July 22, 2019

লাগামহীন টমটম : প্রতিনিয়ত বাড়ছে দূর্ঘটনা

স্টাফ রিপোর্টার : মৌলভীবাজার শহরে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে গ্যাসচালিত টমটমের দৌরাত্ম্যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দিন দিন এ সমস্যা লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যত্রতত্র পার্কিং, স্ট্যান্ড, আবার কখনও রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা আবার কখনও কখনও পিছন না দেখেই ডানে মোড় নিয়ে উঠছে রাস্তায়। ফলে নিয়মিত শহরে সৃষ্টি হচ্ছে ছোট-বড় নানা দূর্ঘটনা।

মৌলভীবাজার শহরে দিনদিন টমটমের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সড়কে চলাচল করা এ যানবাহনটির যন্ত্রণায় শহরের মানুষ অতিষ্ঠ। যততত্র পার্কিং আর সড়কজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে শহরে এখন প্রায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট স্ট্যান্ড থেকে চৌমুহনা কোর্ট রোড হয়ে ওয়াপদা পয়েন্ট, ঢাকা বাস স্ট্যান্ড, বেড়ীরপার পয়েন্ট, পশ্চিমবাজার মাছের আড়ৎ ও কুসুমবাগ পয়েন্ট হয়ে বড়হাট এলাকা পর্যন্ত। এসব এলাকায় যাতায়াতে যে সড়কগুলো ব্যবহার করা হয় তা হচ্ছে কোর্ট রোড, শাহ মোস্তফা সড়ক, সেন্ট্রাল রোড, সিলেট রোড, শমসেরনগর সড়ক ও পুরাতন হাসপাতাল সড়ক ইত্যাদি। এ সড়কগুলো এমনিতেই খুবই ব্যস্ততম। এসব সড়কগুলোতেই টমটমের উপদ্রব থাকে সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ সময় যানজট থাকে সড়কগুলোতে। তবে বছরখানেক আগে শহরের সেন্ট্রাল রোডে টমটম চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।

বিশেষ করে চাঁদনীঘাট থেকে চৌমুহনা পর্যন্ত, চৌমুহনা থেকে কোর্ট-কলেজ এলাকা, শমসেরনগর রোডে শাহ মোস্তফা কলেজ এবং শাহ মোস্তফা রোড হয়ে বেরীরপার পয়েন্ট, সিলেট-শ্রীমঙ্গল রোড হয়ে সদর হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, কুসুমভাগ পয়েন্ট সর্বক্ষণ থাকে টমটমের দখলে।

সরেজমিন দেখা যায়, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং মোড়ে অধিকাংশ গ্যাসচালিত টমটম জটলা করে দাঁড়িয়ে থাকে যাত্রীর আশায়। এই বিশৃঙ্খল অবস্থা এখন মৌলভীবাজার শহরের প্রধান সড়কগুলোতে। অথচ এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই কোন তৎপরতা।

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রী সুমাইয়া বলেন, অদক্ষ্য চালকরা গাড়ি নিয়ন্ত্রন না করতে পেরে মানুষের উপর তুলে দেয়। একদিন টমটমের ধাক্কায় আমি গুরুতর আহত হই। পরে সিলেট মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেই।

কলেজ ছাত্র নাবিল শাহরিয়ার বলেন, অনেক টমটমের লুকিং গ্লাস গাড়ীতে নেই। কেউ খুলে রেখেছে আবার কারো ভেঙে গেছে। আশ্চর্য ব্যাপার হলো জ্যামের মধ্যে গাড়ী যেদিকে খুশি সেদিকে নেয়া যায় সেজন্য কেউ কেউ লুকিং গ্লাস গাড়ীতেই চাপা দিয়ে কেøাজ করে রেখেছে। সেজন্য পিছন দিক তারা কখনো দেখেনা।

স্থায়ী বাসিন্দা মুস্তাকিম আহমদ বলেন, অপ্রাপ্ত বয়সের অনেক ছেলেরা এই গ্যাসচালিত টমটম চালাতে দেখা যায়। শহরের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ নিয়মিত বিভিন্ন গাড়ির কাগজপত্র দেখলেও কোন টমটমের কাগজপত্র দেখতে দেখা যায়না। ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় আমরা মোটরসাইকেল নিয়ে বের হতে পারিনা। কিন্তু বেশিরভাগ টমটম চালকরা ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ীর কাগজ ছাড়া রাস্তায় গাড়ি চালায়।  শুধু মটর সাইকেল সহ অন্যান্ন প্রাইভেট যানবাহন রাস্তায় আটকিয়ে কাগজপত্র দেখার হয়রানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি টমটম, অটোরিক্সা সহ ভাড়ায় চালিত সকল গাড়ীর কাগজপত্র দেখার দাবী করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন টমটম চালক বলেন, আমাদের গাড়ি পুলিশ ধরবে না। আমরা প্রত্যেক মাসে তাদেরকে দুইশত টাকা করে মাসিক চাঁদা দেই। সেজন্য কাগজপত্র ছাড়াও আমরা শহরে গাড়ি চালাতে পারি।

এ বিষয়ে পুলিশ পরিদর্শক সালাউদ্দিন কাজল বলেন, এটা দেখার দায়িত্ব শুধু আমার একা নয়। এগুলো কি করা যায় সেটা নীতি নির্ধারনী পর্যায়ে রেজোলেশন আসতে হবে। শহরের অনেক হর্তা-কর্তা আছেন তারা দেখবেন। আর টমটম চালকরা টাকা দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান।

সর্বশেষ সংবাদ