July 22, 2019

কমলগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় দখল করে বসতগৃহ

পিন্টু দেবনাথ : সরকার শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন ও পুরাতন বিদ্যালয়কে উন্নীতকরণ করছে। বিশেষ করে পিছেয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মাধ্যমে অগ্রসর করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে। কিন্তু মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের দেওরাছড়া চা বাগানে একটি ব্যতিক্রমভাবে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে। সরজমিন মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকালে দেওরাছড়া চা বাগানে গিয়ে জানা যায়, বাগান কর্তৃপক্ষ পরিচালিত (টি- বোর্ড) প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল বর্তমান দেওরাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে। প্রায় ২ বছর পূর্বে টি- বোর্ডের পরিচালিত বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করে বামন বিল এলাকায় টিলা কেটে বিদ্যালয়ের জন্য পাকা ঘর নির্মাণ করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ২ বছর ধরে কোন ক্লাস হচ্ছে না বরং বাগান কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিদ্যালয় রুমে বসবাস করছেন দুর্জধন সিংরাউতি ও তার ভাতিজা দীপ নারায়ণ সিংরাউতির পরিবার। বামন বিল, বেমারী টিলা, ছোট বাংলো লাইন এলাকা থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দূরত্ব প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার রাস্তা হবে। এতো দূর শিশুরা আসতে পারছে না ফলে এই এলাকার প্রায় ১৫০-২০০ শিক্ষার্থীরা দিনে দিনে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত এবং ঝরে পড়েছে।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসীরা সম্প্রতি বাগান ব্যবস্থাপক বরাবর বিদ্যালয় চালুর জন্য ও বিদ্যালয় ঘরটি দখলমুক্ত করতে আবেদন করা হলেও বাগান কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮ ঘটিকায় বাগানে বাসিন্দা মিন্টু বারাইক, বিজয় মুন্ডা, পলাশ দাশ, অতিকা মুন্ডা (বাতাসী), পঞ্চায়েত কমিটিসহ ৩০/৪০ জন বাগান ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিদ্যালয় চালু ও দখলমুক্ত করার দাবী জানালে ব্যবস্থাপক ২৪ ঘন্টার সময় দেন।
বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবোধ কূর্মী এ প্রতিনিধি জানান, টি বোর্ডের স্কুলটি চালু ও দখলমুক্ত হোক এ দাবী আমাদের সবার। না হলে আমাদের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে। স্থানীয় রহিমপুর ইউপি সদস্য সিতাংশু কর্মকার বলেন, টি বোর্ড পরিচালিত বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য খুব জরুরী, ম্যানেজার সাহেব আজ না কাল করে দেখতেছেন বলে কালক্ষেপন করছেন, আমি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে বাগানবাসীর পক্ষ থেকে দাবী, তাড়াতাড়ি পুরণ হয় সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। এব্যাপারে দেওরাছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তফা জামান বিদ্যালয়ের বিষয় এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এটি টি বোর্ডের ব্যাপার, সরকারের বিষয়। এ ব্যাপারে ফোনে কোন বক্তব্য দিতে পারবো না।
এব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষ পরিচালিত বিদ্যালয়টি আমাদের দেখার বিষয় নয়। এটি তাদের অর্থায়নে চলে দেখাশুনার সম্পূর্ণ তাদের উপর নির্ভর করে।

সর্বশেষ সংবাদ