May 20, 2019

নিশ্চুপ শ্রীমঙ্গল প্রশাসন! অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহাৎসব

তোফায়েল পাপ্পু : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের প্রধান বিভিন্ন পাহাড়ীছড়া ও ছোট ছোট নদী হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার ফলে নদীভাঙ্গন, ব্রিজ ধসেপড়া, ফসলী জমির উৎপাদন মাত্রাত্রিরিক্ত ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। সরকারিভাবে এসব বালু উত্তোলণ নিষেধ থাকলেও একশ্রেনীর অসাধু বালু ব্যবসায়ী সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে  উপজেলার বিভিন্ন ব্রিজের নিকট হতে ছড়া ও নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলণ করছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায় উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের লাইংলাছড়া, উদনাছড়া, আশিদ্রোণ ইউনিয়নের বিলাসছড়া, উদনাছড়া, শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের ভুরভুরিয়াছড়াসহ উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক নদী ও ছড়া হতে নিয়মিতভাবে একশ্রেনীর অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলণ করছে।

স্থানীয়রা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমি দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছি, কিন্তু বালু উত্তোলনকারীরা আমার কথা শোনেননি।

এদিকে বালু ব্যাবসাকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটে জড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের নেতা। সরকার দলীয় লোক হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কোথাও বালুর ইজারা নেই। মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা জারীর কপি যথাযথ প্রশাসনের নিকটও  রয়েছে। কিন্ত আইনের কোন তোয়াক্কা না করেই অবৈধভাবে বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলণ করছে এবং হাইওয়ে রাস্তার পাশে স্টেক দিয়ে বালু বিক্রি করছে। এতে করে যে কোন সময় হাইওয়েতে দুর্ঘটনার মতো বিপদজনক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।

সরেসমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের জালালিয়া রোড, পদ্মা অয়েল ডিপো রোড, হবিগঞ্জ রোড, ভুনবীর চৌমুহনা, সাতগাঁও এলাকাসহ শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন স্থানে বালু ¯ু‘পাকারে রাখার কারণে যানবাহন চলাচলেও মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। সিন্দুরখান-শ্রীমঙ্গল সড়ক দিয়ে ভোর রাত হতে ট্রাক, ট্যাক্টর, দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বালু পৌছে দেয়া হয়। এতে করে ভারী যানচলাচলে রাস্তার অবস্থাও নাজুক হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে সিন্দুরখান বাজার সংলগ্ন লাংলিয়া ব্রিজের কাছে এবং দক্ষিনাংশের ছড়া হতে বালু উত্তোলনের ফলে ব্রীজটি সম্পূর্ণ ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তেমনি অবস্থা উদনাছড়ার ব্রীজটিতেও। অবৈধভাবে বালু উত্তোলণের ফলে লাংলিয়াছড়া ব্রিজটি যেকোন সময় ধ্বসে পড়তে পারে। ব্রিজটি ধ্বসে পড়লে তিনটি ইউনিয়নের প্রায় কয়েক হাজার জনগণ শ্রীমঙ্গল শহরে আসতে বিড়ম্মনার শিকারে পড়বেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়ে পড়বে বিচ্ছিন্ন।

হুগলিয়া, কুঞ্জবন, ছিক্কা গ্রামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত উদনাছড়ার বালু নিয়ে চলছে হরিলুট। বালুবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তাগুলো চলাফেরার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। স্থানীয় জনগণ বালু উত্তোলণকারীদের বাধা দিলে তারা সরকারি দলের পরিচয়ে মিথ্যা মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বালু তোলা বন্ধ করে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এগিয়ে আসবেন।

অথচ বালু মহাল এবং মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোন মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাইবে না। ওই আইনের (৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লেখ রয়েছে ড্রেজিং কার্যক্রমে বাল্কহেড বা প্রচলিত বলগেট ড্রেজার ব্যবহার করা যাইবে না। এবং সর্বোপরি এভাবে বালু উত্তোলন আইনত দন্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচ্য হবে।

এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। এ আইন অমান্য করলে সেই ব্যক্তি বা তাদের সহায়তাকারী কোনো ব্যক্তির অনূর্ধ্ব ২ বৎসর কারাদ- বা ৫০ হাজার টাকা হতে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হবেন।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভুমি অফিসার শাহিদুল আলম জানান, যেখানে যেখানে বালু উত্তোলন করা হয় খবর পেলে আমরা দৌড়ে যাই। কয়েকটি জায়গা থেকে হাতেনাতে বালু জব্দও করা হয়েছে। বালু উত্তোলনকারীরা অনেক সময় আমাদের আসার খবর শুনে পালিয়ে যায়। কেউ অবৈধভাবে ওই সব কার্যক্রম করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সংবাদ