June 17, 2019

বড়লেখা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নানা সমস্যা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে

মোঃ রুয়েল কামাল : মৌলভীবাজারের বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতটি নানা সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে পরিচালিত হচ্ছে। ভবনের ছাদ ডেমারেজ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন কক্ষে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে জরুরী নথীপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। এ আদালতে প্রসাব পায়খানার কোন নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় এখানে আসা বিচারপ্রার্থী পুরুষ ,মহিলাদের সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগে পড়তে হয়। এয়াড়া আইনজীবি ও আইনজীবি সহকারীদের ভাড়া ঘরে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।

সরেজমিনে, কোর্টে গিয়ে ভুক্তভুগি, আইনজীবি ও আইনজীবি সহকারী সূত্রে জানা যায়, বড়লেখা উপজেলায় ৫ লক্ষাধিক জনসাধারণের বসবাস রয়েছে। এখানকার মানুষ বিভিন্ন সমস্যায় মামলা মোকদ্দমা করতে বড়লেখার এ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসেন। বড়লেখা কোর্টের এপিপি এড. গোপাল চন্দ্র দত্ত, এড. জিল্লুর রহমান আইনজীবি সহকারী সমিতির সভাপতি সেলিম উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, ভুক্তভুগি শাহাব উদ্দিন , ব্যবসায়ী আব্দুল মালিকসহ অনেকেই জানান, এ আদালতটি ১৯৮২ সালে তৎকালীন জাতীয় পার্টির এরশাদ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই আদালত ভবনটি নির্মান করা হয়। এর পর থেকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘদিনের পুরনো ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় ফলে বর্তমানে প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনের ছাদ ডেমারেজ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন কক্ষে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করে জরুরী নথীপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। আদালতের আইনজীবিদের বসার জন্য কোন বার ভবন না থাকায় আদালতের একটি ছোট্ট কক্ষে গাদাগাদি করে বসতে হয়। তাছাড়া আইনজীবী সহকারীদেরও কোন শেড না থাকায় কোর্ট সংলগ্ন ভাড়া করা রুমে বসেই তাদের কার্যক্রম করতে হচ্ছে। বড়লেখা কোর্টে নিযুক্ত কোর্ট সাব ইন্সপেক্টর (সিএসআই)দের বসার জন্য নির্ধারিত কোন স্থান নেই। এ আদালতে প্রসাব পায়খানার কোন নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় এখানে আসা বিচারপ্রার্থী পুরুষ ,মহিলাদের সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগে পড়তে হয়। এছাড়া আদালতের আটককৃত আসামীদের মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে পাঠানোর জন্য নেই কোন সরকারী পরিবহন। পাবলিক পরিবহনে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই আসামীদের পরিবহন করা হয়। অত্যান্ত নোংরা, দূর্ঘন্ধযুক্ত শেতশ্যাতে পরিবেশে কাস্টুডিতে আসামীদের রাখা হয়। কোর্ট পুলিশদের থাকার জায়গার সংকটের কারনে ছোট্ট একটি কক্ষে সকলকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। কোর্ট শুরুর কয়েকদিন দেওয়ানী মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমানে দেওয়ানী আদালত মৌলভীবাজারে স্থানান্তরিত হয়েছে। মৌলভীবাজারে দেওয়ানী আদালত স্থানান্তর হওয়ায় ফলে বিচারপ্রার্থী জনগনকে বিচারের জন্য প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরবর্তী জেলা সদরে যেতে হয়। বড়লেখার ভুক্তভোগী জনসাধারণের দাবী পূর্বের ন্যায় আবারো দেওয়ানী আদালতকে বড়লেখায় নিয়ে আসার। এতে করে বিচারপ্রার্থী জনসাধারণের সময়, শ্রম ও টাকা সাশ্রয় হবে বলে অনেকে জানান। এ ব্যাপারে তারা আইনমন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ ও বর্তমান সরকারের বনা-পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আলহাজ্ব শাহাব উদ্দিনসহ সংশ্রিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

সর্বশেষ সংবাদ