুন সম্মেলনের তারিখ ঘোষনা করে। সম্মেলনকে ঘিরে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছিলো নেতাকর্মীদের মধ্যে। কুলাউড়া উপজেলায় বিএনপির রাজনীতি ছিলো অনেকটা খাঁদের কিনারায়। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ক্লিন ইমেজ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। সে লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক ধারায় প্রায় এক দশক পর শনিবার ১৫ জুন ছিলো দলের উপজেলা শাখার কাউন্সিল ও সম্মেলন। এদিকে সম্মেলনের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার ১৪ জুন প্রতিদ্বন্ধিতা থেকে সরে দাঁড়ান সভাপতি প্রার্থী ও সাবেক মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ। কাউন্সিলে ভরাডুবি টের পেয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। শনিবার সকালে কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমানের কাছে গিয়ে তাঁকে প্রভাবিত করে সম্মেলন স্থগিত করালে ক্ষোভে ফেটে পড়ে কুলাউড়া উপজেলা কমিটি। শেষতক জেলা বিএনপিকে সম্মেলন স্থগিতে তিনি কলকাটি নাড়েন বলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
সভাপতি পদে উপজেলা বিএনপির সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি ও পৌর প্যানেল মেয়র কারা নির্যাতিত নেতা জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সদস্য ও কারা নির্যাতিত নেতা এমএ মজিদ। সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সদস্য রেদওয়ান খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সদস্য বদরুজ্জামান সজল, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন খাঁন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে কারা নির্যাতিত নেতা, উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক আহবায়ক সুফিয়ান আহমদ, উপজেলা বিএনপি নেতা মইনুল হক বকুল, সাবেক যুবদল ও ছাত্রদল নেতা বদরুল হোসেন খাঁন, বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম ও মোঃ আব্বাছ আলী।
স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সম্মেলন স্থগিত হলেও উপস্থিত প্রার্থী, ভোটার ও নেতাকর্মীদের শান্ত করে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এড. আবেদ রাজা বলেন, ঐতিহাসিক কাউন্সিল সফল করতে আমরা শতভাগ উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বিএনপির সারাদেশের নিস্তবদ্ধতা ও নিথরতার মধ্য দিয়ে কুলাউড়া বিএনপির সকল স্তরের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে এই কাউন্সিল সফল করতে দীর্ঘদিন থেকে পরিশ্রম করে আসছেন। এই কাউন্সিল কুলাউড়া বিএনপিকে নতুনভাবে জাগ্রত করেছে। কিন্তুু হঠাৎ করে জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান কোন কারণ ছাড়াই একটি কুচক্রী মহলের দ্বারা প্রবাহিত হয়ে কাউন্সিল স্থগিতের ঘোষণা দেন। বিএনপিকে ক্লিন ইমেজ নিয়ে এগিয়ে যাবার চেষ্টা করেছি। জেলা বিএনপি আমাকে ডেকে নিয়ে কাউন্সিল বাতিল ঘোষণা দিয়ে আমার হাতে একটি প্রেসরিলিজ ধরিয়ে দেয়। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমাদের কোন কথা শুনতে রাজি হননি। এতে উজ্জীবিত উপজেলা বিএনপিসহ আমরা মর্মাহত হয়েছি। আমি আহবায়কের পদ থেকে পদত্যাগের সিন্ধান্ত নিয়েছি। পাশাপাশি জেলা বিএনপির সভাপতির পদত্যাগ দাবী করছি। জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমানের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের কারণেই কুলাউড়ার সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। এটা কোন গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত হতে পারেনা। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত। এই প্রেক্ষিতে আমরা পণ নিয়েছি যারা অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেয়, দলের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নেয়, তারা কখনো দলের সেবক হতে পারেনা। এতবড় একটা আয়োজনকে যারা ধুলিসাৎ করেছে, এরা কখনো দলের বন্ধু হতে পারেনা। এদের আচরণ স্বৈরাচারী। স্বৈরাচারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আমরা এখন থেকে নতুন করে পন নিলাম, জেলার সভাপতি নাসের রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলবো। এই সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সমস্ত বিষয় কেন্দ্রকে জানাবো। কেন্দ্র যা সিদ্ধান্ত নেবে আমরা তা মেনে চলবো। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করবো। দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র বিরোধী শক্তি ঘাপটি মেরে থাকবে এটা মেনে নেয়া যাবেনা। সর্বশক্তি দিয়ে গণতন্ত্রকে রক্ষা করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্যদিয়ে মুক্ত করবো। মৌলভীবাজার জেলা বিএনপিকে স্বৈরাচার মুক্ত করার জন্য ঘোষণা দিলাম। তিনি আরো বলেন, আমি আবেদ রাজা আপনি নাসের রহমানের সাথে আর রাজনীতি করবো না। আমি মৌলভীবাজার বিএনপির জঞ্জাল মুক্ত করার জন্য ঝান্ডা নিয়ে মাঠে নামলাম। আমি বেঁচে থাকতে মৌলভীবাজারের কোন বিএনপি নেতাকর্মীকে নাসের রহমানের অগণতান্ত্রিক রাজনীতির বলি হতে দিবো না। কেন্দ্রীয় বিএনপিকে বলবো, নাসের রহমানকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করুন, তিনি যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে হুঁশিয়ারী করুন। তাকে বহিস্কার করুন। এই লোক তার পিতা সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান এর আকাশচুম্বী সম্মানকে ধরে রাখতে পারছেন না। তার সাথে কুলাউড়া বিএনপির এখন থেকে কোন সম্পৃক্ততা নেই। তাকে বয়কট ও অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হলো। এসময় তার বক্তব্য শুনে উপস্থিত শত শত নেতাকর্মী “নাসের রহমানের গালে জুতা মারো তালে তালে” বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এবং কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদকে বিএনপির শত্র“ ও জাতীয় পার্টি নেতা অ্যাখ্যায়িত করে বহিস্কার করার ঘোষণাও দেন।
নির্বাচন স্থগিত প্রসঙ্গে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন ভুইয়া জানান, সম্মেলনের দিন সকাল ১০টায় জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি নাসের রহমান উনার দুসাই রিসোর্টে যাওয়ার জন্য ফোন দেন। তখন সেখানে ছিলো সভাপতি প্রার্থী কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ। আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবেদ রাজাসহ সেখানে যাওয়ার পর জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত সম্মেলন স্থগিতের চিঠি দেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমানকে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্ঠা করেও তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি মিজানুর রহমান মিজান শনিবার রাত সাড়ে সাতটায় বলেন, অনিবার্য কারণবশত কুলাউড়া বিএনপির সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্তে। কি কারণে সম্মেলন স্থগিত হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপাতত সমস্যা আছে, পরে নতুন করে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
এদিকে হাজীপুর থেকে সম্মেলনে আসার পথে টিলাগাওয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় তিন বিএনপি নেতা আহত হয়ে কুলাউড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ কুলাউড়া বিএনপির কাউন্সিল আজ

সর্বশেষ সংবাদ