August 23, 2019

কুলাউড়া থেকে অপহৃত শিশু শ্রীমঙ্গলে উদ্ধার

বিকাশ মল্লিক : কুলাউড়ায় দশ বছরের এক শিশু অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ছয় ঘন্টার মাথায় পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। একজন পলাতক রয়েছে।মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে ও কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইয়ারদৌস হাসান,ওসি তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তীসহ পুলিশের একটি টিম ছয় ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ইছবপুর গ্রামের পরিত্যাক্ত একটি বাড়ি থেকে অপহৃত শিশু মাহদী অমিকে উদ্ধার করা হয়। পরে শিশু অমিকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কুলাউড়া থানা মসজিদে নামাজ শেষে বের হওয়ার পর মাহদী অমি নামে এক শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে যায় অপহরনকারীরা। এরপর পরিবাবের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে তারা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া পৌর শহরের মাগুরা এলাকার বাসিন্দা কাতার প্রবাসী আব্দুল হাসিমের ছেলে মাহদী অমি প্রতিদিনের মতো কুলাউড়া থানা মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাসায় ফিরে। কিন্তু ঘটনার দিন ৩১ মে রাত সাড়ে নয়টায় নামাজ শেষে অমি আর বাসায় ফিরেনি। নামাজ শেষ করে অমি থানা থেকে বাইরে বের হয়। তখন আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা অপহরণকারী দের একজন তাকে মোটরসাইকেলে করে পৌর শহরের সানরাইজ স্কুলের পাশে অন্ধকার স্থানে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে অপহরণকারীরা তার মুখে চেপে ধরে একটি প্রাইভেট গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যায়। ছেলে বাসায় না ফিরলে মা গুলশানা আক্তার পাগলপ্রায়। এরপর কুলাউড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় খোজাখুজি করা হয়। একপর্যায়ে অমির মা অপহরনকারী রেদওয়ানের বাসায় গিয়ে খোঁজ নেন। সেখানে তাকে না পেয়ে তিনি সাথে সাথে কুলাউড়া থানা পুলিশকে অবগত করেন। এরপর রেদওয়ানের বন্ধু গাড়িচালক হৃদয় আহমদের মা ও ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। হৃদয়ের মা ও ভাইদের দিয়ে তাকে ফোন করা হয়। এরপর পুলিশ হৃদয়কে শ্রীমঙ্গল থেকে আসার পথে আটক করলে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত পৌনে পাঁচটায় শ্রীমঙ্গলের একটি পরিত্যাক্ত বাড়ি থেকে মাহদী অমিকে উদ্ধার করা হয়।

অপহরণকারীরা হলেন কুলাউড়া পৌর শহরের উত্তর মাগুরা এলাকার নিজাম আহমদের ছেলে রেদওয়ান আহমদ (২৫), জয়পাশা এলাকার শাহাজান মিয়ার ছেলে হৃদয় আহমদ (২২), জয়চন্ডী ইউনিয়নের দানাপুর গ্রামের কামরুল ইসলাম (২২), জয়পাশা এলাকার ইন্তাজ মিয়ার ছেলে খাইরুল ইসলাম (২৪) ।

অপহৃত শিশু মাহদী অমি পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানায়, ঘটনার দিন অপহরণকারীরা তাকে মুখে চেপে ধরে একটি প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে শ্রীমঙ্গলে নিয়ে যায়। এরপর আমার পরিবারের কাছে দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আমার মুখে ও ঘাড়ে তারা কিলÑঘুষি মারে। তখন আমি চিৎকার করে বলি আম্মার কাছে যাবো।

মাহদীর মা গুলশানা আক্তার জানান, তাঁর শিশু ছেলে অমি কুলাউড়া পৌর শহরের অংকুর কিন্ডার গার্টেনের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। প্রতিদিন নামাজ শেষ করে সে বাসায় ফিরে। ঘটনার দিনে রাত ১০টা বেজে গেলেও অমি বাসায় না ফিরলে আমরা দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যাই। আমাদের পাশের বাসার রেদওয়ান আমাদের পরিচিত ও আমার ছেলের সাথে তার অনেক সখ্যতা। প্রথমে আমি রেদওয়ানের বাসায় খোজাখুজি করে না পেয়ে থানা পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ আমার কলিজার টুকরো ছেলেকে উদ্ধার করে। আমার ছোটভাই নাহিদ হোসেন ৩০ মে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেন। আমার ভাইকে টার্গেট করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের স্বার্থে এমন পরিকল্পনা তারা করেছিল বলে আমার ধারণা।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইয়ারদৌস হাসান বলেন, শিশু অমিকে মোটা অঙ্কের টাকার জন্য অপহরণ করে। আমরা তাকে উদ্ধারের প্রাণপ্রণ চেষ্টা চালিয়ে যাই। মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে ছয় ঘন্টার রুদ্ধদ্বার অভিযান শেষে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে একটি পরিত্যাক্ত বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এ ঘটনায় অমির মা গুলশানা আক্তার বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে আটক করেছে। অপহরণের ঘটনা তারা স্বীকার করেছে। আটককৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ