May 25, 2020

শ্রীমঙ্গলে হাইল হাওরে সড়কের বেহাল অবস্থা

তোফায়েল পাপ্পু : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের  রুস্তমপুর গ্রাম হয়ে হাইল হাওরে যাওয়ার পথে তোতার ভাংতি নামক এলাকায় মাটির রাস্তায় বিশাল ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বিগত ১৫/২০ বছর ধরে এই রাস্তায় কোন সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান। এদিকে ভাঙ্গনের ফলে আশপাশের ১০/১২টি গ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে হাওরে আশা-যাওয়া করতে হয়। ফলে এ রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রুস্তমপুর গ্রাম থেকে হাইল হাওরের যাওয়ার জন্য প্রায় ২০ ফুট প্রশস্ত এই মাটির রাস্তাটি ২/৩ কিলোমিটার দুরে যাওয়ার পরে প্রায় ৫০ গজেরও বেশি জায়গা জুড়ে তোতার ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়। প্রচন্ড ঠান্ডার মাঝেও হাঁটু কাদাযুক্ত পানি ডিঙ্গিয়ে ভাঙ্গন পেরিয়ে কৃষকরা গবাদি পশু নিয়ে হাওরে যাওয়ার জন্য রাস্তা পারাপার করছে।

স্থানীয় সমাজসেবক ও সংস্কৃতিকর্মী সুবোধ সরকার ও রামকৃষ্ণ সরকার বলেন, ১৫/২০ বছর আগে পার্শবর্তী বিলাশ ছড়ার বিভিন্ন ভাঙ্গন দিয়ে ছড়ার গড়ান পানি গ্রামের ভেতরে প্রবেশ করে তৎসময়ের তোতা মিয়ার জমির পাশে হাওরের এই রাস্তায় ভাঙ্গন দেখা দেয় বলে ভাঙ্গনটির নাম হয় তোতার ভাঙ্গন বা তোতার ভাংতি। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই রাস্তাটির তেমন কোন উন্নয়ন বা সংস্কার হয়নি। মাঝখানে দুইবার গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে রাস্তাটির আংশিক মেরামত করা হলেও তা রক্ষা পায়নি। বছর বছরই বিলাস ছড়ার পানি গ্রামের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙ্গাটি এখন খুবই বড় আকার ধারণ করছে। ফলে হাওরের সাথে জীবিকানির্ভর জনযোগাযোগ ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।

ব্যবসায়ি পুলিন মল্লিক ও হেমেন্দ্র মল্লিক আকাশ বলেন, ইউনিয়নের রুস্তমপুর, আলিশারকুল, লইয়ারকুল, মাধবপাশা, সাতগাঁও, মতিগঞ্জসহ আশপাশের ১০/১২টি গ্রামের হাজার হাজার লোকজন প্রতিদিন ফসল, মৎস্যচাষ ও গরু চড়ানো, জ্বালানি সংগ্রহসহ অন্যান্য কাজে এই রাস্তা দিয়ে হাইল হাওরে আশা-যাওয়া করেন। কিন্তু ভাঙ্গার কারণে তাদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পুহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় শিক্ষক মনসুর আহমেদ ও কৃষক রফিক মিয়া বলেন, যতোই দিন যাচ্ছে ভাঙ্গনটি আরও বিপদজনক হয়ে উঠছে। বর্তমানে হাওর থেকে ফসল ঘরে তুলা তো দূরের কথা, পায়ে হেটে চলাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারা বলেন পার্শবর্তী রাখালতলী এলাকায় কোদালী ছড়ার উপরে একাটি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। তদ্রুপ তোতার ভাঙ্গণে যদি একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হয় তাহলে হাওরের সাথে যোগাযোগের এই রাস্তাটি রক্ষা করা যাবে এবং জনদুর্ভোগ লাগব হবে বলে ধারণা করেন তারা।

এ ব্যাপারে ভূনবীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. চেরাগ আলী বলেন, রাস্তাটি সংস্কার বা মেরামতের ব্যাপারে আমরা আন্তরিক। গত বছর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই রাস্তায় কোদালীছড়া ও তোতার ভাঙ্গনে দু’টি ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি ব্রীজের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে তোতার ভাঙ্গন এলাকায় ব্রীজ নির্মাণের কাজটি পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ