December 10, 2018

বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিট বিষয়ক চিত্র প্রদর্শনী ডাকটিকিটে দেখি আমার দেশ

মাহফুজ শাকিলঃ বিশ্ব ডাক দিবস ২০১৮ কে কেন্দ্র করে “ডাকটিকিটে দেখি আমার দেশ” শীর্ষক ডাকটিকিটের উপর চিত্র প্রদর্শনীর বর্ণাঢ্য শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শিশুদের নিয়ে বাংলাদেশে এই প্রথম ডাক বিষয়ক এই চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে মনসিজ আর্ট একাডেমী। এই একাডেমীর কর্ণধার শিল্পী সাদিয়া শারমিনের দীর্ঘ ৩ মাসের নিরলস পরিশ্রমের সফল বাস্তবায়ন ঘটেছে। গত ৯ অক্টোবর আলিয়াস ফ্রসেজ দো ঢাকার গ্যালারি জুমে বিশ্ব ডাক দিবস ২০১৮ কে কেন্দ্র করে মনসিজ আর্ট একাডেমী আয়োজিত “ডাকটিকিটে দেখি আমার দেশ” শীর্ষক দলীয় চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহা পরিচালক সুশান্ত কুমার মণ্ডল। বিশেষ ছিলেন শিল্পী ড. এস এম সাইফুল ইসলাম। প্রদর্শনীর এই অভিনব উদ্যোগকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিট নকশাকার বিমান চাঁদ মল্লিক। এছাড়াও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী ২৮ জন শিল্পী মূলত মনসিজ আর্ট একাডেমীর কর্ণধার শিল্পী সাদিয়া শারমিনের তত্ত্বাবধায়নে ২১ দিনের কর্মশালার মধ্য দিয়ে ৪৪ টি শিল্পকর্ম প্রদর্শন করেছে। এর মধ্যে ৩২টি শিল্পকর্ম অনুলিপি ও ১২টি কাজ তাদের নিজস্ব নক্সায় চিত্রিত। বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে ডাকটিকিটের উপর ভিত্তি করে এটাই সর্বপ্রথম ডাকটিকিট বিষয়ক চিত্র প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর উদ্বোধনীর সময়ে এই ২৮ জন শিশু শিল্পীর প্রত্যেককে সনদপত্র প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৩ টি বিভাগে মোট ৯ জন ও ১ জনকে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। ১৬ অক্টোবর এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিশু শিল্পীরা বাংলাদেশ পোস্ট অফিস (জিপিও) এর সংরক্ষিত জাদুঘর পরিদর্শন করেছে। উনিশ শতক হতে অধুনা, ডাকটিকিটে রয়েছে একটি বিস্তৃত এবং ঋদ্ধ ইতিহাস, যা যে কারও জন্য উপভোগ্য। বাংলাদেশ তার প্রথম ডাকটিকিটের প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন, ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই, যা বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পরিচায়ক। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত, শিল্পগুনাঙ্কিত স্মারক-ডাকটিকিট কিংবা সৌন্দর্য মণ্ডিত ও ঐতিহাসিক প্রথম কাভার, বাংলাদেশের ডাকটিকেট দেখেছে তার স্বর্ণযুগ। ২০১৭ সাল পর্যন্ত, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ৭৩২টি ডাকটিকিট ও ২৮ টি স্মারকপত্র প্রকাশ করেছে। যা কিনা মনসিজ আর্ট একাডেমীর শিশুদের ডাকটিকিটের ওপর চিত্রাঙ্কনের পিছনে প্রধানতম উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করেছে। ডাকটিকিটগুলো দেখে ও তার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের মত করে চিত্রশিল্পে তাদের তুলে ধরা; বাস্তবিকই শিশুরা বাংলাদেশকেই যেন এক নতুনতর কিন্তু চিরপরিচিত আঙ্গিকে অনুধাবন করেছে। তদুপরি, এই ইলেক্ট্রনিক-শাসিত যুগে, ডাকটিকিট সংগ্রহ তাদের কাছে যেন একটু প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। বাংলাদেশ ডাকবিভাগ এই প্রদর্শনী উপলক্ষে একটি বিশেষ খাম ও সীলমোহর উদ্বোধন করেছে। মনসিজ আর্ট একাডেমীর এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সহযোগিতায় ছিলেন ফিলাটেলিস্টস্ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিএবি) এবং পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন Acron (ব্র্যান্ড অফ পিডি লাইট)। প্রদর্শনীটি চলবে ১৮ই অক্টোবর ২০১৮ পর্যন্ত। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৯টা এবং শুক্রবার ও শনিবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা এবং বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত প্রদর্শনীটি খোলা থাকবে। রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

সর্বশেষ সংবাদ