December 15, 2018

ব্রেক্সিট ভাইরাসে আক্রান্ত ইউরোপ

রায়হান আহমেদ তপাদার : ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে কোনও মতেই ঐকমত্যে পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না। এ বার সেই চুক্তি আলোচনা আটকেছে আইরিশ।আইরিশ সীমান্ত ঘিরে ব্রেক্সিট জট ব্রিটেনে: এ বার সেই চুক্তি আলোচনা আটকেছে আইরিশ সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যায়। ব্রেক্সিট সচিব ডোমিনিক র‍্যাব রবিবার আচমকাই ব্রাসেলস পৌঁছন। তা দেখে মনে করা হয়েছিল, আয়ারল্যান্ড সীমান্ত নিয়ে নিশ্চয়ই কোনও সমাধানসূত্র মিলতে চলেছে। কিন্তু পরে জানা গেল, কোনও সমাধানসূত্র তো মেলেনি, উল্টে আইরিশ সীমান্ত নিয়ে ব্যাক-আপ প্ল্যানও সে ভাবে স্থির হল না।ব্রেক্সিট চুক্তি স্থির হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কাঁটা এই আয়ারল্যান্ডের সীমান্ত সমস্যা। ২০১৯-এর মার্চে ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ব্রিটেনের। বেরিয়ে যাওয়া অর্থাৎ ব্রেক্সিটের অর্থ ইইউ-র একক বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়ন থেকেও বেরিয়ে যাবে ব্রিটেন। অর্থাৎ ইইউভুক্ত দেশগুলির মধ্যে করবিহীন যে অবাধ বাণিজ্য চলে, তা ব্রিটেনের ক্ষেত্রে আর কার্যকর হবে না। কিন্তু ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার অর্থ উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে দিয়ে যাবে সীমান্ত। সেই সীমান্ত ঘিরেই সমস্যা। ব্রিটেন বা ইইউ-কেউই চায় না এই সীমান্তের ব্যাপারে কড়া অবস্থান নেওয়া হোক। অর্থাৎ উত্তর আয়ারল্যান্ড থেকে আয়ারল্যান্ডে আসতে কড়া তল্লাশি বা নিয়মকানুন চায় না কোনও পক্ষই। কিন্তু ব্রেক্সিট আক্ষরিক অর্থে কার্যকর করতে গেলে এই কড়া নিয়মকানুন বলবৎ করতেই হবে। সেক্ষেত্রে ‘হার্ড বর্ডার’ বলবৎ না করে কী ভাবে ব্রেক্সিট কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে কোনও সমাধানসূত্রে পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে ব্যাকস্টপ হিসেবে একটা প্রস্তাব দিয়েছিল ইইউ।  কিন্তু ব্রিটেন একক বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেলেও উত্তর আয়ারল্যান্ড সেই একক বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়নের অংশ থাকুক। সেক্ষেত্রে সীমান্তে তল্লাশি বা কোনও নিয়মনীতির ব্যাপার থাকবে না। কিন্তু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এই প্রস্তাবে রাজি নন। তাঁর দাবি, এই নিয়ম বলবৎ হলে ব্রিটেনের ঐক্য নষ্ট হবে। তাঁর প্রস্তাব, শুধু উত্তর আয়ারল্যান্ড নয়, পুরো ব্রিটেনই কিছু সময়ের জন্য ইইউ-র একক বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়নের অংশ থাকুক। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর উত্তর আয়ারল্যান্ড-সহ পুরো ব্রিটেন ইইউ-র একক বাজার ও কাস্টমস ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু ইইউ এই প্রস্তাবকে ব্যাকস্টপ হিসেবে মানতে নারাজ। ফলে, জট জারি।এ দিকে দলে কট্টর ব্রেক্সিটপন্থীদের তোপের মুখে পড়ছেন মে। চাপে পড়েই চলতি সপ্তাহে ব্রেক্সিট নিয়ে একটা বৈঠক ডেকেছেন তিনি। তাতে কোনও সমাধানসূত্র আদৌ মিলবে কি না, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রিটেনের সংসদ। খসড়া চুক্তির বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছেন ব্রেক্সিট মন্ত্রী ডমিনিক রাবসহ কয়েকজন ব্রিটিশমন্ত্রী। ব্রেক্সিট মন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেন,খসড়া চুক্তিতে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। তার অভিযোগ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্রিটেনকে ব্লাকমেইল’ করছে এবং সবার উচিত চুক্তিহীন ব্রেক্সিট’র জন্য প্রস্তুত হওয়া।পদত্যাগী মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন পেনশন মন্ত্রী ইস্থার ম্যাকভেই এবং জুনিয়র ব্রেক্সিটমন্ত্রী সুয়েল্লা ভেরম্যানও। এর আগে থেরেসা মে ঘোষণা দেন প্রস্তাবিত ব্রেক্সিট চুক্তির জন্য মন্ত্রিসভার সমর্থন তিনি পেয়েছেন। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেন ব্রেক্সিটমন্ত্রী।সবশেষ হাউস অব কমন্সে বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি সংসদ সদস্যদের বলেন,এটি কোন চূড়ান্ত বিষয় নয়। তবে এ খসড়াই ব্রিটেনকে ব্রেক্সিটের আরও কাছে নিয়ে যাবে।ব্রেক্সিট মন্ত্রীর পদত্যাগ, চাপের মুখে মে ব্রেক্সিট নিয়ে নাজেহাল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে আবার মন্ত্রিসভার এক সদস্যকে হারালেন৷ প্রধানমন্ত্রীর নীতির বিরোধিতা করে ব্রেক্সিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডেভিস ডেভিস পদত্যাগ করেছেন৷ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে’র দুশ্চিন্তার শেষ নেই৷ আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছেদ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য চাপ বাড়ছে৷ কিন্তু নিজের মন্ত্রিসভায় চরম বিভাজনের কারণে তার রূপরেখা এখনো স্পষ্ট হয়নি৷ তিনি মন্ত্রীদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ঐকমত্য দেখাতে ব্রেক্সিট নিয়ে সরকারের অবস্থান জানিয়েছিলেন৷ ব্রেক্সিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডেভিস ডেভিস সেই নীতির বিরোধিতা করে আচমকা পদত্যাগ করায় সরকার আবার সংকটের মুখে পড়েছিল।পদত্যাগপত্রে ডেভিস প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে লেখেন, এর ফলে ইইউ’র সঙ্গে আলোচনায় ব্রিটেনের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে৷ ডেভিসের সঙ্গে সম্ভবত তাঁর মন্ত্রণালয়ের আরও দুই মন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তাও পদত্যাগ করেছেন৷ আগামী কয়েক দিনে আরও মন্ত্রীর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়ে গেছে৷ব্রেক্সিট ইস্যুতে আরও এক ব্রিটিশ মন্ত্রী জো জনসন পদত্যাগ করেছেন।তিনি থেরেসা মে সরকারের পরিবহনমন্ত্রী ছিলেন।  এক টুইট বার্তায় নিজের পদত্যাগের কথা জানিয়ে জনসন বলেন,অনেক দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমি সরকার থেকে পদত্যাগ করছি। টুইটারে ব্রেক্সিট ইস্যুতে আরেক দফা গণভোটের জন্য প্রচারণা চালানোর কথা জানান তিনি।থেরেসা মের ব্রেক্সিট সিদ্ধান্তকে ভয়াবহ ভুল বল অবহিত করেন জো জনসন। যুক্তরাজ্যের সদ্য বিদায়ী এই মন্ত্রী বলেন,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সংকটে আছে যুক্তরাজ্য। সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসনের ভাই জো জনসন। এ বছরের জুলাইয়ে একই ইস্যুতে পদত্যাগ করেছিলেন বরিস জনসন।মন্ত্রিসভায় কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিরা প্রধানমন্ত্রী মে’র ‘নরমপন্থি’ নীতি মেনে নিতে পারছেন না৷ইইউ থেকে বিদায় নেবার পরেও সেই রাষ্ট্রজোটের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখতে চান মে৷ যদিও শুধু পণ্যের ক্ষেত্রে মুক্ত বাণিজ্যের সম্পর্কের প্রস্তাব ইইউ মেনে নেবে কিনা, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে৷ ইইউ’র ব্রেক্সিট সংক্রান্ত মধ্যস্থতাকারী মিশেল বার্নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন৷ ইইউ নীতিগতভাবে এমন বিচ্ছিন্ন সম্পর্কের বিরোধী৷ শুরু থেকেই তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে,পণ্য,পরিষেবা, শ্রমিক ও মূলধনের অবাধ চলাচল ছাড়া এ ধরনের সম্পর্ক সম্ভব নয়৷ উল্লেখ্য, নরওয়ে বা সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ইইউ’র এমন সম্পর্ক রয়েছে৷ অন্যদিকে মন্ত্রিসভায় কট্টরপন্থিরা ইইউ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জোটের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করার পক্ষে৷ এমন প্রেক্ষাপটে একাধিক ব্রেক্সিটপন্থি নেতা ডেভিসের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছেন৷ নতুন এই সংকটের ফলে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়লো।এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷  শেষ পর্যন্ত ইইউ’র সঙ্গে কোনো চুক্তি সম্ভব হলেও তিনি ব্রিটেনের সংসদে তা অনুমোদন করাতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে৷ সোমবারই তাঁর সংসদে সরকারের ব্রেক্সিট সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য রাখার কথা৷ রক্ষণশীল দলের মধ্যে বিদ্রোহের ফলে তাঁকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হবে, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷ মে যেভাবে কর্তৃত্ব হারিয়ে চলেছেন, তার ফলে ঘরে-বাইরে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা বেড়ে চলেছে৷ বিরোধী লেবার পার্টিও তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করছে।ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি ছাড়া বের হয়ে এলে নানা ধরনের মূল্য দিতে হবে ব্রিটেনকে৷ ইইউ দেশগুলো থেকে বিদ্যমান আইন মেনে শুক্রাণু আমাদানি করে থাকে দেশটি৷ তাই চুক্তি না হলে এক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে৷ ব্রিটেনে অনেক দম্পতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান জন্ম দিতে অপরাগ৷ তাই কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হয় তাঁদের৷ এজন্য অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় শুক্রাণুর৷ চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,গত বছর ডেনমার্কের একটি বাণিজ্যিক স্পার্ম ব্যাঙ্ক থেকে ৩ হাজার শুক্রাণু আমদানি করেছিল ব্রিটেন৷ এছাড়া একই বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪ হাজার স্যাম্পল আমদানি করেছিল৷ বিশ্বের বৃহত্তম স্পার্ম ব্যাংকটি ডেনমার্কে, নাম ক্রাইওস৷ গত ১৮ অক্টোবরের বৈঠককেই ব্রেক্সিট নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর শেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে৷ ব্রেক্সিট চুক্তি হয়ে গেলে আগামী বছর ১ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে৷ চুক্তি হলে তা বাস্তবায়নের আগে ইইউ পার্লামেন্টের পাশাপাশি সব সদস্য দেশের পার্লামেন্ট ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তার অনুসমর্থন হতে হবে৷ ব্রেক্সিট নিয়ে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হচ্ছে যুক্তরাজ্যের অংশ হয়ে থাকা নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার সীমান্ত কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেমন হবে৷এদিকে চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের বিষয়ে ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের সরকার। দেশটির ব্রেক্সিট-বিষয়ক মন্ত্রী ডোমিনিক রাব এক বক্তৃতায় চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিটের সম্ভাব্য সমস্যা গুলোর তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে তিনি ওই সব সমস্যা মোকাবিলায় সম্ভাব্য প্রস্তুতির বিষয়েও পরামর্শ দেন।দিকনির্দেশ না মূলক ২৫টি আলাদা দলিল প্রকাশ করে মন্ত্রী ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, গবেষকসহ বিভিন্ন খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্ভাব্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। ডোমিনিক রাব বলেন, কল্যাণকর একটি চুক্তিই সরকারের প্রত্যাশা। তবে উভয় পক্ষ চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে স্বল্প মেয়াদে যে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, সেসব বিষয়ে প্রস্তুতি রাখার জন্য সরকার এসব নির্দেশিকা প্রকাশ করছে।২০১৯ সালের ২৯ মার্চ ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা। ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও অন্যান্য সম্পর্ক নিয়ে চুক্তি সম্পাদনে ব্যর্থ হলে ইইউ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে পণ্য ও সেবার স্বাভাবিক আদান-প্রদান ব্যাহত হবে। এ বিষয়ে সম্ভাব্য প্রস্তুতির বিষয়ে নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গুলোর জন্য করণীয় বাতলে দিয়েছে সরকার। এতে বলা হয়েছে, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট হলে ইইউভুক্ত দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে পণ্যের ঘোষণা দিতে হবে,সম্ভাব্য আমদানি বা রপ্তানি শুল্ক দিতে হতে পারে।  বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে যুক্তরাজ্যের কৃষি খাত। ইইউর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের কৃষি পণ্যের আদান-প্রদান হয়ে থাকে। ইইউর অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ এসব পণ্যের মান নির্ধারণ করে। ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যকে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে। ওই কর্তৃপক্ষকে আবার ইইউর স্বীকৃতি পেতে হবে। অন্যথায় ব্রিটিশ পণ্য ইইউর দেশগুলোতে বিক্রি অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,প্রায় এক মাস আগ থেকেই ইইউর সদস্য দেশগুলোর জন্য চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে।যুক্তরাজ্যের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে তারা কিছু নির্দেশনা প্রকাশ করে। ইইউ বলছে, ‍যুক্তরাজ্য যেসব সম্ভাব্য সমস্যা ও প্রস্তুতির কথা বলছে, সেগুলো ব্রেক্সিটের অবধারিত প্রভাব।সদস্য দেশগুলোকে পাঠানো ইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যকে সদস্যবহির্ভূত দেশ হিসেবে (থার্ড কান্ট্রি) বিবেচনা করতে আইনগতভাবে বাধ্য ইইউ। ফলে যুক্তরাজ্যের জন্য ইইউ আইনের কোনো শিথিলতা প্রদান আইনি কারণেই সম্ভব হবে না।

লেখক ও কলামিস্টraihan567@yahoo.com

সর্বশেষ সংবাদ