July 22, 2019

কমলগঞ্জের পাহাড়ি এলাকা থেকে মুলিবাঁশ পাচার- লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে বন বিভাগের কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে প্রতিদিন শত শত মুলিবাঁশ পাচারের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট চক্র বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে আঁতাত করে বাঁশ পাচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সরকার সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র। অন্যদিকে উজাড় হচ্ছে সরকারি বেসরকারিভাবে বনায়নকৃত বাঁশ বাগান।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট বন বিভাগের অধীনে কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর ফরেষ্ট বিট এবং কুরমা ফরেষ্ট বিট হতে কতিপয় অসাধু বন কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় নিয়মিতভাবে বাঁশ পাচার হচ্ছে। রাতের আধারে বাঁশ কেটে গাড়ি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানো হয়। আবার ধলাই নদী পথে চালি বেধে দিয়ে গন্তব্য পৌছানো হচ্ছে। আদমপুর বনবিটের ভেতর থেকে প্রতিদিন শত শত মূলিবাঁশ আঁটি বেঁধে পাচার করা হয়। ২৫টি মুলিবাঁশের এক একটি আঁটি করে প্রায় শতাধিক শ্রমিক নিয়ে আসেন। মূলিবাঁশের আটি প্রতি বনবিট কর্মকর্তাকে ৫০ টাকা হারে প্রদান করা হয় বলে শ্রমিকরা জানায়। আদমপুর ইউনিয়নের কোনাগাঁও এলাকায় লাউয়াছড়া সংলগ্ন স্থানে এসব বাঁশ এনে স্তুপীকৃত রাখা হয়। এছাড়াও সন্ধ্যার পর পাচারকারি ঐ চক্র গাড়ি যোগে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাচার করেন। এভাবে অবৈধ গাছ বাঁশ বিক্রি করে এলাকার একটি মহল ফুলে ফেঁপে উঠেছে। তারা বনবিভাগসহ প্রশাসনের অন্যান্য সেক্টরকেও ম্যানেজ করেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অবৈধ গাছ, বাঁশের ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন প্রভাবশালী অনেকেই। তারা দেদারসে বনের গাছ, বাঁশ ছাড়াও পাহাড়ি ছড়া থেকে বালি পর্যন্ত বিক্রি করে চলেছেন। প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে কিছুই দেখেন না। বর্তমানে বনবিটের গুরুত্বপূর্ণ মূলিবাঁশ পাচারের জমজমাট বাণিজ্য চলছে। প্রতিদিন প্রায় হাজারো মূলিবাঁশ পাচার হয়ে থাকে। এভাবে বাঁশ পাচারের ফলে বনের বাঁশমহাল বিলীন হওয়ার পথে। আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইজারা না থাকায় সরকার হাজার হাজার টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বনবিভাগের কতিপয় অসাধু লোকজনের কারণেই আজ কমলগঞ্জের আদমপুরসহ বিভিন্ন বনাঞ্চল ধ্বংস হচ্ছে।
তবে অভিযোগ বিষয়ে আদমপুর বনবিট কর্মকর্তা শ্যামল রায় বনবিটের এলাকা থেকে অর্থের বিনিময়ে বাঁশ পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে আরো বলেন, এখানকার ভিলেজাররা তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু জ্বালানী কাঁঠ ও বাঁশ নিতে পারে এর বেশী কিছু নয়। বাঁশ বাগান ইজারা না থাকা সত্ত্বে ও কান্দিগাঁও গ্রামের গাছ বাগানের ভিতরে বাঁশ করে রাখা প্রশ্নের জবাবে বলেন, এটা আমার জানা নেই। তবে আমি বিষয়টি কঠোরভাবে খতিয়ে দেখবো।
এবিষয়ে কমলগঞ্জের রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: আবু তাহের বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সর্বশেষ সংবাদ