June 17, 2019

গরমে অতিষ্ট মৌলভীবাজারের জনজীবন : বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরমে

মুবিন খান : আমাদের দেশে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ এ দুই মাস গ্রীষ্মকাল। এ সময়টা দেশের জন্য শুষ্কতা আর গরমে ভরপুর। যদিও মাঝে মাঝে সামান্য বৃষ্টি ও বৈশাখী ঝড়ের দেখা মিলে। কিন্তু মাঝে মধ্যে এর ব্যত্যয় ঘটতেও দেখা যায়। জ্যৈষ্ঠের কাঠফাটা রোদের শেষে আষাঢ়ের বর্ষা শুরু হয়। এমনইতো আচরণ প্রকৃতির। কিন্তু এবার এখনো আষাঢ়ে বৃষ্টির তেমন দেখা নেই।

এ যেনো মৌলভীবাজার এক উত্তপ্ত কড়াই! এমনটি অনুভব হলো বৃহস্পতিবার সারাদিন। প্রচন্ড গরম থেকে মুক্তি মিলেনী গত তিনদিন। তবে শুক্রবার থেকে অবস্থা পাল্টাতে পারে বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজারের আবহাওয়াবিদরা।

বেশ কয়েকদিন যাবৎ তীব্র তাপদাহ জেলাজুড়ে। গ্রাম-গঞ্জ, শহর, জেলা সবজায়গায় গরমের কারণে অস্বস্থিতে পড়েছে মানুষ। মৌলভীবাজার জেলাসহ সাত উপজেলাতেও তীব্র তাপদাহের খবর পাওয়া গেছে। বেশকিছু উপজেলায় চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবরও পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত রাজনগরের বিদ্যুৎ প্রায় পাচ ঘন্টা ছিলো না। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেশি হওয়ায় ফেইসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই।

তীব্র তাপদাহে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে জেলার শ্রমজীবী মানুষ। শহরের রিকশাচালকদের কষ্ট চোখে পড়ার মতো। তাদের মাথার ওপর থাকে না কোনো ছাতা বা মাথাল। সড়কে নেই কোনো বৃক্ষের ছায়া। কেবল গামছা দিয়ে মাথাটুকু ঢেকে তারা রিকশা চালান।

গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। খুব বেশি মালামাল না হলে ভ্যান বা রিকশাযোগে নিয়ে যেতে হয় তাদের। প্রচন্ড গরমে মালামালের ওপর বসে মাথায় সামান্য গামছা দিয়ে রোদ থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন তারা। অপরদিকে রিকশাচালকও গরমে অতিষ্ট হয়ে খালি গায়েই রিকশা চালাতে বাধ্য হন। সুযোগ পেলে কাজের ফাঁকে কোনো স্থাপনা বা বৃক্ষের ছায়া খুঁজে জিরিয়ে নেন তারা।

নিম্নবৃত্ত শ্রেণির মানুষদের মধ্যে গরম থেকে বাঁচতে শহরের পৌরসভা পুকুর, বেরীলেইক সহ বিভিন্ন ডোবাতে সাঁতার কাটে শিশুরা। গরম থেকে বাঁচতে বেশিক্ষণ পানিতে সাঁতার কেটে সময় কাটায় ওরা। মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিও গরমে অতিষ্ট হয়ে ওঠে। বেওয়ারিশ কুকুর ও নীড়হারা পাখিগুলো খোঁজে শীতলতা। কখনো কখনো গরমের অতিশয্যে বিভ্রান্ত হয়ে একটু শান্তির শীতল ছোঁয়া পেতে কুকুরও নামে পানিতে।

অন্য যেকোন বছরের এই সময়ে মনু ও ধলাই নদের দুইপার ডুবে যেতো বন্যার পানিতে। অথচ এবার এখনো এগুলো শান্ত রয়েছে। শুধু মৌলভীবাজার নয়, দেশের সবজায়গাসহ এবার উজানে ও ভারতের আসাম এবং মণিপুর রাজ্যেও স্বাভাবিক বৃষ্টপাত হচ্ছেনা।

উত্তপ্ত আবহাওয়ায় মৌলভীবাজারের নাগরিক জীবনে মারাত্মক অস্বস্তি চলছে। সকল বয়সী মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। তবে বেশী ভুগতে হচ্ছে বয়স্ক ও শিশুদের। বিশেষ করে নবজাতকদের। অনেকেই জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। ছুটছেন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে। সোম, মঙ্গল, বোধ ও বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সেবাপ্রার্থী ভীড় জমিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় মৌলভীবাজারের তাপমাত্রা ছিল ৩৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস সন্ধ্যার জরিপে হয়তো এক, দুই দশমিক তাপমাত্রা বাড়তে পারে। সকালে ছিলো সর্বনিম্ন ছিল ২৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন নাজেহাল অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে শুক্রবার থেকে। ৭২ ঘন্টার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশী। এমনটাই জানালেন শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়া অফিস কতৃপক্ষ।

আবহাওয়া সহকারী জাহেদুল ইসলাম বলেন, আজকে রাত থেকে তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং আংশিক ভাবে বৃষ্টিও হতে পারে। আকাশে কিছুটা মেঘ দেখা যাচ্ছে। আর বৃষ্টি হলে তাপমাত্রাও মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

সর্বশেষ সংবাদ