December 15, 2018

ক্রিকেট থেকে ঝরে পড়বে কি কুলাউড়ার রুমি?

মাহফুজ শাকিল: কুলাউড়ার একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার জামিলা আক্তার রুমি। অভাব অনটনের সংসারে বেড়ে উঠা রুমি কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়ের নর্তন গ্রামের সিএনজি চালক আব্দুল মন্নান ও গৃহিণী নুরুন নাহার এর মেয়ে। পরিবারের ৪ ভাই-বোনের মধ্যে রুমি ২য়। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় ছিল তার অনেক আগ্রহ। আর সে আগ্রহ থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসার সৃষ্টি হয়। রুমি ২০১৬ সালে কুলাউড়ার ব্লু-কিংস ক্রিকেট একাডেমি থেকে প্রফেশনাল ক্রিকেট খেলার যাত্রা শুরু করে। সে মৌলভীবাজার জেলা ও সিলেট বিভাগীয় বয়সভিত্তিক দলের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। পরবর্তীতে ঢাকার মিরপুরের মেট্্েরা ক্রিকেট একাডেমিতে ২ মাস কোচিং করেছিলো তার স্বপ্ন পূরণের জন্য। একপর্যায়ে সে ঢাকার ইন্দিরা রোড ক্রিকেট একাডেমির হয়ে ঢাকা ১ম বিভাগ লীগে সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলেছে। বর্তমানে রুমি নোয়াখালী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে জেলা কোচ স্বদেশ মজুমদারের অধীনে প্র্যাকটিস করতেছে। সম্ভাবনাময় উইকেট কিপার ও ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে রুমি প্রথমে মাস্টার শরাফাত আলী স্কুল ক্রিকেট টিমের মাধ্যমে সবার নজরে আসে। কুলাউড়ার নর্তন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শুরু করে একই ইউনিয়নের মাস্টার শরাফত আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে বর্তমানে লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজে মানবিক বিভাগে দ্বাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। মেয়ের ইচ্ছা পূরণ করতে মা-বাবা সবসময় ছিলেন তার পাশে। সাধ্যমতে যোগান দিয়ে গেছেন তার চাহিদার। কিন্তু বিধি বাম, পরিবারের পক্ষ থেকে রুমির কোচিং ফি ও নোয়াখালীতে থাকা খাওয়া বাবদ আট হাজার টাকা যোগান দেওয়ার এখন আর সম্ভব নয়। কারণ তার মা-বাবা দুজনই অসুস্থ এবং তাদের চিকিৎসার জন্যই এখন প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। বাবা ৫ বছর থেকে কিডনী রোগে আক্রান্ত। অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের মুখে দু-বেলা দু’মুটো অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য সিএনজি নিয়ে বের হন বাবা আব্দুল মন্নান। আর সিএনজি চালিয়ে যা রোজগার করেন সেখান থেকে মেয়েকে যোগান দেওয়া তো দূরের কথা পরিবার চালানোই দুঃসাধ্য। এ অবস্থায় সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া কুলাউড়ার এই মেধাবী ক্রিকেটার তার স্বপ্ন পূরণ থেকে কি ঝরে পরে যাবে? এ ব্যাপারে জামিলা আক্তার রুমি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি একদিন জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলে খেলবো। কিন্তু বর্তমানে আমার স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পারিবারিক দৈন্যতা। আমার নিজ উপজেলার দুই কৃতি সন্তান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি’র) পরিচালক একজন শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও অপরজন তানজিল চৌধুরী মহোদয় থাকা সত্বেও আমি জাতীয় ক্রিকেট দলে কি খেলার স্বপ্ন দেখতে পারিনা। দুই পরিচালকসহ কুলাউড়া বিত্তবানরা যদি আমাকে সহযোগিতা করেন তাহলে আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করে একদিন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলে খেলতে পারবো, এটা আমার বিশ্বাস। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবির) পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল (১৬ অক্টোবর) মঙ্গলবার বলেন, রুমির আগামী ২ মাসের খরচ আমি ও মেজর নুরুল মান্নান তারাজ ব্যবস্থা করবো। তাছাড়া বিসিবির অপর পরিচালক তানজীল চৌধুরীর সাথে আমার আলাপ হয়েছে। তিনিও রুমির পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেছেন। আর বিসিবি থেকে একজন করে সহযোগিতা করার কোন সুযোগ নেই। আমরা সকলেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাকে সহযোগিতা করবো।

সর্বশেষ সংবাদ