December 10, 2018

কুলাউড়ায় জালালীয়া মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন পুলিশী বাঁধায় পন্ড

বিশেষ প্রতিনিধি : কুলাউড়া উপজেলার জালালীয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আব্দুস শহিদ কর্তৃক ৯ম শ্রেণির ছাত্রীদের অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানীর প্রতিবাদে এবং ঘটনার স্ষ্ঠু বিচারের দাবীতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মানববন্ধন পুলিশী বাঁধায় পন্ড হয়েছে। ১০ নভেম্বর শনিবার সকালে মাদরাসা প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করলে পুলিশ মাদরাসা প্রাঙ্গনে গিয়ে মানববন্ধন পন্ড করে দেয়। মাদরাসার নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আলিম উদ্দিন, সাইদুল ইসলাম, সাব্বির আহমদ ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম, এমদাদুর রহমান রায়হান জানান, আমরা সকালে মাদরাসা প্রাঙ্গনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনের প্রস্তুতি শুরু করি। কিন্তু হঠাৎ করে পুলিশ এসে মানববন্ধন বন্ধ করে দেয়। কুলাউড়া থানার এসআই ইয়াছিন মিয়া বলেন, খবর পেয়ে আমরা মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে মানববন্ধন থেকে সরিয়ে দেই।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদি-উর রহিম জাদিদকে প্রধান করে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জালালীয়া দাখিল মাদরসার সুপার মাওলানা আব্দুস শহীদের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে প্রথমে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি, ইয়াকুব তাজুল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুর রউফ ও কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে ঘটনাটির সুষ্ঠু প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ প্রদান করেন নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রী ও তাঁর পিতা।
উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে“কুলাউড়ায় ছাত্রীদের যৌন নিপীড়ন, মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে ইউএনওর কাছে অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে কুলাউড়ায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। টনক নড়ে প্রশাসনের। প্রশাসনিক ভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদি-উর রহিম জাদিদকে প্রধান করে নতুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে মাদরাসা সুপারের লোকজনের অব্যাহত হুমকিতে অভিযোগকারী ওই ছাত্রীটি ১০ দিন থেকে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

কুলাউড়ায় মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে তদন্ত কমিটি

সর্বশেষ সংবাদ