July 21, 2019

ভূমধ্যসাগরে হারিয়ে গেলো শামীম ও মারুফের স্বপ্ন!

মাহফুজ শাকিল : স্বপ্ন সবাই দেখে। কেউ ঘুমিয়ে, কেউ জেগে। জাগতিক পরিমন্ডলে স্বপ্নের যেন শেষ নেই। কিন্তু মৃত্যুকে তোয়াক্কা না করে বাস্তবিক স্বপ্ন দেখাটা আশায় বুক বাঁধা না নিরাশায় বুক বাঁধা এটা বোধ হয় সকলের বোধগম্য নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে কিছু সংখ্যক উঠতি বয়সী যুবকেরা অল্প সময়ে রাতারাতি ধনী হওয়ার আশায় সাগর পথে পাড়ি জমায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। কিন্তু সেই সকল দেশে পৌছে দেওয়ার নামে যে সকল দালালরা নিয়োজিত রয়েছে, তাদের ঔদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার ফলে শত শত যুবকের অকাল মৃত্যু হয় এই সাগর পথেই। তেমনি গত বৃহস্পতিবার সাগর পথে অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরের তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে যাওয়ায় বহু বাংলাদেশী মারা গেছেন। এরমধ্যে রয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদের ছোটভাই হাফিজ আহসান হাবীব শামীম (২০) ও তাঁর শ্যালক কামরান আহমদ মারুফ (২৩)।
নিহত আহসান হাবীব শামীমের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিইল ইউনিয়নের বাদে ভূকশিমইল গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত হাজী আব্দুল খালিক। পরিবারের ৭ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে শামীম ছিল সবার ছোট। শামীম সিলেট গোটাটিকর ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার মেধাবী ছাত্র ছিলো। চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষা দেবার আগমুহুর্তে জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে স্বপ্নের দেশ ইতালি যাওয়ার জন্য পাড়ি জমায়।
এদিকে কামরান আহমদ মারুফের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কদুপুর গ্রামে। তার বাবার নাম ইয়াকুব আলী। সে সিলেটের একটি কলেজে পড়ালেখা করতো। তালতো ভাই আহসান হাবীব শামীমের সাথে একসাথে জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে ইতালি যাওয়ার জন্য পাড়ি জমায়।
নিহত আহসান হাবীব শামীমের বড় ভাই সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ রোববার বিকেলে মারা যাওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রথমে তাদের পরিবার জেনেছেন ট্রলার ডুবিতে শামীম ও মারুফ নিখোঁজ রয়েছেন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইতালিতে থাকা শাহরিয়ার আলম সামাদের আত্মীয় (সমন্ধি) মাছুম আহমদ খবর দেন যে তারা দুজনই মারা গেছেন। তাদের লাশের কোন খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি। ভাইকে হারিয়ে আমাদের পরিবার এখন বাকরুদ্ধ।

সর্বশেষ সংবাদ