December 10, 2018

সিলেটে চালু হলো দেশের তৃৃতীয় চিড়িয়াখানা

বিশ্বজিৎ রায় : নির্মাণের ছয় বছর পর অবশেষে ২ নভেম্বর শুক্রবার বিকেল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেট নগরীর টিলাগড়ে চালু হলো দেশের তৃতীয় চিড়িয়াখানা। নামমাত্র প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর আজ বিকেল থেকে টিকিটের মাধ্যমে দর্শনার্থী প্রবেশ শুরু হয়েছে ।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, লোকবলের অভাবে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পরও এখানে প্রাণী আনা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার ভোরে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে সিলেট চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা হয়
জেব্রা, হরিণসহ ৯ প্রজাতির ৫৮ টি প্রাণী। এরমধ্যে রয়েছে ২টি জেব্রা, ২টি হরিণ, ১২টি ময়ূর, ১টি গোল্ডেন ফিজেন্ট পাখি, ৩টি সিলভার ফিজেন্ট পাখি, ৩টি ম্যাকাও পাখি, ৪টি আফ্রিকান গ্রে পেরট, ৪টি সান কানিউর, ৩০টি ছোট লাভ বার্ড ও ১টি। আগামী সপ্তাহে আরও দুটি হরিণ আসবে। বাঘ নিয়ে আসা হবে ডিসেম্বরে।
সিলেট বিনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে পাহাড় টিলা বেস্টিত ও ঘন সবুজে আচ্ছাদিত নগরীর টিলাগড়ে এক কোটি ১৮ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা ব্যায়ে শুরু হয় ১১২ একর আয়তনের এই ইকোপার্ক তৈরির কাজ।
এরপর ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় সিলেটে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম চিড়িয়াখানা নির্মানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। চিড়িয়াখানা নির্মানের জন্য সে বছর আরও ৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটি সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তরকে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের কাজ শুরুর দিকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন প্রজাতির বণ্যপ্রাণী কেনা হয়। প্রায় ছয় বছর ধরে এগুলো গাজীপুরে সাফারি পার্কে ছিলো। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র পুরো প্রস্তুত না হওয়ায় এগুলো সিলেটে আনা যায় নি। এখন আনা শুরু হয়েছে এবং ক্রমান্নয়ে সবগুলো সিলেট চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা হবে।
সূত্র মতে, প্রকল্প মেয়াদকালেই টিলাগড় ইকোপার্কে প্রাণীদের জন্য ময়ুর শেড, গন্ডার শেড, হরিণ শেড, হাতি শেড সহ মোট ১১টি শেড নির্মাণ পাশাপাশি শেডে থাকা ও বিভিন্ন সময় উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীর জন্য পুণর্বাসন কেন্দ্র্র এবং হাসপাতালও নির্মাণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ