December 15, 2018

অবাধে চলছে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলওয়ের গাছ কর্তন!

কুলাউড়া প্রতিনিধি : কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলওয়ে সেকশনে রেল রাইনের পাশে লাগানো মূল্যবান গাছ একের পর এক কেটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। গাছচোর, রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা আর রেলওয়ে পুলিশের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠায় ক্রমেই বেড়ে চলেছে গাছ কর্তন। কর্তৃপক্ষ ও রেলওয়ে পুলিশ এ বিষয়ে দায়সারা জবাব দিচ্ছেন।
কুলাউড়া রেলওয়ের জংশন স্টেশনের পুরাতন জুনিয়র হাই স্কুলের পরিত্যাক্ত ভবনের সামনে থেকে একটি মূল্যবান কড়ই গাছ ২৯ নভেম্বর বুধবার কেটে নিয়েছে অজ্ঞাতরা। সরেজমিন গাছ কাটার সত্যতা মিললেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ বিষয়ে এখনো কিছু জানেন না বলে দায়সারা বক্তব্য দিয়েছেন।
বড়লেখার গাংকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রেলওয়ের ভুমি থেকে অবৈধভাবে কেটে নেয়া তিনটি গাছের অংশবিশেষ ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে জব্দ করেছে কুলাউড়া রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি)। অভিযোগ উঠেছে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক উত্তর গাংকুল গ্রামের আশিক আহমদের নিকট গাছগুলো ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তবে স্কুলের সভাপতি সায়দুর রহমান সাইদুল ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম গাছ বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২৯ অক্টোবর দক্ষিণভাগ থেকে রেলওয়ের জমি থেকে পুরাতন একটি মূল্যবান গাছ কেটে নেয় একটি সংঘবদ্ধচক্র। রেলওয়ে পুলিশ রহস্যময় কারণেই নিরব থাকে। এ চক্রের সাথে জড়িত রয়েছেন রেলওয়ের থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিষয়টি একাধিকবার জানানোর পরও গাছ কাটায় কোন বাঁধা কিংবা সংশ্লিষ্ট ঘটনায় কোন মামলা পর্যন্ত দেয়নি পুলিশ। সুত্র জানায়, রেলওয়ে থানার এসআই নাইম ও এসআই রাশেদুল দক্ষিণভাগ এলাকায় একটি দোকান সিলগালা করে দিলের পরবর্তীতে রহস্যময় কারনে দোকানটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। ১ নভেম্বর দক্ষিণভাগ থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রেলওয়ের জমি থেকে পুরাতন ৪টি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলে। এ নিয়ে বিষয়টি রফা-দফার জন্য সংঘবদ্ধচক্রের সাথে রেলওয়ে থানা পুলিশের ওসি আব্দুল মালিক, এসআই নাইম ও এসআই রাশেদুল একাধিকবার গোপনে বৈঠক করলেও রহস্যময় কারনে এখন পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতিপূর্বেও কুলাউড়া শাহবাজপুর রেললাইনের গেইটম্যানের ঘরের কাছ থেকে একটি গাছ, মনু রেলস্টেশন থেকে ২টি গাছ এবং টিলাগাঁও রেলস্টেশন থেকে একটি মূল্যবান গাছ কেটে কে বা কারা বিক্রি করেছে। ৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেলে কুলাউড়া রেলস্টেশন থেকে সিলেটমুখী রেললাইনের কুলাউড়া ভূমি অফিস রেলক্রসিং এলাকায় একটি পুরাতন ও মূল্যবান রেইনট্রি গাছ শ্রমিকদের কাটতে দেখা যায়। গাছটির আনুমানিক মুল্য ৫০ হাজার টাকার বেশি হবে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (আইডব্লিউ) মোঃ জুয়েল হোসাইনের নির্দেশে গাছগুলো কাটা হয়েছে।
রেলওয়ের গাছ রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কুলাউড়া রেলওয়ের উর্দ্ধতন প্রকৌশলী (আইডব্লিউ) মোঃ জুয়েল হোসাইন তাঁর উপর আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমি বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে আছি। লিখিত অনুমতি ছাড়া রেলওয়ের গাছ কর্তন সম্পূর্ণ বেআইনী, যে বা যারা গাছ কেটেছে তারা অবৈধভাবে কেটেছে।
কুলাউড়া রেলওয়ে থানা (জিআরপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মালিক শনিবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে জানান, রেলওয়ের গাছ চুরির বিষয়ে এখনো কোন মামলা হয়নি। তবে দু’টি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ