December 10, 2018

বাঙালির গৌরবের মাস, গর্বের মাস

রায়হান আহমেদ তপাদার : আজ ১লা ডিসেম্বর। বাঙ্গালির গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ের মাসের শুরু। এবার ১৬ ডিসেম্বরে পালিত হবে স্বাধীনতার ৪৮ তম বছর। ১৯৭১ সালের এই ডিসেম্বর বাঙ্গালি জাতির জীবনে নিয়ে এসেছিল মহান এক অর্জনের আনন্দ। সেই আনন্দ স্বাধীন হওয়ার, সেই আনন্দ বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের নামে মানচিত্র বরাদ্ধ করার। তাই ডিসেম্বর আমাদের বাঙালি জাতির জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মাস। হাজার বছরে বাঙালির জীবনে এই ডিসেম্বর যেমনি বীরত্বপূর্ণ তেমনি গুরুত্বপূর্ণ।১৯৭১ সালে ৭ মার্চে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে দেশ  স্বাধীন করার যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল বাঙ্গালি। সেই যুদ্ধের সমাপ্তি আসে ডিসেম্বরে। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবের দিন আজ। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগে সাধারণের অসাধারণ শৌর্য-ত্যাগ ও সংগ্রাম এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে একাত্তরের এ দিনে শত্রুমুক্ত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ।নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে সূচিত হয় বাংলাদেশের বিজয়। পরাজিত হানাদার পাকিস্তানিরা আত্মসমর্পণ করে। এমন বিজয়ের অনন্য ইতিহাস আর কোনো জাতির নেই। সেই অর্জনের ৪৬ বছর কেটে গেছে কালপ্রবাহে। প্রতিটি বিজয় দিবস মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবোধে উদ্দীপ্ত করে দেশবাসীকে, শাণিত করে অনন্ত দেশপ্রেম।পদ্মা-মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, সুরমা-কুশিয়ারা-কর্ণফুলীবাহিত আমাদের বাংলা ব-দ্বীপ তথা বাংলা-বাঙালি-বাংলাদেশের ইতিহাস যদি হয় হাজার বছরের, তবে সেই ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় দিন ১৬ ডিসেম্বর। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দেশকে শত্রুমুক্ত করার মহান বিজয় দিবস। বাঙালির এই জনপদ কখনো মুঘল, কখনো পাঠান, কখনো ব্রিটিশ, কখনো পাঞ্জাব-পাকিস্তানিদের শাসনাধীন ছিল। কখনো ঔপনিবেশিকতার নিগড়, কখনো ধর্মভিত্তিক দ্বিজাতিতত্ত্বের করাল আগ্রাসন। তবে সব ছাপিয়ে প্রথমে ভাষার দাবিতে তারপর স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার আন্দোলন ও সবশেষে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে চূড়ান্ত মুক্তির সংগ্রামে স্বাধীনতার ঘোষণা আর মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্ত ঢেলে দিয়ে বীর বাঙালির বিজয়।স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ করে দেশ শত্রুমুক্ত করার গৌরব কিন্তু খুব কম জাতিরই আছে। তাই নয় মাস সশস্ত্র যুদ্ধের পর বিজয়ের ১৬ ডিসেম্বর অনন্য। বিশ্বের বুকে এক নতুন ইতিহাস।কিন্তু একদিকে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বীরত্ম-আত্মত্যাগ এবং হানাদার পাকিস্তানি ও রাজাকার-আলবদরদের গণহত্যা, ধর্ষণ-নির্যাতন, নিপীড়ন নিয়ে তথ্য বিভ্রাট এখনো কাটেনি যার কোনোটাই ইতিহাস সমর্থন করে না জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।তাই বাংলাদেশের যুদ্ধজয়ের-বার্ষিকীতে এ প্রজন্মের দায়িত্ব অনেক। পার্থক্য যেমন জানতে হবে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের, তেমনি স্বাধীনতার ডাক দিয়ে একাত্তরের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের বিশ্বস্বীকৃতির তাৎপর্য বুঝতে হবে তাদের জানান তিনি।স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীরপ্রতীক লে.ক. কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (অব.) বলেন, ৪৬ বছরে বাংলাদেশ বহুদূর এগিয়েছে। এখন ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি প্রতিক্রিয়াশীলতা, উগ্র মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদকে পরাস্ত করতে সহায় নিতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই।বিজয় দিবস বা ভিক্টরি ডে বলতে আমরা কি বুঝি? মূলত সাধারণ দিনগুলির মধ্য থেকে এটি কোনো এক বিশেষ দিনের অসাধারণ একটি নাম।  অনেক দেশের অনেক জাতীয় ছুটির দিন আছে বিভিন্ন কারণ, বৈশিষ্ট্য বা তাৎপর্য অনুযায়ী। সেই উপলক্ষ ও তাৎপর্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে আলাদা হতে পারে। কিন্তু ভিক্টরি ডের তাৎপর্য সব দেশে একই। জাতীয় এই ছুটির দিনে দল-মত নির্বিশেষে সমগ্র জাতি এক হয়ে জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে জয়লাভের স্মৃতিচারণ করে। একদিকে যেমন গৌরবে তাদের বুক ফুলে ওঠে, উল্লাসে ফেটে পড়ে, অন্যদিকে দেশের এই গৌরব এনে দিতে যারা প্রাণদান করেছেন, তাদের স্মৃতিচারণ করেন এবং অংশগ্রহণকারী যারা সেই গৌরবের যুদ্ধের পর এখনো বেঁচে আছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস সমাগত ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। বাঙালি জাতির জন্য দিনটি পরম গর্বের, বিশেষ করে বাংলাদেশিদের জন্য। এ দিনটি পৃথিবীর মানচিত্রে একটা নতুন সার্বভৌম দেশের নাম চিরকালের জন্য জন্য এঁকে দিয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ নয় মাস ধরে স্বাধীনতার জন্য নিবেদিত প্রায় ৩০ লাখ বাঙালির প্রাণ ও দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত বিসর্জনের বিনিময়ে এই মুক্তিপথ অর্জিত হয়েছে।বিজয় দিবস বা ভিক্টরি ডের ইতিহাসটা কিন্তু বেশি দিনের নয়। সংক্ষেপে একটু ঘুরে ফিরে দেখা যাক। ১৯৪৫ সালের ২ মে ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। পর্যুদস্ত জার্মান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ চুক্তিতে সই করে ৪ ও ৫ মে তারিখে। কিন্তু বাস্তবে সরকারিভাবে যুদ্ধ শেষ হয় ৮ মে মধ্যরাতে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণীয় করে ধরে রাখার জন্য রাশিয়ানরা ঠিক পরের মুহূর্ত, অর্থাৎ ৯ ইং মে তারিখটাকে বিজয় দিবস বা ভিক্টরি ডে নাম দিয়ে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে উদ্‌যাপন করা শুরু করে।  নাৎসি জার্মানি যখন রাশিয়া বা তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে আক্রমণ করে, রাশিয়ার সেনারা চতুর রণকৌশলে জার্মান সেনাবাহিনীকে বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়ে পিছু হঠতে বাধ্য করে। ঠেলতে ঠেলতে তাদের বার্লিন পর্যন্ত তাড়া করে নিয়ে আসে। যুদ্ধ তখন রাশিয়ার মাটিতে না হয়ে আক্রমণকারী জার্মানদের নিজেদের মাটিতেই হয়। যুদ্ধে হিটলার বাহিনীর পরাজয় ঘটে।কিন্তু ঠিক জয়ের উৎসব হিসেবে নয়, ভিক্টরি ডে উদ্‌যাপনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো, যারা যুদ্ধে মারা গেছেন তাদের সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা। দেশ রক্ষায় তাদের আত্মাহুতির জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। এই দিন যুদ্ধে মৃত সৈনিকদের কবরে ফুল দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে এখনো যারা বেঁচে আছেন, তারা সেদিন তাদের অর্জিত তকমা ও মেডেলগুলো ঝুলিয়ে মিলিটারি পোশাকে সজ্জিত হয়ে রাস্তায় রাস্তায় মিছিলে বের হন। রাশিয়া যুদ্ধে নেমেছিল মূলত আক্রমণকারীদের কাছ থেকে নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষার তাগিদে। সে জন্য তারা এই যুদ্ধটাকে দেশপ্রেমের যুদ্ধ মনে করেন। সে হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তাদের কাছে দেশপ্রেমের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন সদস্য সমরে যোগদান করেছিল। বার্ধক্যজনিত কারণে যারা যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে পারেননি, তাদের অস্ত্রশস্ত্র তৈরির কারখানায় কাজ করতে হয়েছিল। সেটা যুদ্ধে যাওয়ার চেয়ে নেহাত কম কষ্টকর ছিল না।আজকের রাশিয়ায় ভিক্টরি ডে সেলিব্রেশন শুরু হয় যুদ্ধফেরত জীবিত সৈনিকদের প্রতি সে দেশের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে অভিনন্দনের বাণীর পত্র দিয়ে। প্যারেড, ফুলের তোড়া, ভূরিভোজন ও উপহার বিতরণ ইত্যাদি দিনটি পালনের একটা অঙ্গ। প্রেসিডেন্টের অনুকরণে বড় ছোট সব অঞ্চলের প্রধানেরা নিজ নিজ এলাকায় অনুরূপ ব্যবস্থা নেন।  বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস পালনে এ বিষয়ে গভীর মিল আছে।গায়ে জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রঙের পোশাক। মুখে বিজয়ের দৃপ্ত স্লোগান। ২০১৫ সালে মহান বিজয় দিবসের প্রভাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল l বিজয় দিবসকে নানা দেশে একটু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ডাকলেও এর মানে বা তাৎপর্য মোটামুটি একই। মজার ব্যাপার হলো এই ভিক্টরি ডে সারা বছর ধরে চলতে থাকে। এমনকি একই মাসে কয়েকটি দেশে ভিক্টরি ডে প্রতিপালিত হয়। কয়েকটি নমুনা দেওয়া যাক। কম্বোডিয়া ৭ জানুয়ারি।অ্যাঙ্গোলা ২৭ মার্চ।ভিয়েতনাম ৭ মে। ইউরোপ ৮ মে।সোভিয়েত ইউনিয়ন ৯ মে।শ্রীলঙ্কা ১৮ মে। এস্তোনিয়া ২৩ জুন। ভারত ২৬ জুলাই।উত্তর কোরিয়া ২৭ জুলাই। লাওস ১ আগস্ট।ক্রোয়েশিয়া ৫ আগস্ট। তুরস্ক ৩০ আগস্ট।তাইওয়ান ৩ সেপ্টেম্বর।মোজাম্বিক ৭ সেপ্টেম্বর।মাল্টা ও পাকিস্তান ৮ সেপ্টেম্বর। ইতালি ৪ নভেম্বর।বাংলাদেশ ১৬ ডিসেম্বর।এ ছাড়া পৃথিবীর আরও কিছু দেশে অন্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেও ভিক্টরি ডে পালন করা হয়। মিশর ২৩ ডিসেম্বর ভিক্টরি ডে পালন করে তিন পরাশক্তির যৌথ আক্রমণ শেষ হওয়ার দিন হিসেবে। ১৯৪৫ সালে জার্মানির আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে রাশিয়া যেমন ৯ মে তারিখে অনুষ্ঠান করে, তেমন ফ্রান্সও এ উপলক্ষে ৮ মে ভিক্টরি ডে পালন করে। আমেরিকার হাওয়াই ও রোড আইল্যান্ড স্টেটে আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সোমবার ভিক্টরি ডে, বিশেষ করে ভিক্টরি ওভার জাপান ডে হিসেবে প্রতিপালিত হয়। এক সময় দিনটাকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হতো। পরে দিনটিকে জাতীয় ছুটির দিনের তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তার কারণ যুদ্ধটাকে যেভাবে শেষ করানো হয়েছে-১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট নাগাসাকির ওপর অ্যাটম বোমা ফেলে, তার স্মৃতিচারণ মোটেও উল্লাস করার মতো কোনো ব্যাপার নয়।  দীর্ঘ নয় মাসের রক্তসাগর পেরিয়ে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালীর প্রতিরোধ যুদ্ধ এ মাসেই বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়। আর ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানিদের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সূচিত হয় বিজয়।আর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও তাদের শৌর্যবীর্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১ ডিসেম্বরকে পালন করা হয় মুক্তিযোদ্ধা দিবস’ হিসেবে। ১৯৭১ সালে ডিসেম্বর মাসটি ছিল ঘর ছেড়ে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়া বীরযোদ্ধাদের সদর্পে গৃহে প্রত্যাবর্তনের মাস। মুক্তিপাগল বাঙালি এ মাসেই পান তাদের চির প্রতীক্ষিত চূড়ান্ত বিজয়।এ মাসের শুরু থেকেই ধীরে ধীরে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে কোণঠাসা করতে শুরু করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। নিশ্চিত পরাজয় টের পেয়ে এ জাতি যেন কখনোই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতো না পারে সেজন্য ১৪ ডিসেম্বর হানাদারদের এদেশীয় দোসররা নির্বিচারে হত্যা করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের। এই মাস আমাদের শোক আর বেদনারও স্মৃতি বহন করে। তাই ডিসেম্বর শুধু বিজয়ের আনন্দে ভেসে যাওয়ার দিন নয়, এই মাস অনেক বেদনা আর শোকের স্মৃতিরও। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এ মাসেই বিজয় অর্জিত হয় বাঙালির। ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্সের মাঠে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও বর্নাঢ্য আয়োজনে পালিত হবে বিজয়ের মাসের প্রতিটি বিশেষ দিবস। সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে থাকবে নানা কর্মসূচি। প্রাণের গভীর থেকে সারা মাসজুড়েই ঘরে ঘরে বাজবে আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। ডিসেম্বর হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশপ্রেমে অনুপ্রাণীত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্লাটফর্ম। সকল শহীদ এবং গাজী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক ও কলামিস্টraihan567@yahoo.com

 

সর্বশেষ সংবাদ