March 19, 2019

কুলাউড়া সমিতি ইউকে কতৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৯ পালন

‘তবু হায় কেন তাহারে ডেকে আন..’

কবি জীবনানন্দ দাশের অমর সৃষ্টি ক’টি চয়ন আবৃত্তি দিয়ে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা শুরু করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল লেইছ মুন্সী। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’কে নিয়ে স্মরণীয় ফেব্রুয়ারী মাসে, ব্রাডি আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কুলাউড়া সমিতির বিশেষ অনুষ্ঠান। সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আপনাদের উপস্থিতি, শুধু যে আমাদেরকে ঋণী করেছেন তা নয়, বরং আমাদেরে ধন্য করেছেন, সম্মানিত করেছেন, উজ্জ্বীবিত করেছেন, শক্তি যুগিয়েছেন।’ সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তফা আব্দুল মালিক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘পৃথিবীর যেখানেই থাকিনা কেন? হাজার বছরের কৃষ্টি পরিচয়, আমরা বাঙালি। কারন এ জাতি রক্ত দিয়ে, ভাষা ও স্বাধীনতা অর্জন করেছে ।’ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রজন্মের জন্য সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে আজ যে যাত্রাপথ নির্মাণ হবে, সেটা একদিন হয়ত মহাসড়কে পরিণত হতে পারে। এ স্বপড়ব দেখানোর দায়িত্ব কারও একার নয়, এ দায়িত্ব সকল বাঙালির।’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৯ পালনে বিশেষ পর্বটি যুক্তরাজ্যে বিশিষ্ট মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব উর্মী মাযহারের পরিচালনায়, মঞ্চে ব্রিটেনে জন্ম ও বেড়ে উঠা শিশু-কিশোরদের সমন্বয়ে ভাষা সংগীত পরিবেশনা ও কবিতা আবৃত্তিতে অংশ নেন ব্রিটেনের গুণী শিল্পী মিতা তাহের, বিপ্লব, রাসেল, স্মৃতি আজাদ, সালাউদ্দিন শাহীনসহ শিশু কিশোর শিল্পী মৃদুল, মহিমা, মাহি, মোহনা, রাফা, জারিন, আফসারা প্রমুখ। শুরুতেই মোমবাতির প্রদীপ জ্বালিয়ে আব্দুল গাফফার চৌধুরী রচিত একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি……….। ’ সম্মিলিত কন্ঠে গেয়ে গেয়ে সকলে প্রবেশ করেন মঞ্চে। তারপর প্রদীপ হাতে নিয়ে গেয়ে উঠেন রবীন্দ্রনাথের ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ.. ’। ধাপে ধাপে আবৃত্তি ও গানে মুখরিত হয়ে উঠে ব্রাডি আর্টস সেন্টার থিয়েটার মঞ্চ। হৃদয় আবেগের বন্যা ঢেউ খেলে খেলে শিহরিত হতে থাকে পশমে পশম। যেন থামতেই চায় না হিল্লোলিত দেশপ্রেমিক মন। সবশেষে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাউন্ডসহ গোটা পরিবেশনায় বাদ্যযন্ত্র শিল্পী ছিলেন তন্ময় ও সঙ্গীরা। শিল্পীদের গানে ও কবিতায় অনুষ্ঠানের শ্রোতাগণের মুগ্ধ মনে যে দেশপ্রেম বীনার সুর বেজে উঠে, তা বারংবার দর্শক করোতালিতে প্রশংসিত করেন। কুলাউড়ার সন্তান হিসেবে বক্তব্য রাখেন জসিম উদ্দিন চৌধুরী, শাহীন আহমদ চৌধুরী, কবি-লেখক ও অভিনেতা গোলাম কবির, কমিউনিটি নেতা আলহাজ্ব আব্দুল মুনিম, শাহ নূর খান, প্রকৌশলী মোহী উদ্দীন চৌধুরী রুজেল, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠক মোহাম্মদ আজিজ বলেন, ‘ এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে আমরা যতনা গর্বিত, তার চেয়ে বেশী সাফল্যের অংশীদার আপনারা। আর যদি কোথাও ব্যর্থতা ঘটে থাকে, তা শুধু অবনত মস্তকে বলব আমার ।’ যুক্তরাজ্যে বিশিষ্ট সংস্কৃতি কর্মী ও নাট্যাভিনেতা ড. আনোয়ারুল হক বিশিষ্ট বক্তব্য শেষে শুনালেন একটি ‘আবৃত্তি’, যা সাংস্কৃতিক পর্ব মঞ্চায়ন হবার পরও আবৃত্তি শিল্পীর কন্ঠস্বর ঝংকৃত হল’। বাংলা প্রিন্ট গণমাধ্যমের বিশিষ্ট সাংবাদিক বেলাল আহমদ বলেন, ‘সাংস্কৃতিক সেবকদের মর্যাদা যথাযথ প্রদান হয় না অনুষ্ঠানের আঙ্গীনায়। কুলাউড়া সমিতি ইউকে কে ধন্যবাদ জানাই এ জন্য যে, উনারা সনাতন সূচীপদ্ধতি বর্জন করে আধুনিক চিন্তা ও চেতনায় সংস্কৃতি সেবাকে গুরুত্ব দিয়ে অনুষ্ঠান সাজিয়েছেন, যা দেখে ও শুনে বলতে হয়, আনেক দিন থেকে যে অনুষ্ঠানের কথা চিন্তায় আসত তা কুলাউড়া সমিতি ইউকে মঞ্চে আয়োজন করে দেখালেন। চমৎকার!’ টাওয়ার হ্যামলেটস বারা কাউন্সিলের, আহবাব হোসেন বক্তব্যে বলেন, “ ভাষার শহীদদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ‘ত্রিশ লক্ষ’ বাঙালিদের মতো এতো ‘মানব সন্তান’ রক্ত দিয়ে পৃথিবীতে অন্য কোন জাতি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেনি। আমাদের রক্ত বৃা থেতে পারে না। দৃঢ় শপথ নিয়েই বলি-এই ব্রিটেনে, বাঙালী সংস্কৃতি বিকাশের জন্য, শিক্ষার প্রসারেও কাজ করে যাব নব উদ্যমে, সত্যের সন্ধানে।’ টাওয়ারা হ্যামলেটস বারা, ডেপুটি মেয়র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন কিশোর। তিনির পিতা লন্ডন প্রবাসী। প্রতিটি দিন, সপ্তাহ, মাস। মাসের পর মাস, যে আতংক ও ভয়ের মধ্যে ছিলেন। সে সব বর্ণনা করে করে বক্তব্যে চলে আসে লন্ডনে টাওয়ার হ্যামলেটস বারায় বহু ভাষার কমিউনিটিতে ভাষা শিক্ষা বিকাশে সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থের বাজেট প্রসঙ্গ এবং তিনি বলেন, প্রসঙ্গে যে ‘জটিলতা’ আমার বারাতে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে, সেটা নিরসনের জন্য আমাদের সকল কাউন্সিলর নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’ লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘বাঙালি কারো দয়াতে বাংলা ভাষা পায়নি। রক্ত দিয়ে ঢাকার রাজপথ রাঙিয়ে রক্ষা করেছে মাতৃভাষা বাংলা।‘ এক সাগর রক্ত ‘ভাসিয়ে অর্জিত আমাদের বাংলাদেশ। এই বৃটেনে প্রিন্টিং ও টিভি মিডিয়া সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে আমাদের ঘামজল ও পরিশ্রমে।’ “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি…” ফেব্রুয়ারি

সর্বশেষ সংবাদ