May 23, 2019

সুলতান মনসুর বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের সাথে জাতীয় বেঈমানী করেছেন

বিশেষ প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন গণফোরাম থেকে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়া সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি কোন তোয়াক্কা না করেই তিনি বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে শপথ গ্রহণ করেন। বিকেলে গণফোরাম থেকে তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। নিজ নির্বাচনী এলাকায় (মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া) শপথ গ্রহণকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে শপথ গ্রহণের ব্যাপারে কথা হয়। বিএনপি শপথ গ্রহণ করাকে নেতিবাচক দেখলেও সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মতামত রয়েছে। তবে কেউ কেউ তাঁর এই শপথ গ্রহণকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জহুর লাল দত্ত বলেন, সুলতান মনসুর বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা। দেশে আওয়ামীলীগ যে প্রচলিত রাজনীতি করে তিনি তার সংস্কার চেয়েছিলেন। কিন্তু শপথ নিয়ে তিনি বিচক্ষণতার জায়গায় থাকতে পারেননি। তিনিও ক্ষমতার অংশীদার হতে চান। তিনি মুখে যা বলেন, কাজে তা ফলে না। এটাই এখন পরিষ্কার হলো।
উদিচী কুলাউড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্মাল্য মিত্র সুমন বলেন, ঐক্যফ্রন্ট না নিলেও ব্যক্তিগতভাবে শপথ নেওয়ার অধিকার তাঁর আছে। সময়ের সাহসী সন্তান সেই, যে ভোটারের মন বুঝে। উন্নয়নের স্বার্থে তাঁর শপথকে স্বাগত জানাই।
গাড়ি চালক সিপন মিয়া বলেন, উন্নয়নের জন্য এমপি দরকার, কাজেই উনার শপথ নেয়া দরকার।
কৃষক মোক্তাদির আহমদ, কুলাউড়া দক্ষিণবাজারের ব্যবসায়ী সুমন মিয়া ও আজিজ মিয়া বলেন, এতকিছু বুঝি না দল মত নির্বিশেষে উনাকে ভোট দিয়েছি, তিনি শপথ নিয়েছেন, আশাবাদী আমাদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।
কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির তোফায়েল বলেন, সুলতান মনসুর বলেছিলেন শেখ হাসিনার অধীনে এটি প্রহসনের নির্বাচন। কিন্তু শপথ নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে মেনেই বুঝিয়ে দিলেন এটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। এটাকে আমরা ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনটাই আমরা মনে করছি না।
এ দিকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। প্রবাসী বিএনপি নেতৃবৃন্দও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা মন্তব্য করে ক্ষোভের কথা জানান দিচ্ছেন।
আরব আমিরাতের আল ইয়াহার বিএনপির সভাপতি রায়হানুল ইসলাম শামী ফেসবুকে লিখেন, এগুলো হল (আমাদের) বিএনপির ভূলের ফসল, যারা বিএনপিকে কুলাউড়ায় প্রতিষ্ঠিত ও শক্ত করেছিলেন উনাদের অভিশাপের ফসল।
সাবেক ছাত্রনেতা ও কুয়েত প্রবাসী বিএনপি নেতা নিজামুর রহমান টিপু ফেসবুকে লিখেন, মাননীয় স্পিকার আমরা কি উনার (সুলতান মনসুর) নামের সাথে জাতীয় বেঈমান ও আন্তর্জাতিক মীর জাফর বিশেষন যোগ করতে পারি..?
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, কুলাউড়ার রাজনীতি হলো বিচিত্র রাজনীতি, নেতাও বিচিত্র। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের মতে তাঁর পক্ষে আমরা কাজ করেছি। তিনি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ডিঙ্গিয়ে শপথ নিয়েছেন। এটা আমরা আশা করিনি।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সারোয়ার আলম বেলাল বলেন, ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে মা খালেদার মুক্তির আশায় আমরা উনার সাথে ছিলাম। কিন্তু সুলতান মনসুর কেন্দ্রকে ডিঙ্গিয়ে শপথ নেয়া উনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমরা দলের সিদ্ধান্তের উপর আস্থাশীল।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান খাঁন বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা যাবো না। শপথ নেয়া উনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির অপরাংশের সাধারণ সম্পাদক এম এ মজিদ বলেন, ঐক্যপ্রক্রিয়ার শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন সুলতান মনসুর। কিন্তুু তিনি মা খালেদার মুক্তি ও বৃহত্তম কোন স্বার্থের অগ্রগতি না দেখিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেয়ায়, তিনি আদর্শ বিচ্যুত হয়েছেন। তাঁর উচিত ছিলো সেই আদর্শ ধরে রাখার।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ের মানুষ। সুলতান মনসুরের বিষয়ে কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নিবে তা সমর্থন করবো। তিনি যদি দলীয় সিদ্ধান্তকে অমান্য করে শপথ নেন তাহলে সে দায় কুলাউড়া বিএনপি নিবে না।
কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির অপরাংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পৌর প্যানেল মেয়র জয়নাল আবেদীন বাচ্চু বলেন, আওয়ামীলীগ তাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিলো, আমরা তাকে সেখান থেকে তুলে এনেছি। জেল, জুলুম মাথায় নিয়ে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলাম। কিন্তু তিনি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেওয়ায় মানুষের মন থেকে চলে গেছেন।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক উপজেলা চেয়ারম্যান ভিপি মিজানুর রহমান মিজান বলেন, বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট যেখানে শপথের পক্ষে নয় সেখানে সুলতান মনসুর ব্যক্তিগতভাবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেওয়ায় মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি ঘৃন্যভাবে তা প্রত্যাখ্যান করছি।
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট আবেদ রাজা বলেন, সুলতান মনসুর বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের সাথে জাতীয় বেঈমানী করেছেন। কুলাউড়া বিএনপি তাঁর গণবিরোধী পদক্ষেপকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে। তাঁর এই অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জানাই।

গণফোরাম থেকে সুলতান মনসুরকে বহিস্কার

জনগণের কথা বলতে শপথ নিয়েছিঃ সুলতান মনসুর

সর্বশেষ সংবাদ