August 24, 2019

মৌলভীবাজারে ব্যবসায়ীদের হাতে ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা লাঞ্চিত হওয়ার নেপথ্যে

বিশেষ প্রতিনিধি : গত বছর এমনি এক দিনে ভোক্তা অধিকারের এই সহকারী পরিচালক মো. আল আমীন এর নের্তৃত্বে মৌলভীবাজারের পশ্চিমবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিলাস ডিপাটমেন্টাল স্টোরসহ কিছু প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

সেই সংবাদটি মৌলভীবাজারে অনেক চাউর হয়। বিভিন্ন মহল থেকে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযানের পক্ষে মন্তব্যের ঝড় উঠে। সাংবাদিকদের কেউ কেউ সংবাদ করেন আবার কেউ কেউ করেননি।

এদিকে ঘটনার পর সহকারী পরিচালক মো. আল-আমীন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, উক্ত অভিযানে এম সাইফুর রহমান রোডে অবস্থিত বিলাস ডিপার্টমেন্টাল স্টোরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিলেও তারা জরিমানার টাকা পরিশোধ করেনি। তারা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন।

সহকারী পরিচালককে শারীরিক ভাবে আঘাত করে। আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখায়। সহকারী পরিচালককে সাময়িক ভাবে আটকিয়ে রাখেন। বিলাস ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোরে মালিক মিথ্যাভাবে সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। মিথ্যা অভিযোগ, সরকারি কাজে বাধা, শারীরিক ভাবে আঘাত এ সমস্ত কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

তাই সচেতনমহল মনে করেন, এরপর থেকেই একটি মহল ও ওই প্রতিষ্ঠান সক্রিয় হয়ে উঠে কিভাবে তাঁকে দমন করা যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী এবার তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।

অথচ গত কয়েক মাস ধরে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় সহকারী পরিচালক আল আমীনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব সংবাদ জাতীয় গণমাধ্যমসহ অনলাইনে গুরুত্ব সহকারে ছাপা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোন অনিয়মের অভিযোগ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এরই মাঝে সততা ও কাজের স্বচ্ছতার জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণসহ বিভিন্ন অপরাধে তিনি বিভিন্ন পরিমাণে অর্থদণ্ড করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ তাঁর এই কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

অভিযানে অনেক নামী দামি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার কারণে তিনি এখন অনেকেরই চক্ষুশুল ও রোষানলে পড়েছেন বলে সচেতনমহল মনে করেন। সচেতনমহল মনে করেন সরকারি কাজে এধরণের অভিযানে বাঁধা দেওয়া সত্যকে ও এবং ন্যায়কে বাঁধাগ্রস্থ করছে এবং করবে।

সম্প্রতি কোর্ট রোডে অবস্থিত সুপার ড্রাগকে ৩০ হাজার টাকা, শাহ মোস্তফা গার্ডেন সিটিতে অবস্থিত ট্রেডিশনকে ৩০ হাজার টাকা, সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত ঈশিকা ফেব্রিক্সকে ৪ হাজার টাকা, এম সাইফুর রহমান রোডে অবস্থিত আনন্দ বাজার স্টোরকে ৩ হাজার টাকা, হিরা মণি জুয়েলার্সকে ১ হাজার ৫ শ’ টাকাসহ মোট ৬৮ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা আরোপ ও তা আদায় করা হয়।

ঘটনার স্থানটি মৌলভীবাজারের যানজট ও দুর্ভোগের এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। যেকোন উৎসবের সময়ই সারা শহরের মধ্যে ওই এলাকায়ই যতো রকম অনিয়ম ও যানজট তৈরী হয়। কিন্তু এসব বিষয়ে কেউ কোন কর্ণপাত করেনা। বরং একটি পক্ষ আছে যারা লেজুড়বৃত্তি করে বিভিন্নভাবে ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে ফায়দা লুটার চেষ্টায় নিমজ্জিত থাকে।

সচেতনমহল মনে করেন, ভেজালের বিরুদ্ধে সরকারি যেকোন অভিযানে সময়, দিনক্ষণ বিবেচ্য বিষয় নয়। প্রশাসন যখন মনে করবে যে ওইসব প্রতিষ্ঠানে ভেজাল পণ্য, মূল্য টেম্পারিং করা, খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ করা হচ্ছে। ঠিক তখনই জনস্বার্থে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন পণ্য সামগ্রী মোড়কজাতকরণ বিধিমালা ২০০৭ আওতায় অভিযান পরিচালিত করা যাবে।

সর্বশেষ সংবাদ